প্রেয়সীর চেয়ে ফোন প্রিয় ভারতীয়দের

প্রেয়সীর চেয়ে ফোন প্রিয় ভারতীয়দের



হাল সময়ে নারী-পুরুষনির্বিশেষে স্মার্টফোনে আসক্ত। যাপিত জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন নিয়ে অনেকে নেতিবাচক কথাও শোনা যায়। তবে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য জানলে অনেকেই চমকে যেতে পারেন। প্রায় অর্ধেক ভারতীয় নাকি আপনজনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন তাঁর নিজের স্মার্টফোনকে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের জি নিউজ।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ (ভারতীয়), বিশেষত নতুন প্রজন্মের তরুণেরা ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে সংযোগ রেখে চলতে অনেক পছন্দ করেন। ভারতের ৪৭ শতাংশই প্রেমিক-প্রেমিকা বা মা-বাবার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন নিজের স্মার্টফোনকে। জন্মদাতা মা-বাবার সঙ্গে কথা না বলে পুরো একটি দিন কাটালেও নিজের হাল ফ্যাশনের স্মার্টফোন ছাড়া দিন কাটানো অনেকের পক্ষেই অসম্ভব ব্যাপার।

টেলি-কমিউনিকেশন সংস্থা মটোরোলা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ সমীক্ষাটি চালিয়েছে। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, মানুষ তাঁর নিজের জীবনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেক মানুষই জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পরপর নিজের অজান্তেই তাদের হাত চলে যায় ফোনে। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরও বেশি, প্রায় ৬৫ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ মানুষ স্বীকারও করেছেন, তাঁরা স্মার্টফোনের ‘নেশা’ ছাড়াতে পারছেন না।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া শতকরা ৫৩ জন স্মার্টফোনকে নিজের সেরা বন্ধু এবং অন্যতম প্রিয় সঙ্গী হিসেবে ভাবেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় দেশ ভারতে এ সংখ্যাটা আরও বেশি, প্রায় ৬৫ শতাংশ। ভারতের ৬৪ শতাংশ মানুষ আবার ফোন ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিত্য অভাবে ভুগছেন। ৭৭ শতাংশ ভারতীয় ফোন হারালে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
১৯৯০-২০০০ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের জেনারেশন-জেড হিসেবে আখ্যায়িত করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত স্মার্টফোনের ‘নেশা’য়। এ প্রবণতা তাঁরা ছাড়তে পারছেন না। ভারতে যার সংখ্যা প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৫৫ জন।

ওই সমীক্ষা বলছে, মানুষ ধীরে ধীরে তাঁর স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। মানুষ মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে। বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমে কমে গিয়ে ইন্টারনেট জগতে বিচরণ বাড়ছে। এ জগৎকেই আপন করে নিচ্ছেন সবাই।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে একটি ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেন এমন একটি সমীক্ষা চালাল? জবাবে মটোরোলা জানাচ্ছে, স্মার্টফোন দৈনন্দিন জীবনে অন্যতম অপরিহার্য, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যেকোনো সংস্থারই আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে যায়। আগামী প্রজন্ম স্মার্টফোন সিনড্রোমে ‘আক্রান্ত’ বা ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়লে ক্ষতি সবার। তাই সময় থাকতেই সতর্ক করার জন্যই মটোরোলা এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগে ফলাফল প্রকাশ্যে জানা গেল। এখন সাবধান, আপনি কীভাবে বা কবে হবেন, তা আপনার ওপর নির্ভর করে।

সামাজিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে বারবার বলছেন, ফোনগুলো ছেড়ে কিছুটা সময় শুধু আপনজনদের সঙ্গেই কাটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি কমাতে হবে। জীবন ও ফোনের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
 শীতের পর আসছে ঝড়-ঝঞ্ঝা

শীতের পর আসছে ঝড়-ঝঞ্ঝা


*ফেব্রুয়ারি মাসে শীতের বিদায়ের পরপরই বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টি বয়ে যাবে। এর সঙ্গে তাপমাত্রাও বাড়বে। 
* পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বদিকের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।

এই তো আর কয়েকটা সপ্তাহ, এরপরই শীত বিদায় নেবে। ফাগুনের আবাহনে পাততাড়ি গুটাবে মাঘ। চলতি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আসবে বসন্ত। শুরু হবে ধূলি ওড়ানো পাতাঝরা শুকনো দিন।
জানুয়ারিতে কী শীতটাই না পড়েছিল! টানা শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু জনজীবন। ৮ জানুয়ারি যখন উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় এই শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়, তা অর্ধশত বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। এ দিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র শীতের এই রেকর্ড ৫০ বছর ধরে রেখেছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। পাহাড়-টিলায় ঘেরা এই এলাকায় ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে এটিই ছিল বাংলাদেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। এর পর প্রতিবছর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও দেশের কোথাও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে নেই।
১০ জানুয়ারি তীব্র শৈত্য প্রবাহের মাত্রা কিছুটা কমে আসে। ১১ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১৪ দিন দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যায়। ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি ৪ দিন আবার দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যায়। এর সঙ্গে কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল সারা দেশ। বাতাসের নিম্নœস্তরে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকায় নদী অববাহিকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে এবারের জানুয়ারি মাসে গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক চেয়ে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে ছিল ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ গত ৩০ বছরের হিসাবে এই মাসের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এখনো দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কিন্তু হিমশীতল রূপে থাকছে না এই মাস। কারণ ১৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে বাংলার ঋতুরাজ বসন্ত। মানে সেদিনই হবে পয়লা ফাল্গুন। আর বসন্তে যেমন ফুল ফুটবে, গাছের পাতা ঝরবে, সঙ্গে তাপমাত্রাও বাড়তে থাকবে। এ কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দু-এক দিন শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে। কিন্তু শীতকাল বিদায় নিতে না নিতেই কেন এই ঝড় আর শিলাবৃষ্টি?
আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে দিনের ব্যাপ্তি কম থাকে। এই তারিখে রাত হয় দীর্ঘ। এর পরপরই সূর্যের অবস্থান বদলে দিন বড় হতে থাকে। সূর্যের কিরণের তেজ বাড়ে। এর সঙ্গে পশ্চিমা লঘুচাপ এবং পূর্বদিক থেকে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যেতে শুরু করে। পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বদিকের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। মার্চ মাসে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি পায়। তবে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে বজ্রঝড়-বৃষ্টির প্রাক-প্রস্তুতি দেখা যায়।
তাপমাত্রা অবশ্য কয়েক দিন ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সকালে যা ছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সকালে সেটি ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর আজ শুক্রবার সকালে ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুদিন রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতাও কমে আসতে পারে।
 শ্রীদেবীর অজানা খবর

শ্রীদেবীর অজানা খবর

শ্রীদেবী। ছবি: রয়টার্সশ্রীদেবী। ছবি: রয়টার্স 
শ্রীদেবীর আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াংগার আয়াপ্পাঁ।
• অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন শ্রীদেবী।
• ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন শ্রীদেবী।
ননদের ছেলে মোহিত মারওয়ারের বিয়েতে অংশ নিতে পরিবারসহ শ্রীদেবী উড়াল দিয়েছিলেন দুবাইয়ে। সপ্তাহব্যাপী বিয়ের নানা আয়োজনে হইহুল্লোড় করে কেটেছে শ্রীদেবীর। ইনস্টাগ্রামে দুদিন আগেও তিনি বিয়েতে তোলা নিজের আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করেছেন। হুট করেই বলিউডের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায় মেনে নিতে পারছে না বলিউড। প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুশোকে স্তব্ধ বিশ্বব্যাপী তাঁর অগণিত ভক্ত। এই অভিনেত্রীর সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য এখানে জানতে পারবেন, যা হয়তো অনেকেই আগে জানতেন না।
মা-বাবার সঙ্গে ছোট্ট শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুকমা-বাবার সঙ্গে ছোট্ট শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুক
* শ্রীদেবীর জন্ম ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের তামিলনাড়ুতে। তাঁর মায়ের নাম রাজেশ্বরী ইয়াংগার ও বাবার নাম আয়াপ্পাঁ ইয়াংগার। শ্রীদেবীর বাবা পেশায় ছিলেন আইনজীবী।
* শ্রীদেবীর আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াংগার আয়াপ্পাঁ।
* ১৯৬৯ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান শ্রীদেবী। ত্রিরুমুঘামের ভক্তিমূলক তামিল ছবি ‘তুনাইভান’ তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৭৫ সালে হিন্দি ছবি ‘জুলি’তেও তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন।
* নায়িকা হিসেবে বলিউডে শ্রীদেবীর প্রথম ছবি ‘ষোলা সাওয়ান’। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে।

শিশুশিল্পী হিসেবে কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুকশিশুশিল্পী হিসেবে কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুক* 

১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া শ্রীদেবীর জনপ্রিয় ছবি ‘চালবাজ’-এর ‘না জানে কাহা সে আয়ি হ্যায়’ গানটির শুটিংয়ের সময় শ্রীদেবীর গায়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর ছিল। জ্বর নিয়ে গানটির শুটিং শেষ করেন তিনি।
* অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন শ্রীদেবী। ‘সাদমা’ (১৯৮৩), ‘চাঁদনি’ (১৯৮৯) ও ‘গারাজনা’ (১৯৯১) ছবির গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন।
* শ্রীদেবী হলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক স্টিভেন স্পিলবার্গের জনপ্রিয় ছবি ‘জুরাসিক পার্ক’-এ (১৯৯৩) অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু বলিউডের কয়েকটি ছবি নিয়ে তখন ব্যস্ত থাকায় সেই ইংরেজি ছবিতে আর অভিনয় করা হয়নি তাঁর।
চলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরকে শ্রীদেবী বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। ছবি: ইনস্টাগ্রামচলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরকে শ্রীদেবী বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মাতৃভাষা তামিল হওয়ার হিন্দি ছবি করতে গিয়ে শুরুতে হিমশিম খেতে হয় শ্রীদেবীকে। তখন তাঁর বয়স খুব বেশি না। ভালো হিন্দিও বলতে পারতেন না। শ্রীদেবীর প্রথম দিকের সব ছবিতে তাঁর চরিত্রের ডাব করতেন প্রয়াত অভিনেত্রী নাজ। ১৯৮৬ সালের ছবি ‘আখেরি রাস্তা’তে শ্রীদেবীর হয়ে ডাব করেন নায়িকা রেখা। হিন্দি ছবিতে শ্রীদেবীর নিজের কণ্ঠে প্রথম ডাব করেন ‘চাঁদনি’তে।
* বলিউড অভিনেত্রী জয়া প্রদাকে ধরা হতো শ্রীদেবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। দুজনের সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক ছিল না। একবার ‘মকসদ’ (১৯৮৪) ছবির শুটিংয়ের সময় ছবির নায়ক রাজেশ খান্না ও জিতেন্দ্র ঠিক করলেন এই দুই নায়িকার সম্পর্কের শীতলতা দূর করার জন্য কিছু করবেন। তাই চুপ করে দুজনকে একটি রুমে রেখে তাঁরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরটি খোলার পর দেখা যায় শ্রীদেবী আর জয়া প্রদা দুজন তখনো ঘরের দুই কোনায় চুপচাপ বসে আছেন।

দুই মেয়ে ও স্বামীর সঙ্গে শ্রীদেবী। ছবি: ইনস্টাগ্রামদুই মেয়ে ও স্বামীর সঙ্গে শ্রীদেবী। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
 শ্রীদেবীর জীবনে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় দুটি ছবি ‘নাগিনা’ ও ‘চাঁদনি’। যদিও দুটি ছবিতেই প্রথমে কাজ করার কথা ছিল অন্য নায়িকার। ‘নাগিনা’তে প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল জয়া প্রদার নাম আর ‘চাঁদনি’তে রেখার।

* আশির দশকে নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে গভীর প্রেম ছিল শ্রীদেবীর। কথিত আছে, তাঁরা মন্দিরে গিয়ে গোপনে বিয়েও করেছিলেন। তবে তাঁদের সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

এক আত্মীয়র বিয়েতে অংশ নিতে সপরিবারে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। সেখানে তোলা এই ছবি শ্রীদেবী গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।এক আত্মীয়র বিয়েতে অংশ নিতে সপরিবারে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। সেখানে তোলা এই ছবি শ্রীদেবী গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।

চলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরকে শ্রীদেবী বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। জাহ্নবী ইতিমধ্যেই বলিউডে তাঁর প্রথম ছবির শুটিং শুরু করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস।

মাশরাফি তাহলে ফিরছেন না

মাশরাফি বিন মুর্তজা আচমকাই এসেছিল খবরটা। গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কায় টস করতে নেমে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ থেকে এমন আকস্মিক সরে যাওয়ার কারণ এখনো রেখে দিয়েছেন বন্ধ কপাটের ওপারে। যদিও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চাপ যে এতে মূল ভূমিকা রেখেছিল, সেটা জানতে বাকি নেই কারও। তবু মাশরাফি বিন মুর্তজা কখনোই কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি। শ্রীলঙ্কায় কিংবা দেশে ফিরেও বারবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন আর বলেছেন ‘স্বেচ্ছায়’ সরে দাঁড়ানোর কথা। 

হাথুরুসিংহের ‘তরুণ প্রাণের টি-টোয়েন্টি দল’-এর স্বপ্নের বলি হওয়ায় যে দেশের ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির সায় ছিল, সেটিও অজানা ছিল না। সেই নাজমুল হাসানই আবার এখন তাঁকে ফিরে পেতে চাইছেন দলে। সেই চাওয়া নিয়ে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ কথা বলেছেন মাশরাফির সঙ্গে। মাশরাফি ফিরবেন কি ফিরবেন না—এই প্রশ্নের একটা উত্তরের খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে তাঁর কথায়, ‘মাশরাফিকে আমিই বলেছি, ফিরে আসার ব্যাপারটা চিন্তা করতে। কিন্তু আমি মনে করি না যে এখনো সে ওভাবে ভাবতে পেরেছে। আমি ওকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে ভাবতে বলেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় না যে ও ফিরে আসতে চাইবে। আমার যেটা সন্দেহ, খেলবে না বলেই ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ 

অর্থাৎ কোনোভাবেই যে আর মাশরাফিকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানো যাচ্ছে না, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত করে দিয়েছেন মাহমুদ। আর সেই সিদ্ধান্তের প্রতি ক্রিকেট বোর্ডের শ্রদ্ধা রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে মাশরাফির না ফেরাটা যে নিদাহাস ট্রফির বোলিং লাইনআপে একটা বড় ক্ষত হয়ে যাচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট বুঝতে পারছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ, শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য এবার ‘সম্ভাবনা’র চেয়ে ‘অভিজ্ঞতা’র ওপরই বেশি ভরসা রাখছে নির্বাচক কমিটি। আজ বিকেলের মধ্যেই যে দল চূড়ান্ত হওয়ার কথা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা থেকেই নাকি সেখানে আবার ‘পুরোনো’তে ফেরার কথা ভাবছেন তাঁরা। 


যদিও সেটাই আবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় নির্বাচকদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অভিষেক হয়েছে তরুণ ছয় ক্রিকেটারের। যেটিকে বলা হয়েছিল ২০২০ বিশ্ব টি-টোয়েন্টির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ছয় অভিষিক্তের মধ্যে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নাজমুল ইসলামের ২৫ রানে ২ উইকেট ছাড়া বাকিদের খুঁজেও পাওয়া যায়নি। সে কারণেই কি হঠাৎ করে তারুণ্যের আবাহন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া? 


মাহমুদ যে ব্যাখ্যাটি দেওয়ার চেষ্টা করলেন, সেটা অবশ্য স্পষ্ট করল না কিছুই। বরং টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তহীনতাই যেন বেরিয়ে এল বেশি করে, ‘গত টি-টোয়েন্টিতে যারা সুযোগ পেয়েছিল, তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। আমাদের কোনো না কোনো জায়গায় তো তরুণদের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের ফিরে যেতে হবে অভিজ্ঞদের কাছে। যেহেতু নিদাহাস কাপে ভারত আছে, শ্রীলঙ্কা আছে, আমরা দেশের বাইরে খেলছি; একটু অভিজ্ঞতার আমাদের প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি। সেটা বিবেচনার পাশাপাশি দু-একজন তরুণকে নিয়েও আমরা চিন্তা করব।’ 


একটি টুর্নামেন্টের দল নির্বাচন নিয়ে যখন এগোনো-পেছানোর চক্রে বাংলাদেশ, তখন আরেকটা চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না। নতুন বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিজুড়ে যে ‘অভিভাবক’হীন ছন্নছাড়া দলকে দেখা গেল, সেটির সমাধান এখনো হয়নি। ৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া নিদাহাস ট্রফির আগে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রধান কোচ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মাহমুদ অবশ্য জানিয়ে রাখলেন, যদি দলকে ‘আগলানো’র দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্ন আসে, আবারও তিনি তা নিতে প্রস্তুত! মাত্র কয়েক দিন আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট নোংরা হয়ে গেছে, এখানে আর থাকতে চান না। কে জানে, আবার কী ভেবে মত বদলালেন খালেদ মাহমুদ!
 গাছে-গাছে বিয়ে

গাছে-গাছে বিয়ে

বিয়ের অনুষ্ঠান, আর ব্যান্ড পার্টি থাকবে না! হোক না তা গাছের বিয়ে। আড়ম্বরের অভাব নেই।

 লক্ষ্য সবুজ, সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া। আর এ স্বপ্ন পূরণে গ্রীন সেভা‍র্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বেনাউল দ্য পাইপারের যৌথ ঘটকালিতে (উদ্যোগে) আয়োজন করা হলো গাছে-গাছে বিয়ে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিবেশ ভবন চত্বরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২০টি বিয়ে সম্পন্ন হয়। সবুজ এবং সম্পর্ক বাঁচানোর এ ঐতিহাসিক যাত্রায় ঢাকা, রংপুর এবং আশপাশের এলাকা থেকে নানা বয়স ও পেশার দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ এবং চিত্রনায়ক রিয়াজ বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। সবুজপ্রেমী মানুষের কলরব, বিয়ের ফাঁকে ফাঁকে গান, বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ ভবন চত্বর। বিয়ে শেষে সবাইকে বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

গাছে-গাছে বিয়ের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা একটি করে বিবাহযোগ্য গাছ নিয়ে আসেন। এরপর তাঁদের পছন্দমতো অন্য কারও গাছের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এখানে কোনটি ছেলে গাছ বা কোনটি মেয়ে গাছ বা কোন গাছের কী ধর্ম—এসব বিচার্য ছিল না। বরং দুটো গাছের মাধ্যমে দুটো পরিচিত বা অপরিচিত পরিবারের মধ্যে এক ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই ছিল এ বিয়ের উদ্দেশ্য।


 পেয়ারাগাছে পরানো হচ্ছে মালা।
দুই গাছের মালাবদল।
গাছের বিয়ের অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক রিয়াজসহ অন্যরা।
বিয়ের অনুষ্ঠান, আর ব্যান্ড পার্টি থাকবে না! হোক না তা গাছের বিয়ে। আড়ম্বরের অভাব নেই।
শোক-শ্রদ্ধায় পিলখানায় নিহতদের স্মরণ

শোক-শ্রদ্ধায় পিলখানায় নিহতদের স্মরণ

পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজা 
 পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাশ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে আজ রোববার পালিত হচ্ছে পিলখানা হত্যা দিবস। সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর উপসামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন শ্রদ্ধা জানান।
বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাবনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাএ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনেরা কবরে ফুল দিয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পিলখানায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে কাল সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় বিজিবি সদর দপ্তরের বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।
পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে স্বজনেরা দোয়া পাঠ করেন। ছবি: হাসান রাজাপিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে স্বজনেরা দোয়া পাঠ করেন। ছবি: হাসান রাজা২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালটা শুরু হয়েছিল বার্ষিক বিশেষ আয়োজন দিয়ে। কিন্তু শেষ হলো রক্ত, লাশ আর বারুদের গন্ধে। সেদিন পিলখানায় বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহী জওয়ানেরা নৃশংসভাবে হত্যা করেন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের । হত্যাযজ্ঞ আর বীভৎসতায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। আজ রোববার সেই মর্মন্তুদ ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো। এই ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হয়েছে।

সবচেয়ে দূষিত বায়ুতে বাংলাদেশ দ্বিতীয়

• যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদন।
• ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে সূচক।
• বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯ তম স্থানে নেমে এসেছে।
• ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল।
• ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫ তম।
• গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা  ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে দূষিত  বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানপরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানবিশ্বের কোনো শহর স্থাপনার জন্য, কোনোটা আবার বৃক্ষ বা জলাভূমির জন্য বিখ্যাত হয়। রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের জন্য এখন আলোচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান-বিষয়ক প্রতিবেদনটি গত ২৩ জানুয়ারি ইপিএ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে একটি সূচক তৈরি করেছে। তাতে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম ওই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল, সে বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। অর্থাৎ গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে নেপাল, তারপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও কঙ্গোর নাম উঠে এসেছে। আর নির্মল বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর রয়েছে বার্বাডোজ, জর্ডান, কানাডা ও ডেনমার্ক।
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প থেকে দেশের আটটি শহরের বায়ুর মান প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দুই মাস ধরে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরের বায়ুর মান মারাত্মক ও খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হলো রাজধানী ঢাকা। এরপর রয়েছে রাজশাহী। বরিশাল সবচেয়ে কম দূষিত শহর হলেও এর বায়ু মানমাত্রার চেয়ে খারাপ, অর্থাৎ আশঙ্কাজনক।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দৈনিক বায়ু মানবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দেশের আটটি প্রধান জেলা শহরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বায়ুর মান ছিল সবচেয়ে খারাপ। ইপিএর প্রতিবদেনে একে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই দিনে ঢাকা ও সিলেটের বায়ু খুবই অস্বাস্থ্যকর। গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বায়ু ছিল অস্বাস্থ্যকর। রাজশাহী ও বরিশালের বায়ুকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে বায়ুর এই খারাপ অবস্থা রয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসজুড়ে ওই শহরগুলোর অধিকাংশের বায়ুর মান মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু প্রকল্পের পরিচালক মনজুরুল হান্নান খান প্রথম আলোকে বলেন, শীতের সময় সাধারণত বাতাসে দূষণের জন্য দায়ী ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা প্রায় ছয় হাজার ইটভাটা দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী। শীতে এগুলো চালু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত বেড়ে যাওয়ায় বাতাস স্বাভাবিকভাবেই দূষিত হয়ে পড়ে।
বায়ুর বৈশ্বিক মানদণ্ডকে অনুসরণ করে পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে। বায়ুর মানমাত্রার সূচক ১০০-এর ওপরে উঠলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। বায়ুতে ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও চার ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ পরিমাপ করে এ সূচক তৈরি করা হয়।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী, বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা ‘পিএম ২.৫’-এর মানমাত্রা হচ্ছে প্রতি কিউবিক মিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম। ‘পিএম ১০’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার মানমাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রাম।
২০১৫ সালে রাজধানীতে পিএম ২.৫-এর গড় ছিল ৮১ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৬ সালে ছিল ৭৬ মাইক্রোগ্রাম। পিএম ১০-এর গড় ২০১৫ সালে ১৪৮ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে আরও বেড়ে হয়েছে ১৫৮ মাইক্রোগ্রাম।
দূষণের উৎস
২০১৬ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কেইস প্রকল্পের আওতায় ঢাকার বায়ুদূষণের উৎস ও ধরন নিয়ে একটি জরিপ হয়েছে। নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব এয়ার রিসার্চের মাধ্যমে করা ওই জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার চারপাশে প্রায় এক হাজার ইটভাটায় নভেম্বরে ইট তৈরি শুরু হয়। এসব ইটভাটা বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী।
এ ব্যাপারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় সরকার নির্মল বায়ুর জন্য শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেই টাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বহুতল ভবন, সড়কে উন্নত মানের ফুটওভার ব্রিজ, অনেক কর্মকর্তার বিদেশ সফর হয়েছে। কিন্তু সরকারি ওই তথ্য প্রমাণ করছে দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে। তিনি বলেন, দেশের বেশির ভাগ ইটভাটায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রযুক্তি নেই। সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ করার সময় তাতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম উদ্যোগ বা পানি পর্যন্ত ছিটানো হচ্ছে না।
 কালো পতাকায় বাধা, আলালসহ আটক ২০

কালো পতাকায় বাধা, আলালসহ আটক ২০

পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: সাজিদ হোসেনপুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: সাজিদ হোসেনবিএনপির আজকের কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি পুলিশের প্রবল বাধার মুখে পড়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ তা ভন্ডুল করে দেয়। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। 
পুলিশ বলেছে, অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্য সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। বিএনপির কয়েক নেতা-কর্মীকে আটক করা হলেও সংখ্যাটা পুলিশ জানাতে পারেনি।
বিএনপির কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হুড়োহুড়িতে আহত হন বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবিএনপির কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হুড়োহুড়িতে আহত হন বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোআজ বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পতাকাও প্রদর্শন শুরু করেন অনেকে। এ সময় হঠাৎ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়। সেখান থেকে ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয়। তাদের ধাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়েন। পুরো এলাকায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশের ধাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোপুলিশের ধাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোওই ফটকের কাছ থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এটা কোন ধরনের আচরণ? সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটা কর্মসূচির মধ্যে এভাবে জলকামান দিয়ে পানি ছিটানো, লাঠিপেটা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের আচরণ হতে পারে না। রিজভী বলেন, ‘দলের মহাসচিবকেও তারা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
বিএনপির সূত্র জানায়, আজকের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ধাওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে আহত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী।
বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবেলা সোয়া ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করা হয়। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শিবলী নোমান আটকের কথা স্বীকার করলেও এর সংখ্যা বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকে তাঁদের কর্মসূচিতে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্যই তাঁদের পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
 এখানে তো বেশ আছি

এখানে তো বেশ আছি

এই অপেক্ষা ক্লান্তির, অনিশ্চয়তার। ভিনদেশে অচেনা পরিবেশে তারা বসে আছে একটু আশ্রয়ের আশায়। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে গতকাল ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে টেকনাফে ঢোকে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার। উপজেলার হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রের সামনে।  ছবি: গিয়াস উদ্দিন।এই অপেক্ষা ক্লান্তির, অনিশ্চয়তার। ভিনদেশে অচেনা পরিবেশে তারা বসে আছে একটু আশ্রয়ের আশায়। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে গতকাল ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে টেকনাফে ঢোকে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার। উপজেলার হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রের সামনে। ছবি: গিয়াস উদ্দিন।
  • মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে গত ছয় মাসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
  • এখানে ভালোই আছেন বলে জানালেন কয়েকজন রোহিঙ্গা
বালুখালী বিএমএস-১ মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে চায়ের দোকানে ঢুকলেন রবিউল হাসান। রবিউল জানালেন, ফজরের নামাজও তিনি এই মসজিদেই পড়েন। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। বাকি সময় শিবিরের ঘরে শুয়ে-বসে কাটান। মাঝে দু-একবার চায়ের দোকানে আড্ডা দেন। এভাবেই চলছে গত প্রায় ছয় মাস। রবিউলের ধারণা, এ রকম চলবে হয়তো বাকি জীবন।
রবিউলের বয়স ৩৫ বছর। তিনি আছেন বালুখালী-১ শিবিরে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে গত ছয় মাসে যে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে বসবাস করছে, রবিউল তাদের একজন।
বালুখালী-১ শিবিরের কাছে রবিউলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা স্থানীয় আমির হোসেনের চায়ের দোকানে ভিড় জমায়। এদের কারও বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডু এলাকায়, কারও বাড়ি বুচিডং এলাকায়, কারও সিটুওয়ে বা রাচিডংয়ে।
কথা ওঠে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগ নিয়ে। রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা থামেনি। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাবাসনের জন্য ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা হস্তান্তরের পর থেকে গত সাত দিনে টেকনাফে এসেছে ৬১৮ রোহিঙ্গা। সর্বশেষ গতকাল এসেছে ৭২ পরিবারের ২৫৩ রোহিঙ্গা। আর চুক্তি হওয়ার দিন থেকে গত তিন মাসে টেকনাফে এসেছে ১০ হাজার ৯৩৫ রোহিঙ্গা।
এসব আলোচনার মধ্যে আবু জামিল বলে বসলেন, ‘কেন যাব? এখানে তো বেশ আছি।’ নিজ দেশে আবু জামিলের চায়ের দোকান ছিল। সেই অভিজ্ঞতার জোরে বাংলাদেশের আমির হোসেনের দোকানে কাজ পেয়েছেন জামিল।
তবে ‘বেশ আছি’ কথাটি শুধু জামিলের একার নয়। গতকাল শুক্রবার কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে যত রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন, তাঁরা বাংলাদেশে ভালো আছেন। তবে আবু জামিল এ-ও বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার পাঠালে আমাদের যেতেই হবে। আমরাও মানুষ, আমাদের আবার যেন অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণের মুখে পড়তে না হয়, সেটিও যেন বাংলাদেশ সরকার ভেবে দেখে।’
কুতুপালংয়ের লাম্বাসিয়া শিবিরে একটি ঘরে পাঁচ সদস্য নিয়ে থাকেন মোহাম্মদ সাবের। বয়স ৫০ বছরের বেশি। সকালে ভাত খেয়েছিলেন বলে জানালেন। দুপুরে ও রাতে ভাতের ব্যবস্থা। তিন বেলা এভাবেই চলছে। সাবের বললেন, এখানে খাবারের কোনো কষ্ট নেই। চলাফেরায় কিছু বিধিনিষেধ আছে। যেমন চাইলেই রোহিঙ্গারা যেখানে-সেখানে ঘুরতে যেতে পারে না। সেই সমস্যা মিয়ানমারেও ছিল। এখানে আছে নিরাপত্তা, যা মিয়ানমারে কোনো দিন ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
শিবিরবাসী, সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রাণসামগ্রীর কোনো অভাব নেই রোহিঙ্গাদের। এমনকি বাড়তি চাল, ডাল, চিনি, তেল, কম্বল, থালাবাটি রোহিঙ্গারা নিয়মিতভাবে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রি করছে। সাধারণত বিকেলে এসব সামগ্রী নিয়ে তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কর্মকর্তারা কাজ শেষে শহরে ফেরার সময় অল্প দামে কিনে নেন।
একটি বেসরকারি সংস্থার পুষ্টি কেন্দ্রে কথা হয় হাজেরা বেগমের সঙ্গে। বয়স ২৮ বছর। তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মা। তিনি জন্মের পর থেকেই মিয়ানমার সেনাদের নানা ধরনের অত্যাচারের মধ্য দিয়ে জীবন পার করেছেন। এ দেশে আসার আগে একটি স্কুলে তাঁর স্বামী ও তাঁকে বেঁধে নির্যাতন করেছিল মিয়ানমারের সেনারা। এ দেশে হাজেরা বেগমও বেশ নিরাপদে আছেন।
গত বছরের ২৪ আগস্ট রাখাইনের মংডু এলাকায় কিছু নিরাপত্তাচৌকিতে আরসার সন্ত্রাসী হামলা হয়। এই অজুহাতে পরদিন থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয় সশস্ত্র বৌদ্ধদের একটি অংশ। রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ প্রায় সব ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি বাংলাদেশে আসে গত বছরের ২৫ আগস্ট, ছয় মাস আগে।
ছয় মাস তো খুবই কম সময়। ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার আর রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়নি। তাই এবারের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও সফল হবে না বলে রোহিঙ্গারা মনে করে। তারা বলছে, ফেরত পাঠানোর প্রথম শর্ত নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু মিয়ানমার সরকার কোনো দিন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেবে না।
তাই অনেকেই ভবিষ্যৎ দেখছেন বাংলাদেশে। রাখাইনে মোহাম্মদ সাবেরের বাড়ির পাশের স্কুলটি সেনাবাহিনী ছয় বছর আগে বন্ধ করে দিয়েছিল। কুতুপালংয়ে ১০ বছরের মেয়েকে একটি এনজিওর স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।
১৯৭৮ সালে ‘ড্রাগন অপারেশনের’ সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা প্রথম বাংলাদেশে এসেছিল। তাদের একটি অংশ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। তারপরও কয়েক দফায় রোহিঙ্গারা এসেছিল। সবাই ফেরত যায়নি। বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার অতীত অভিজ্ঞতাকে নতুন আসা রোহিঙ্গারা কাজে লাগাতে চাইছে।
 ১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোবিদ্যুৎ টাওয়ারটি ১৭০ ফুট উঁচু। এটা দিয়ে সঞ্চালিত হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ। সেই টাওয়ারের চূড়ায় ২২-২৩ বছরের এক যুবক চিল্লাচিল্লি, লাফালাফি করছেন। আতঙ্ক নিয়ে নিচ থেকে তা দেখছে শত শত মানুষ। চিৎকার করে লোকজন তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ করছে। কিন্তু কে শোনে, কার কথা!
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। সেখানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পথেরহাট বাজারের পল্লিমঙ্গল এলাকায় কৃষিজমিতে থাকা গ্রিড লাইনের টাওয়ারে উঠে যান ওই যুবক। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন (জাতীয় গ্রিড) লাইনের ১৭০ ফুট উঁচু টাওয়ারের মাথায় উঠে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেছেন তিনি। পরে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে কৌশলে তাঁকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।
যুবকের নাম মোহাম্মদ নাছির। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি কয়েকবার টাওয়ারে উঠে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন পথেরহাট বাজারের ছোটন এন্টারপ্রাইজের মালিক ছোটন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে এক যুবককে বিদ্যুতের উঁচু টাওয়ারের চূড়ায় উঠে নাচানাচি করতে দেখা যায়। সবাই তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ জানালেও তিনি তোয়াক্কা করেননি।
চট্টগ্রাম কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা অর্জুন বাড়ৈই প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, যুবকটি প্রায় ছয় ঘণ্টা টাওয়ারের চূড়ায় ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং খাবারের লোভ দেখিয়ে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনেন। নিচে নামিয়ে আনার আগেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, যুবকের হাতে ব্লেড ছিল। ব্লেডের আঘাতে তাঁর গলায় ও দুই হাত জখম হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

২৫ জানুয়ারি রাউজানের উরকিরচরে টাওয়ারে উঠেছিলেন এক যুবক। অনেকের ধারণা, দুটি ঘটনা একই ব্যক্তি ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোচট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাউজানের ওয়্যারিং পরিদর্শক আজিমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে রাউজানে। এ জন্য দরকার নির্দিষ্ট বেষ্টনী দিয়ে টাওয়ারে ওঠার পথ বন্ধ করার। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাউজান নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের উপপ্রকৌশলী সিরাজুল হক বলেন, টাওয়ারটির উচ্চতা ১৭০ ফুট। এখানে জাতীয় গ্রিডের ১ লাখ ৩২ হাজার কেবির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন গেছে। এই টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু থাকা অবস্থায় ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে পিডিবির চট্টগ্রামের মদুনাঘাট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত উঁচু টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু অবস্থায় কারও ওঠার সুযোগ নেই। যুবকটি কীভাবে উঠলেন বুঝতে পারছি না।’
 ফেদেরারের চোখ ১০০–তে

ফেদেরারের চোখ ১০০–তে

৯৭তম ট্রফি হাতে ফেদেরার। ছবি: রয়টার্স৯৭তম ট্রফি হাতে ফেদেরার। ছবি: রয়টার্স• ক্যারিয়ারের ৯৭তম ট্রফি জিতলেন ফেদেরার।
• সবচেয়ে বেশি বয়সে র‍্যাঙ্কিং শীর্ষে উঠেছেন কদিন আগে।

সেমিফাইনালে উঠেই র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন, তবে ফাইনাল জেতাই তাঁর মূল লক্ষ্য, সেটা জানা কথা। তবে ২০ ঘণ্টারও কম সময়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার ধকল কতটা নিতে পারবেন, তার সংশয় ছিল। তবে সে সংশয় দূর করে রজার ফেদেরার তাঁর ক্যারিয়ারের ৯৭তম ট্রফি জিতে নিয়েছেন।
৩৬ বছর বয়সে এসেও চুল পরিমাণ সুযোগ দেননি গ্রিগর দিমিত্রভকে। বুলগেরিয়ার খেলোয়াড়কে ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়ে রটারডাম ওপেনের ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন ফেদেরার। ক্যারিয়ারে ২০টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরারের কাছে একেই জীবনের অন্যতম সেরা সপ্তাহ মনে হচ্ছে। ফেদেরারের মতো খেলার ধরন বলে দিমিত্রভকে ‘বেবি ফেদেরার’ ডাকা হতো একসময়। তবে ফাইনালে ‘বেবি’ পাত্তা পাননি আসল ফেদেরারের কাছে। অথচ এ টুর্নামেন্ট জেতার আশাও করেননি ফেদেরার, ‘আমার মূলত লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল খেলা। ফাইনাল জেতার পর অবশ্যই ভালো লাগছে।’
২০১২ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এলেন ফেদেরার। ছয় বছর পরে সেরা হওয়ার অনুভূতিই অন্য রকম ছিল, ‘ছয় বছর পর সেরা হওয়া আমার নিজের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। আমি সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলাম ফাইনালের জন্য। বছরের শুরুটা আমার জন্য দুর্দান্ত হয়েছে। তবে প্রথম স্থানে আসার পর কিছুটা নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। তবে তা খুব সহজেই সামলে উঠেছি।’
প্রতিপক্ষ দিমিত্রভের প্রশংসাও করলেন ম্যাচ শেষে, ‘ও অনেক ভালো খেলোয়াড়। তবে আমি আরেকটু ভালো ম্যাচ আশা করছিলাম। মাঝে ওকে একটু খাপছাড়া লাগছিল। তবে ও ভবিষ্যতে অনেক ভালো করতে পারবে।’
পূর্ণাঙ্গ এক ক্যারিয়ারে এখন ফেদেরারের চাওয়া ট্রফির সেঞ্চুরি। তবে ১০০ ট্রফির জন্য এখনো অনেক কষ্ট করতে হবে, স্বীকার করলেন টেনিস রাজা, ‘১০০ এখনো হয়নি, আরও বাকি আছে। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে সুস্থ থেকে এগিয়ে যাওয়া।’ তাঁর চোখ যে জিমি কনর্সের গড়া ১০৯ ট্রফির রেকর্ডের দিকে, তা নিশ্চয় বলা লাগছে না!
 সালাহর বাঁ পা বিশ্বসেরা? মেসিকে ভুলে যাবেন না!

সালাহর বাঁ পা বিশ্বসেরা? মেসিকে ভুলে যাবেন না!

লিভারপুলের হয়ে সালাহর বাঁ পায়ের ভেলকি চলছেই। ছবি: টুইটারলিভারপুলের হয়ে সালাহর বাঁ পায়ের ভেলকি চলছেই। ছবি: টুইটার
  • সালাহর বাঁ পায়ের প্রশংসায় মেসিকে স্মরণ করলেন ক্লপ।
  • ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এবার বাঁ পায়ে ১৯ গোল করেছেন সালাহ।
  • রবি ফাউলারের গড়া রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন লিভারপুল স্ট্রাইকার।
  • লিভারপুলের হয়ে লিগে দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটছে সালাহর।
লিওনেল মেসির তারকাখ্যাতির সঙ্গে মোহাম্মদ সালাহর তুলনাই চলে না। কিন্তু লিভারপুল স্ট্রাইকার এ মৌসুমে যেভাবে খেলছেন, তাতে প্রশ্নটা উঠেছে, সালাহর বাঁ পা কি বিশ্বসেরা?
পরিসংখ্যান বলছে, প্রশ্নটা মোটেই অবান্তর কিছু নয়। লিভারপুলে এবার প্রথম মৌসুমেই মাত করে দিয়েছেন মিসরীয় এ স্ট্রাইকার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৩০। এর মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে করা ২২ গোলের দুটি ডান পা এবং একটি হেড থেকে। বাকি ১৯ গোলই করেছেন বাঁ পায়ে!
লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপকে তাই সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করেছিলেন, এই মুহূর্তে সালাহর বাঁ পা কি বিশ্ব সেরা? জবাবে জার্মান কোচ এমন একজনের উদাহরণ টেনেছেন, বার্সেলোনার জার্সিতে যাঁর ৪৫৬ গোলের ৩২৬টিই এসেছে বাঁ পা থেকে। বুঝতেই পারছেন তিনি লিওনেল মেসি। বার্সার এ তারকাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্লপের ভাষ্য, ‘বিশ্বসেরা? লিওনেল মেসিও বাঁ পায়ের, তাই না? তাঁকে (মেসি) একেবারে ভুলে যাওয়া বোধ হয় ঠিক হবে না।’
তবে ২৫ বছর বয়সী শিষ্যের বাঁ পায়ের ঠিকই প্রশংসা করেছেন ক্লপ, ‘বিশ্বসেরা ক্যাটাগরিতে পরে কি না, তা নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। তবে তাঁর বাঁ পা খুব ভালো। যদিও সে গোল করতে শরীরের কোন অংশ ব্যবহার করল, সেটা নিয়েও আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

লিভারপুলের হয়ে এ পর্যন্ত ২৬টি লিগ ম্যাচ খেলেছেন সালাহ। বাঁ পায়ে এরই মধ্যে ১৯ গোল করে তিনি ভাগ বসিয়েছেন রবি ফাউলারের গড়া রেকর্ডে। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে আসরটির ইতিহাসে বাঁ পায়ে সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছিলেন সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার। তখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৪২টি করে ম্যাচ খেলতে হতো প্রতিটি দলকে। ফাউলার সেবার লিভারপুলের হয়ে সব কটি ম্যাচ খেলেই রেকর্ডটা গড়েছিলেন। কিন্তু সালাহ এবার মাত্র ২৬ ম্যাচেই তাঁর সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন।
অর্থাৎ সালাহ যে ফাউলারকে টপকে রেকর্ডটা নতুন করে লেখাবেন, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু রেকর্ডটা তিনি কোথায় নিয়ে স্থাপন করেন, সেটাও দেখার বিষয়। লিভারপুলে নিজের প্রথম মৌসুমেই কিন্তু তাঁর ফর্ম দুর্দান্ত। লিগে এবার ২৯টি গোলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ (২২ গোল করেছেন, ৭ গোল করিয়েছেন) অবদান রয়েছে সালাহর। লিভারপুলের হয়ে লিগে তাঁর মতো আর কোনো খেলোয়াড়েরই এমন দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটেনি।
গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার

গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার

মিয়ানমার গণকবরগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করে ফেলছে।মিয়ানমার গণকবরগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করে ফেলছে।
  • বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, রাখাইনে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার।
  • ১০০ জনের বেশি ব্রিটিশ এমপির ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলের বিচার দাবি।
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার সব প্রমাণ মুছে ফেলতে চাইছে মিয়ানমার। গত বছরের আগস্ট মাসে এ গণহত্যা চালানো হয়। রোহিঙ্গাদের একটি গণকবরে বুলডোজার চালিয়ে তা নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থার ওই অভিযোগ ছাড়াও বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নিজস্ব অনুসন্ধানে মিয়ানমারে অন্যান্য গণকবরের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ওপর ডকুমেন্টারি নিয়ে কাজ করছে ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’। ওই প্রকল্প থেকে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে একটি ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজে জঙ্গল নিশ্চিহ্ন করে ফেলা ও গণকবর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে অর্ধেক মাটিচাপা দেওয়া ত্রিপল ব্যাগে মানুষের গলিত পা দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকল্পের পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণহত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এখন গণহত্যার প্রমাণ স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে বুলডোজার চালাতে দেখা যাচ্ছে। মিডিয়াতে যে দুটি গণকবরের খবর এসেছে, তার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার একটি গণকবরের ওপর বুলডোজার চালানো হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে গণহত্যার সব প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
লিউয়া জানান, বুলডোজার চালানোর কাজটি করছে মিয়ানমারের একটি প্রাইভেট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি রাখাইনের নয়। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল থেকে এসে তারা এ কাজ করছে।
‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’ পরিচালক বলেন, ‘এটি থেকে স্পষ্ট যে সরকারি আদেশেই গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলা হচ্ছে।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গত বছরের আগস্ট মাসে গণহত্যা চালানোর স্থানটি হচ্ছে উত্তর রাখাইনের বুথিডাং শহরের মং নুতে। সেখানে গণকবরটির অবস্থান।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলছে, রাখাইন থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন তাদের বলেছে, গ্রামের বসতবাড়ির আঙিনায় জড়ো হওয়া গ্রামবাসীর ওপর মিয়ানমারের সেনারা নির্যাতন করেছে। এ ছাড়া ধর্ষণ, খুন ও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। সেখানে এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর কাছে থাকা স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, মং নু এলাকাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে দ্য ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বলেছিল, গত আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করার পর এক মাসেই মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো তাদের আসা অব্যাহত আছে।
তবে জাতিগত নিধনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। গত বছরে নিজস্ব অনুসন্ধানে রাখাইনে নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে।
অবশ্য, গত মাসে মিয়ানমার সেনাদের পক্ষ থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়। ইন ডিন নামের একটি গ্রামে রোহিঙ্গাদের একটি গণকবর পাওয়ার কথা স্বীকার করে তারা। সেখানে অনেক রোহিঙ্গা সেনাদের হাতে নিহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা ‘গণহত্যার প্রতীক’ হয়ে উঠেছে। তবে জাতিসংঘের অনুসন্ধান মিশনের নেতৃত্বে থাকা ওই কর্মকর্তাকে মিয়ানমারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, ‘মুং নুতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ বিষয়ে শুনেছি। বর্মিজ নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার গোপন করার ব্যাপক প্রচেষ্টা বিষয়টিতে আমরা উদ্বিগ্ন।’
গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের অন্যান্য অংশে বুলডোজার চালিয়ে সমান করে ফেলা হয়েছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, আগে যেখানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিল, সেগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরে যে গ্রামগুলো লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, সেগুলো এখন ধূলিসাৎ বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

লিউয়া বলেছেন, ‘শুধু যে বাড়িগুলো পোড়ানো হয়েছিল সেগুলোই নয়, সেখানে পরিত্যক্ত সব বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ঘরবাড়িসহ পুরো এলাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও হাতা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ওই এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে। সেখানে কোনো গ্রামবাসী নেই। কোনো ঘরবাড়ি নেই। শুধু সমতল জমি।’

ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন গ্রাম তৈরি করতে হবে বলে জানান হাতা।

গণকবর ধ্বংস করে ফেলা প্রসঙ্গে জাও হাতা বলেন, ‘আমি জানতে চাই, কোন প্রমাণের কথা আপনারা বলেছেন? এটা কি আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী? বিশ্বজুড়ে বাঙালিরা? আমাকে নির্ভরযোগ্য, নিখুঁত ও শক্তিশালী প্রাথমিক প্রমাণ দিন। বাঙালিরা বিশ্বজুড়ে যা বলে বেড়াচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে কিছু বলবেন না।’
মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বিচার চান যুক্তরাজ্যের এমপিরা
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযানের নামে সামরিক অভিযান চালানোয় মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ১০০ জনের বেশি এমপি।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব বরিস জনসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের অবস্থা তুলে ধরে উচ্চকণ্ঠ হওয়ায় জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। লেবার পার্টির সাংসদ রুশনারা আলীসহ ১০০ জনের বেশি সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে ওই চিঠিতে।
তাঁরা বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের প্রধান হ্লাইয়াংকে তাদের নিরাপত্তা অপারেশনের জন্য অর্থবহ কোনো মূল্য দিতে হয়নি। হ্লাইয়াংয়ের শাস্তি না হওয়ায় এ কাজে তাঁর উৎসাহ বেড়ে গেছে। দেশটির অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমান সহিংসতাকে আগ্রাসীভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি এবং শান্তিপ্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বিবৃতি আদায় করেছে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব পরামর্শ অবহেলা করেছে মিয়ানমার। এখন সামনে এগোনোর সময়। যদিও জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চীন আইসিসির কাছে যাওয়ার বিষয়টির বিরোধী, তবু আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে পারি। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র কাউন্সিলের বৈঠকের আগে যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে এটা শুরু হোক।
চিঠিতে আরও বলা হয়, যত দেশকে মিয়ানমারে গণহত্যার বিচারের জন্য পক্ষে পাওয়া যাবে, তত হ্লাইয়াং ও তাঁর সেনাদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে বেসামরিক মানুষের ওপর ভবিষ্যতে সামরিক নির্যাতন ঠেকানো যাবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সব রসদ সরবরাহ বন্ধ, সেনা প্রশিক্ষণসহ সহযোগিতা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যের এমপিরা চাইছেন, জাতিসংঘ যেন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
সুত্রঃ প্রথম-আলো 

আগুনে পোড়া গ্রাম বুলডোজারে সমান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের গ্রামের স্যাটেলাইট দৃশ্য (বাঁয়ে)। ধ্বংসস্তূপ ও ছাইভস্মের চিহ্নও এবার বুলডোজার দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। ছবি: এইচআরডব্লিউ
  • ধ্বংসস্তূপ আর ছাইভস্ম বুলডোজার দিয়ে সমান করা হচ্ছে।
  • এইচআরডব্লিউ বলেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার চিহ্ন মুছে ফেলছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো পুড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সব ধ্বংসস্তূপ আর ছাইভস্মও এবার বুলডোজার দিয়ে সাফ করে চিহ্নও মুছে ফেলছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালানো নিষ্ঠুরতা-নৃশংসতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করতেই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ গতকাল শুক্রবার বলেছে, স্যাটেলাইটে ধারণ করা দৃশ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাখাইন রাজ্যে অন্তত ৫৫টি রোহিঙ্গা গ্রামে বুলডোজার চালাতে দেখা গেছে। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আগুন দিয়ে রোহিঙ্গাদের এই ৫৫টিসহ ৩৬২টি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করেছে। গ্রামগুলোতে চালানো জ্বালাও-পোড়াওয়ের চিহ্ন মুছে ফেলার সরকারি এই তৎপরতার নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান-নির্যাতনে এরই মধ্যে রাজ্যটি রোহিঙ্গাশূন্য হয়ে পড়েছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে ছয় লাখের বেশি নারী-পুরুষ। জাতিসংঘের অভিযোগ, মিয়ানমার সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও রাখাইনে জাতিসংঘের তদন্ত দলকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। এ নির্মূল অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, গত বছর রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর প্রথম কয়েক মাসেই সেনারা ও তাঁদের সহযোগীরা শত শত গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দেন। গুলি করে হত্যা করেন অনেককে। ধর্ষণ করেন বহু রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীকে।
স্যাটেলাইট থেকে এইচআরডব্লিউর পাওয়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, গত নভেম্বর থেকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নতুন করে অন্তত ৫৫টি গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এসব গ্রামের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসস্তূপ, এমনকি গাছগাছালি-খেতখামার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সংস্থাটি বলেছে, মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া এসব গ্রামের অন্তত দুটি ইতিপূর্বে আগুনে পোড়ানোর পরও প্রায় অক্ষত ছিল।
সংস্থার এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, এসব গ্রামের অনেকগুলো ছিল রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতার সাক্ষী। এগুলো সংরক্ষণ করা উচিত; যাতে জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে নির্যাতনের প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পান। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে থাকায় নৃশংসতার প্রমাণ মুছে যাওয়ার এবং যেসব রোহিঙ্গা সেখানে থাকতে, তাদের পক্ষে আইনগত দাবি উপস্থাপনের সুযোগ নষ্টের হুমকি তৈরি হয়েছে।
এসব বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, শুক্রবার এপির প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতেও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাখাইনে ২৮টি গ্রাম বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ সমান করে দিয়েছে।
এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি মিয়ানমারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান স্মিটের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা কিছু ছবিতেও রাখাইনের আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফুটে ওঠে। সেসব ছবিতে এই রাজ্যের রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত বিস্তৃত এলাকা মাটিতে মিশে থাকতে দেখা যায়।
রাখাইনে চলতি মাসের শুরুর দিকে সফরে যান কয়েকটি দেশের কূটনীতিকেরা। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেখানকার কিছু ছবি ছাড়া হয়। ওই সব ছবিতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নৃশংসতা চালানোর যে দৃশ্য ফুটে উঠেছে, তাতে রাজ্যটি থেকে রোহিঙ্গাদের শুধু ঘরবাড়ি বা বসবাসের চিহ্নই নয়, মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য মুছে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক বছর ধরে কাজ করছেন বেসরকারি সংগঠন আরাকান প্রজেক্টের প্রধান ক্রিস লিউয়া। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িঘর-গ্রাম জ্বলতে দেখে মর্মাহত। তাদের আশঙ্কা, আসছে বর্ষা মৌসুমে রাখাইনে নিজেদের অতীত বসবাসের চিহ্নটুকুও ধুয়েমুছে যাবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মনে এ ধারণা জন্মেছে যে সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে তাদের বসবাসের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বসবাসের চিহ্ন মুছে ফেলার পদ্ধতিগত চেষ্টার অভিযোগ নতুন নয়। গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা থেকেও এ অভিযোগ করা হয়েছিল। মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, পদ্ধতিগতভাবে রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম ও সম্পত্তি ধ্বংস করার ঘটনা কার্যকর অর্থেই তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটামাটি থেকে উৎখাত করার পদক্ষেপ।
তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রধান ও দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মায়াট আয় দাবি করেছেন, স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ ওই গ্রামগুলো আগের চেয়ে ভালো মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন গ্রাম তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গারা যখন ফিরে আসবে, তখন তারা অবিকল আগের বাসস্থানেই বা এর কাছাকাছি রকমের বাসস্থানে থাকতে পারবে।’
মিয়ানমারের সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের কোনো জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দশকের পর দশক তারা নানা বঞ্চনা-নিপীড়নের শিকার।

সুত্রঃ প্রথম আলো 

পুরুষদের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির অসাধারণ প্রাকৃতিক উপায়

অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে একটা সমস্যা বেশ প্রকট হয়ে উঠছে। দিন যত যাচ্ছে পুরুষের মধ্যে নপুংসকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের যৌন ইচ্ছা যাচ্ছে ক্রমশ কমে। কাজেই যৌন চাহিদা কমে যাওয়ার আগে থেকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন৷ জেনে নিতে পারেন কী করে এই চাহিদা ক্রমশ ক্ষয়মান হচ্ছে৷

হোম রেমেডি পুরুষের এই সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে এসেছে৷ তারা যাতে আবার তাদের পূর্ণ যৌন ইচ্ছা ফিরে পায় তার উপায় বার করেছে হোম রেমেডি৷ যাদের মধ্যে এই অসুবিধা সবেমাত্র দেখা দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে হোম রেমেডি কার্যকরী হতে পারে৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোম রেমেডি দ্বারা চিকিৎসা করা যায় কিন্তু সবক্ষেত্রে হোম রেমেডি প্রযোজ্য নয়৷

এবার আসুন জানা যাক যৌন অক্ষমতার প্রথম ধাপের চিকিৎসাতে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য কি কি সামগ্রী কাজে লাগতে পারে বা তা ব্যবহারে কি উপকার হয়-


রসুন: যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভালো ফল দিয়ে থাকে৷ রসুনকে ‘গরীবের পেনিসিলিন’ বলা হয়৷ কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে৷ যা আমরা প্রায় প্রতিনিয়্তই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকি৷

আপনার যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী৷ কোনো রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে৷ এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা খুব বেশি হয় বা তা মাত্রাতিরিক্ত হয় যার অত্যধিক প্রয়োগ তার নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে এমন ক্ষেত্রেও রসুন খুবই কার্যকরী৷

প্রতিদিন দু’ থেকে তিনটি রসুনের কোয়া কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খান৷ এতে আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গিয়ে থাকলে তা বৃদ্ধি পাবে৷ এ ছাড়া গমের তৈরি রুটির সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেলে তা আপনার শরীরে স্পার্ম উৎপাদনের মাত্রা বাড়ায় এবং সুস্থ্য স্পার্ম তৈরিতে এটি সাহায্য করে৷

পেঁয়াজ: কাম-উত্তেজক ও কামনা বৃদ্ধিকারী হিসেবে পেঁয়াজ বহুদিন থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে৷ কিন্তু এটি কীভাবে এই বিষয়ে কার্যকরী তা এখনো পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায়নি৷
সাদা পেঁয়াজ পিষে নিয়ে তাকে মাখনের মধ্যে ভালো করে ভেঁজে নিয়ে তা প্রতিদিন মধুর সঙ্গে খেলে তা থেকে উপকার পাওয়া যায়৷ কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখবেন, এটি খাওয়ার আগে ঘণ্টা দুয়েক সময় আপনার পেট খালি রাখবেন৷ এইভাবে প্রতিদিন খেলে স্খলন, শীঘ্রপতন বা ঘুমের মধ্যে ধাতুপতন ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব৷

এছাড়া পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কালো খোসা সমেত বিউলির ডালের গুঁড়ো সাত দিন পর্যন্ত ভিজিয়ে রেখে তাকে শুকিয়ে নিন৷ এটির নিয়্মিত ব্যবহার আপনার কাম-উত্তেজনা বজায় রাখবে এবং শারীরিক মিলনকালীন সুদৃঢ়তা বজায় রাখবে৷

গাজর: দেড়শো গ্রাম গাজর কুঁচি এক টেবিল চামচ মধু এবং হাফ-বয়েল ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে দুমাস খেলে আপনার শারীরিক এই অক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

ইয়ারফোনের ‘ইয়ারিয়াঁ’ ডেকে আনতে পারে ৫ বিপদ

স্মার্টযুগে স্মারটলাইফ৷ প্রযুক্তির উন্নতিতে উন্নয়নের তালে তাল মেলাচ্ছে মানবজীবন৷ কিন্তু এই উন্নতির মধ্যেই কি কোথাও লুকিয়ে রয়েছে ক্ষতি? ইতিবাচকের মধ্যেই কি ঢুকে নেতিবাচক কোনও কিছু? এর একটি ছোট্ট উদাহরণ হল- ইয়ারফোন, যা ফোনের বা ল্যাপটপের মতো গ্যাজেটস-এর সঙ্গে কানের যোগাযোগে হামেশাই ব্যবহার করেন অনেকে৷ অনেকের মতেই ইয়ারফোনের বেশি ব্যবহারে নিচের ক্ষতিগুলি হতে পারে৷ কোনগুলি? চলুন চোখ রাখা যাক,

১) কানে বায়ু চলাচলে ক্ষতি: ফোনে সরাসরি কান না রেখে অনেকেই ইয়ারফোন ব্যবহার করে থাকেন৷ এর দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে কিন্তু কানে বায়ু চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে সংক্রমণ হতে পারে যা আপনার কানের ক্ষতি করবে৷

২) শ্রবণশক্তি হ্রাস: ইয়ারফোনে ৯০ ডেসিবলের উপর শব্দ শুনলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷ শ্রবণশক্তি চিরতরের মতো হারিয়েও যেতে পারে বলে অনেকেরই আশঙ্কা! ১০০ ডেসিবলের উপর মাত্র ১৫ মিনিট এয়ারফোন ব্যবহার করলে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে।


৩) শ্রবণশক্তির জড়তা: কিছু সমীক্ষায় জানা যায়, যারা এয়ারফোন ব্যবহার করেন তারা উচ্চ শব্দে মিউজিক শোনেন। এতে কানে জড়তা চলে আসে।

৪) মস্তিষ্কে সমস্যা: বর্তমানে ইয়ারফোন কিছু তড়িত-চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করে, যার থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করা হয়৷

৫) ইনফেকশন: ইয়ারফোন ব্যক্তিগত থাকাই উচিত৷ কিন্তু অনেকেই তা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে শেয়ার করে থাকে। এতে কানে ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকটাই৷ তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে প্রত্যেককে৷

কম ভলিউমে ইয়ারফোন ব্যবহার করা উচিত তাও দীর্ঘক্ষণ নয়৷ এবং রাস্তায় চলতে গিয়ে এসব ব্যবহার না করাই ভালো৷ আপনার সুরক্ষা আপনারই হাতে৷

কোন ছয়টি ভুল নষ্ট করে মজবুত সম্পর্ককেও

অনেকেই বলেন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। আবার অনেকে এও বলেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা মোটেও হাতিঘোড়া কোনও কাজ নয়। সাধারণ কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখলে প্রেমিকা-প্রেমিকারা বিশ্বাস করতে পারেন একে অপরকে। এই প্রতিবেদনে দেওয়া হল এমন কয়েকটি ভুল, যা নষ্ট করতে পারে একটি মজবুত সম্পর্ককেও। ভুলগুলি পড়ুন ও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন-
অভিভাবক হবেন না: দয়া করে নিজের প্রেমিকাকে নিজের সম্পত্তি ভাববেন না। তাঁকেও ঘুরতে যেতে দিন বন্ধুদের সঙ্গে। সন্দেহ করবেন না অকারণে।
কাজ কাজ করবেন না: দিনভর অফিস-চাকরি-ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার পর একটু সময় রাখুন নিজের আপনজনের জন্য। জানেন তো,অধিকাংশ সম্পর্কই ভেঙে যায় একে অপরকে সময় দিতে না পারার অজুহাতে।


বিয়েতে তাড়াহুড়ো নয়: প্রেমিকা আপনারই। আপনাকে ভালবাসলে অন্য কারুর সঙ্গে পালিয়ে যাবে না। তাই বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। অনেক পুরুষই চান, কোনও মহিলাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করে বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে। এটা কোনও উপায় হতে পারে না মশাই।
ছোটখাটো ঝগড়া এড়িয়ে চলুন: এটাকে বলে গোল্ডেন ওয়ার্ডস অফ রিলেশনশিপ। ঝগড়া এড়িয়ে চলুন। একে অপরকে ছুঁয়ে থাকুন। মনে থাক শুধুই ভাল লাগার আমেজ।
বিশ্বাস করতে শিখুন: একটি সুস্থ-স্বাভাবিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে কিন্তু বিশ্বাস করতের শিখতেই হবে একে অপরকে।
দোষ চাপাবেন না: আপনার কাজের চাপ, আপনার বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা-সব কিছুর দোষ আপনার প্রেমিকার উপর চাপাবেন না.
একঘেয়ে ব্রেকফাস্টে মজাদার ট্যুইস্ট

একঘেয়ে ব্রেকফাস্টে মজাদার ট্যুইস্ট

সকালের জলখাবারে কী খাবেন বা কী খাওয়াবেন এটা নিয়ে যন্ত্রণায় পড়েন প্রতিদিন?
কেউ কেউ তাড়াতাড়িতে ব্রেকফাস্টই করেন না, আবার একই খাবার রোজ রোজ প্রতিদিন ভালো লাগেনা৷ কর্ণফ্রেক্স বা পাউরুটি-জেলিও মুখে রোচে না অনেকেরই।
কোন কোন খাবার তৈরিতে রান্না বান্নার কোন ঝামেলাই নেই,কিন্তু খেতে দারুণ সুস্বাদু, জেনে নিন৷ এই খাবারগুলো আপনাকে বোর করবে না মোটেই। রোজই খেতে পারবেন নিত্য নতুন সব খাবার!


১। সকালে একটি দারুন খাবার চিঁড়ে ও দই। কিন্তু সেই একঘেয়ে চিঁড়ে-দই কতদিন ভালো লাগে? জেনে নিন একটা মজার কৌশল। জল দিয়ে ধুয়ে রাখা চিঁড়ার মাঝে ফেটানো দই দিন, সাথে যোগ করুন নারকেল কোরা, বাদাম, শুকনো বা তাজা ফল, এক চিমটি লবণ ও সামান্য দুধ। ব্যাস, তৈরি আপনার দারুণ হেলদি ব্রেকফাস্ট!
২। সাধারণ প্যানকেক তৈরিতে অনেক ঝামেলা৷ ফ্রিজে রাখা রুটি দিয়ে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন ব্রেড প্যানকেক। রুটি গুলো দুধে ভিজিয়ে নরম করে একেবারে ভর্তা বানিয়ে নিন। সাথে ডিম ও নুন যোগ করুন। পাতলা করতে আরও দুধ দিন। এবার আপনার ইচ্ছা মত চিনি, অথবা পেঁয়াজ মরিচ ও মশলা যোগ করে তৈরি করে নিন পাতলা প্যানকেক। স্বাদে কিন্তু দারুণ এই খাবারটি!

৩। নুডুলস তৈরি করতে বেশ ঝামেলা৷ অথচ পেটভরানো কিছু খেতে চান? তাহলে তৈরি করে ফেলুন চিঁড়ের পোলাও। চিঁড়ে ধুয়ে নিন। এরপর প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ একটু ভেজে একটি ডিম ঝুরি করে নিন। চাইলে সবজি দিতে পারেন। সামান্য জিরে ও মরিচ গুঁড়ো দিয়ে ভাজুন। চিঁড়ে দিয়ে দিন। একটু ভেজেই নামিয়ে নিন। তৈরি মজাদার চিঁড়ের পোলাও।
৪। সকালে ওটস খেতে চান, কিন্তু রান্না করার সময় নেই? রাতে ঘুমাবার সময় ওটসের সাথে পরিমাণ মত দই ও দুধ দিয়ে, সাথে সামান্য চিনি ও কিসমিস দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। চাইলে ফ্রিজেও রাখতে পারেন। সারা রাত তরল শুষে ওটস নরম হয়ে যাবে। সকালে আপনি পাবেন একদম তৈরি ব্রেকফাস্ট! চাইলে ফল যোগ করে খেতে পারেন।
৫। ডিম আর রুটি খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে গেছেন? তৈরি করে ফেলুন দারুণ স্বাদের এক খাবার৷ একটি বা দুটি ডিমকে নুন ও দুধ দিয়ে গুলে নিন। এবার প্যানে তেল বা মাখন অল্প আঁচে গরম করে এই ফেটানো ডিম দিয়ে দিন। এবার এই ডিমের ওপরে দিন আপনার যা ইচ্ছা। গাজর, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ব্রকলি দিতে পারেন। সসেজ টুকরো, ফ্রিজে রাখা রান্না করা চিকেন, চিংড়ি, এমনকি ফ্রিজে চিকেন ফ্রাই থাকলে সেটাও টুকরো করে দিতে পারেন। দিতে পারেন চিজ কিংবা রুটি টুকরোও।
আপনার যা ভালো লাগে উপরে ছড়িয়ে দিন। একটু ভাজা জিরের গুঁড়ো, ধনে পাতা বা চাট মশলা দিতে পারেন দেশী স্বাদ চাইলে। এরপর ঢাকনা লাগিয়ে অল্প আঁচে রাখুন। নিচে জমে গেলে এবং ওপরে ডিম রান্না হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন। চাইলে ওভেনে ৫ মিনিট বেকও করে নিতে পারেন। এটি নিজেই একটি সম্পূর্ণ ডিশ, এর সাথে অন্য কিচ্ছু প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে এর সাথে যে কোন কিছুই খেতে পারেন৷