বিশ্বের সবথেকে দামী গয়না
স্যাফায়ার রিং অফ প্রিন্সেস ডায়না :
এই আংটিটি প্রিন্সেস ডায়না পরেছিলেন৷ তারপর থেকেই এই রিংটির নাম স্যাফায়ার রিং অফ প্রিন্সেস ডায়না৷ এটির দাম ৪৫০,০০০ ডলার৷
কুইন মেরি জোস এমাব়্যাল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড নেকলেস :
কুইন মেরি জোস ইতালির শেষ রাণী৷ তাঁর নামেই এই রিংটির নামকরণ করা হয়েছে৷ এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামী গয়নাগুলির মধ্যে একটি৷ তবে এর সঠিক মূল্য কোথাও প্রকাশ করা যায় না।
মেরি অ্যানন্টিয়োনেট নেকলেস :
এই নেকলেসটিতে রয়েছে দুটো বিরল হলুদ ডায়মন্ড এবং একটি পিঙ্ক ডায়মন্ড৷ আর বাকিসব সাদা ডায়মন্ড৷ এটির মূল্য ৩.৭ মিলিয়ন ডলার৷
হ্যারি উইন্সটন ডায়মন্ড ড্রপ ইয়াররিং :
এটি তৈরি হয়েছে ২০০৬ সালে৷ এটির দাম ৮.৫ মিলিয়ন ডলার৷
ব্রায়োলিটি ডায়মন্ড নেকলেস :
এটি বিখ্যাত ৭৫.৩৬ ক্যারেট ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে৷ এটির দাম ১১ মিলিয়ন ডলার৷
বুলগারি ব্লু ডায়মন্ড রিং :
এটিতে গাঢ় ডায়মন্ড নীল রঙের হীরে ব্যবহার করা হয়েছে৷ দাম ৯.৪ মিলিয়ন ডলার৷
পিঙ্ক ডায়মন্ড :
এটি হালকা গোলাপি রঙের ডায়মন্ড ব্যবহার করা হয়েছে৷ দাম ১৭.৭৭ ডলার৷
হার্ট অফ দ্য এশিয়ান :
টাইটানিক সিনেমায় নায়িকা রোজকে এই হার পরতে দেখা গিয়েছিল৷ এটির দাম ২০ মিলিয়ন ডলার৷
দ্য পারফেক্ট পিঙ্ক :
এটি একটি দারুণ এবং মূল্যবান পাথর৷ রঙ,কাটিং এবং স্বচ্ছতাই এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে৷ এর দাম ২৩.২ মিলিয়ন ডলার।
দ্য অরেন্স :
এটি ভিভিট অরেঞ্জ ডায়মন্ড৷ এটির দাম ৩৬ মিলিয়ন ডলার৷
৭১-এর যুদ্ধে ৯৩০০০ পাক বন্দিকে এক ‘অজ্ঞাত’ কারণে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভারত
১৯৭২-এর ২ অগাস্ট। ঠিক আট মাস আগেই শেষ হয়েছে ১৩ দিনের ভারত-পাক যুদ্ধ।
এদিন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিমলা চুক্তি। আর ফলে ভারত ৯৩০০০
পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। ৭১-এর যুদ্ধ চলাকালীন এদের
বন্দি করা হয়েছিল ভারতে। এটা ছিল ভারতের অত্যন্ত বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত।
কেন এই সময় ওই বন্দিদের হাতের তাস করে কাশ্মীর নিয়ে দরাদরি করেননি তৎকালীন
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী? হয়ত মিটে যেত সমস্যা!
কিসের জন্য পাক বন্দিদের ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে যান ইন্দিরা? এর পিছনে আসল
গল্প কি ছিল? সেটা জানলে হয়ত বিতর্কের সমাধান হত। কিন্তু সেই গল্প রয়ে
গিয়েছিল গোপনেই। কোনোদিন তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ৪০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে
গিয়েছে সেই যুদ্ধের। সেদিন কেন পাক বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই রহস্য
উদঘাটন করেছেন এক অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়।
THE WIRE পত্রিকায় তিনি লিখেছেন সেই ইতিহাস। ২৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাক
যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করে ঢাকায়। ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর যৌথ
কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা। ভারত আর বাংলাদেশের জন্য সে এক
ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু সেইসময় ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারত অন্য এক বিপদের
মুখোমুখি হয়েছিলেন। একদিকে, যুদ্ধের বিপুল খরচ, তার উপরে পূর্ব পাকিস্তান
থেকে আসা প্রায় ১ কোটি শরণার্থী, যারা পাক সেনার অত্যাচারে সীমান্ত পার করে
চলে এসেছিল তাদের খরচ। তার মধ্যে বাড়তি খরচ এই ৯৩০০০ পাক সেনা।
ইন্দিরা গান্ধীর মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল, কিভাবে শেখ মুজিবর রহমানকে
নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়। তার জন্য যে কোনও মূল্য দিতে রাজি ছিলেন তিনি।
সেকথা তিনি একজনকেই বলেছিলেন। তিনি হলেন তৎকালীন RAW প্রধান রাম নাথ রাও।
পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্টে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে, নৃশংসভাবে
হত্যা করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। সেটাই ছিল ইন্দিরা গান্ধীর সবথেকে বড়
দুঃস্বপ্ন। হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল ভারত। তাই মুজিবর রহমানকে
হত্যা করা হলে, ভারতের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। এটাই ছিল ভয়। বাংলাদেশকে
‘অনাথ’ দেখতে চাননি তিনি।
এদিকে, পরাজয়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন পাক
প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহা খান। আমেরিকায় থাকা জুলফিকর আলি ভুট্টোকে ফোন
করে সেকথা জানান। দায়িত্ব দিয়ে যান ভুট্টোকেই। তড়িঘড়ি রাওয়ালপিন্ডির বিমান
ধরেন ভুট্টো।
ইন্দিরার ঐতিহাসিক কূটনীতি:
ভুট্টোর ফেরার খবর পেয়েই জরুরি মিটিং ডাকেন ইন্দিরা গান্ধী। ভুট্টোর
বিমান রিফুয়েলিং-এর জন্য থামার কথা ছিল হিথরো বিমানবন্দরে। ইন্দিরা গান্ধী
চেয়েছিলেন, সেইসময় সেখানে উপস্থিত থাকুক কোনও ভারতীয় প্রতিনিধি। যাতে তিনি
জানতে পারেন, মুজিবর রহমানকে নিয়ে কি ভাবছেন তিনি? সেই বৈঠকে ছিলেন
বিদেশমন্ত্রকের উপদেষ্টা দূর্গা প্রসাদ ধর, RAW প্রধান রাম নাথ কাও,
প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি পিএন হাসকার, বিদেশ সচিব টিএন কাউল।
মুজফ্ফর হোসেন, পূর্ব পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ভারতে
যুদ্ধবন্দি হন এবং ডিপি ধরের বাড়িতে অতিথির মর্যাদায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী
ছিলেন লন্ডনে। ফলে সেইসময় কূটনীতিকদের মাধ্যমেই যোগাযোগ করতেন
স্বামী-স্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,
তিনিই দু’জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলেন ফলে দু’জনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক তৈরি
হয়ে যায়। লায়লা ছিলেন ভুট্টোর একসময়ের বান্ধবী। সেই লায়লাকেই কাজে লাগান
ইন্দিরা। ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে পাঠান লায়লাকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই।

মুজিবরকে নিয়ে কি ভাবছেন সেটা জানা। এই শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ই লায়লাকে
জানান, তিনি আতে হিথরো বিমানবন্দরে গিয়ে একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভুট্টোকে
বলেন, তাঁর স্বামীকে ভারত থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে। সেইমত এয়ারপোর্টের
লাউঞ্জে দেখা হয় দু’জনের। কথাবার্তা শেষে লায়লাকে কাছে টেনে তাঁর কানে কানে
একটা বার্তা দেন ভুট্টো। বলেন, ‘লায়লা আমি জানি, তুমি কি জানতে এসেছ। একটা
মেসেজ দিও ইন্দিরা গান্ধীকে। বোলো, আমি মুজিবর রহমানকে মুক্তি দেব। কিন্তু
বদলে কি চাইব? সেটা পরে জানাব।’
বার্তা জানান লায়লা। তবুও সন্দেহ দূর হয় না। ভারতকে ভুল পথে চালিত করছেন
না তো ভুট্টো? কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সন্দেহের অবসান হল। খবরটা
সত্যি সেটাই জানা গেল। বদলে চাওয়া হল ৯৩০০০ যুদ্ধবন্দিকে। ১৯৭২-এর ৮
জানুয়ারি ছেড়ে দেওয়া হল মুজিবর রহমানকে। ফিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর
দায়িত্ব নিলেন তিনি। এর ঠিক আট মাস পরে ছেড়ে দেওয়া হয় ওইসব পাক
যুদ্ধবন্দিদের।
মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক সাত শহর
গ্লোবালাইজেশনের যুগে যে হারে ধর্ষণ, নারী
নির্যাতনে মত ঘটনা ঘটছে তাতে বিশ্বের কোনও কোণাতেই মহিলারা সুরক্ষিত নন৷
তবে এই বিষয়ে নিয়েই সম্প্রতি থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন একটি সমীক্ষা
চালিয়েছে৷ প্রায় ৬,৫৫০ জন মহিলার উপর পরীক্ষা চালানো হয় এই গবেষণা৷ এতে
দেখা গিয়েছে বিশ্বে এমন সাতটি শহর রয়েছে যেখানে পরিবহন ব্যবস্থা নারীদের
জন্য একেবারেই সুরক্ষিত নয়৷
ভারত
অসুরক্ষিত শহরের তালিকায় সবার প্রথমেই
উঠে এসেছে ভারতের নয়া দিল্লির নাম৷ এখানে কোনও মহিলা যদি একা একা ঘুরে
বেড়াতে চান তবে তা একেবারেই সম্ভব নয়৷ বিশেষ করে সন্ধ্যের পর৷ আড়াই কোটি
মানুষের বাস এই শহরে৷ জনসংখ্যার দিক থেকে এটিই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম
রাজধানী৷ ২০১২ সালে নির্ভয়া কাণ্ডই এর সবচেয়ে বড় জ্বলন্ত প্রমাণ৷ শুধু
নির্ভয়া একা নয়, তার পরেই দিল্লিতে প্রায় প্রতিদিনই অন্তই একজন করে
মহিলা লাঞ্চনার শিকার হয়ে চলেছেন৷
কলম্বিয়া
মহিলার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিবহণ
ব্যবস্থার তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে কলম্বিয়ার বোগোটা শহর৷ সমীক্ষা
বলছে, এই শহরে প্রায় ৯৬ লক্ষ মানুষের বাস৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও এই শহরের
বাস বা ট্রেন পরিষেবা একেবারেই নিম্ন মানের৷ দেখা গিয়েছে রাতে দিকে কোনও
মহিলা বাসে বা ট্রেনে একা চলাফেরা করলে তাকে যৌন হয়রানি বা ছিনতাইয়ের
শিকার হন৷
মেক্সিকো
মেক্সিকো সিটিতে প্রায় ২ কোটি ১০ লক্ষ
মানুষ বসবাস করেন৷ এটি মেক্সিকোর রাজধানীও৷ কিন্তু সভ্য শহর হয়েও এই শহরের
নারীরা অসুরক্ষিত৷ এই শহরে যে মহিলারা গণপরিবহণের মাধ্যমে যাতায়াত করেন
তারা প্রতিনিয়তই শ্লীলতাহানি ও শারীরিক হেনস্তার শিকার হন৷
পেরু
পেরুর রাজধানী লিমা শহরে প্রায় ৬২ লক্ষ
মানুষের বাস৷ এই শহরটি যদিও একটি অনুন্নত দেশের অধীনে৷ এই শহরের এক
তৃতীয়াং মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করেন৷ সেকারণেই এখানকার পরিবহণ
ব্যবস্থা নারীদের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ ছিনতাই, যৌন হয়রানি বা
শ্লীলতাহানির ঘটনা এই শহরের নিত্যদিনের সঙ্গী৷
ইন্দোনেশিয়া
ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা শহরের যোগাযোগ
ব্যবস্থাও একেবারেই বেহাল৷ ইতিমধ্যেই সাধারণ পরিবহণে নারীদের যৌন হয়রানির
ঘটনার ফলে ব্যাপ সমালোচনার মুখে পড়েছে সেদেশের সরকার৷ সেকারণেই ট্রেনে ও
বাসে মহিলাদের বসার আলাদা ব্যবস্থা করে হয়েছে৷ এখানকার বাসে পকেটমারির
ঘটনা একেবারেই সাধারণ৷
মালয়েশিয়া
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর শহরে পর্যটনের
ক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয়৷ কিন্তু এশহরের চিত্রটাও একই রকম৷ দেখা গিয়েছে
এশহরের রাতের বেলায় এক একজন নারী একেবারেই নিরাপদ নন৷
ব্যাংকক
সাধারণ কোনও পর্যটক বিদেশ যাত্রা বলতেই
বোঝেন ব্যাংকক-পাটায় ট্রিপ৷ দক্ষিণ এশিয়ার পর্যটকদের কাছে অন্যতম
জনপ্রিয় ব্যাংককও নারীদের জন্য অসুরক্ষিত৷ বাসে বা ট্রেনে প্রতিনিয়তই যৌন
হেনস্তার শিকার হন মহিলারা৷
যৌনসম্পর্ক আছে এমন মেয়েদের ‘সস্তা বেশ্যা’ বলছে
নিউজিল্যান্ডে একটি মাধ্যমিক স্কুলে
ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অতি-রক্ষণশীল যৌন শিক্ষার পুস্তিকা বিতরণ! যা নিয়ে
জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
‘নিরাপদ যৌনজীবন’ বা ‘সেফ সেক্স’ নামের ওই
পুস্তিকায় বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করেছে এমন মেয়েদের ‘সস্তা বেশ্যা’, এবং
বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকছে এমন যুগলকে ‘মজ্জাগতভাবে দায়িত্বহীন
ব্যভিচারী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি এই বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে,
‘কেউ সমকামিতায় লিপ্ত হলে তার জন্য মৃত্যু ও নরক অপেক্ষা করছে।’
ক্রাইস্টচার্চের পাপানুই হাই স্কুলের
স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্লাসে ১৫ বছরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই পুস্তিকা বিলি
করা হয়। এর পর এক ছাত্রের মা এ নিয়ে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে অনলাইনেও
ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে জোর বিতর্ক দানা
বেঁধেছে।
স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জেফ স্মিথ অবশ্য বলছেন, ছাত্রদের কাছে
একটি উগ্র মতাদর্শকে তুলে ধরার জন্যেই বইটি বিলি করা হয়েছে। যদিও এতে
স্কুলের নিজস্ব আদর্শের কোন প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য জেফ স্মিথের।
সন্তানের খাবার যোগাতে ৫০ টাকার জন্য ‘ন্যুড মডেল’
নগ্নতার সম্মান৷ শুনতে কানে লাগে৷ অথচ নগ্নতার নান্দনিকতা যুগ যুগ ধরে
পূজিত হয়ে এসেছে৷ নগ্নতা সমাজের কাছে দৃষ্টিকটু৷ কিন্তু শিল্পীদের কাছে
শিল্প, প্রেরণা৷ সেই নগ্নতা এবার যখন সসম্মানে উচ্চপদ লাভ করছে, স্থির
থাকতে পারেননি ন্যুড আর্টিস্টি লক্ষ্মী৷ দৃঢ়তার সঙ্গে বলে ফেললেন, “নগ্নতা
শেষমেশ সম্মান পাচ্ছে৷ আমি খুব খুশি৷”
আসছে রবি যাদব পরিচালিত ছবি ন্যুড৷ একটি
ন্যুড আর্টিস্টকে নিয়ে ছবির গল্প৷ এবছর এপ্রিলে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার
কথা৷ এই ছবিরই প্রধান প্রোটাগনিস্ট লক্ষ্মী৷ তাঁর জীবনই স্টোরি লাইন৷ কথা
প্রসঙ্গে লক্ষ্মী জানিয়েছেন, যখন ছেলের মাত্র ৩ বছর বয়স, তাঁর স্বামী
মারা যান৷ দুচোখে অন্ধকার দেখেন লক্ষ্মী৷ কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি৷ হন্যে
হয়ে কাজ খুঁজেছিলেন সেই সময়৷ ছেলেকে তো বাঁচাতে হবে৷ সেই কারমেই প্রতিদিন
নিজের এক কাকিমাকে কাজের কথা বলতেন তিনি৷ কিন্তু সেই কাকিমা কোনও
উচ্চবাচ্য করতেন না৷ এরপর লক্ষ্মী নিজে মুম্বইয়ের জেজে স্কুলে যান৷
সেখানেই তাঁর কাকিমা কাজ করতেন৷ একদিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়৷ লক্ষ্মী
জানতে পারেন তাঁর কাকিমা সেখানে ন্যুড আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন৷ বলছিলেন
লক্ষ্নী৷
ওই কাকিমাই তাঁকে এই জগতের সন্ধান দেন৷ বলেন, লক্ষ্মী তো কাজ খুঁজছে৷ কাজ রয়েছে৷ কিন্তু ন্যুড আর্টিস্টের কাজ৷ লক্ষ্মী কি পারবে?
কথা শুনে একটু দ্বিধান্বিত হয়েছিলেন
লক্ষ্মী৷ কিন্তু মাথায় তখন ছেলেদের দায়িত্ব৷ তাই সাতপাঁচ ভেবে কাজটি
নিয়েই নেন তিনি৷ প্রথমদিনের কাজের অভিজ্ঞতা স্বভাবতই ছিল অস্বস্তিকর৷
হাজার হাজার পুরুষ চোখের মাঝে তাঁকে দেহ থেকে কাপড় সরাতে হয়েছিল৷ হতে
হয়েছিল সম্পূর্ণ নগ্ন৷ এমন নির্মম বাস্তব মানতে পারেননি তিনি৷ কান্নায়
ভেঙে পড়েছিলেন কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রফেসররা তাঁর পাশে দাড়িয়েছিলেন
সেদিন৷ বুঝিয়েছিলেন, নগ্নতা একটা আর্ট৷ এর মধ্যে নান্দনিকতার ছড়াছড়ি৷ আর
আজ সেই ভীরু লক্ষ্মীই বুক চিতিয়ে বলেন, “আমার কাজ পৃথিবীর সেরা কাজ৷”

তাঁর কাজকে অনেকেই ভালো চোখে দেখত না৷
এখন, যখন এই পেশা স্বীকৃতি পাচ্ছে, খুব খুশি লক্ষ্মী৷ তিনি এও বলেছেন, যখন
তিনি এই পেশায় এসেছিলেন, খুব একটা ভালো পারিশ্রমিক পেতেন না৷ সম্মানজনক
পেশাও ছিল না৷ কিন্তু তবু তিনি এই পেশায় আসেন, কারণ তাঁকে তাঁর সন্তানদের
পেট চালাতে হত৷ তাদের পড়াশোনা শেখাতে হত৷ তারা যেন দারিদ্রতাকে প্রত্যক্ষ
না করে, তার জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি৷
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় বসে থাকার জন্য আগে
একজন ন্যুড মডেল পেতেন মাত্র ৫০ টাকা৷ তবু এখন তা বেড়েছে৷ দাঁড়িয়েছে ৫০০
থেকে ১০০০ টাকা৷ কোনও কোনও দিন কাজ থাকত না৷ তখন টাকাও জুটতো না৷ কিন্তু
সৌভাগ্যের বিষয়, বেশিরভাগ দিনই মডেল হওয়ার জন্য তাদের ডাক পড়ত৷ লক্ষ্মী
বলেছেন, সিটিংয়ের মাঝে খুব কমবার ব্রেক পেতেন তাঁরা৷ বেশিরভাগ সময়ই
তাঁদের একই পোজিশনে বসে থাকতে হত৷ তবে নগ্নতার জন্য কখনও তাঁদের অসম্মান
করা হয়নি৷ ছাত্রছাত্রীদের ন্যুড মডেলদের সম্মান করতে শেখানো হত৷
আজও তা একচুলও নড়েনি৷ এখনও শিল্পীদের
চোখে তাঁদের কদর রয়েছে৷ শুধু পার্থক্য এই যে, অনেকেই তাঁদের এই পেশার জন্য
সম্মান দেয় না৷ কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলাবে৷ আশাবাদী লক্ষ্মী৷ অন্তত এমন ছবি
মুক্তি পাওয়ার পর দৃষ্টিভঙ্গি যে পালটাবে, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনও
দ্বিধা নেই৷
সময় এখন নিজেকে বদলানোর
এমনকি কখনো হয়, যখন কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদেরই ক্ষমা করতে হয়? কথায় বলে, ‘মানুষ বেঁচে থাকলে বদলায়’।
হ্যাঁ, প্রতিনিয়তই আমরা এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাই। তাই কিছুদিন আগেও যে আচরণ আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হতো, ঠিক সেটিই এখন আপনার কাছে ‘অপরাধ’ মনে হয়! আর নিজের মনের মধ্যে শুরু হয়ে যায় একটি দ্বন্দ্ব, যেখানে হয়তো অনেক সময় ভুল শোধরানো বা ক্ষমা চাওয়ার সময়টাও থাকে না।
আর এমন পরিস্থিতিতে নিজেই নিজের বন্ধু হিসেবে ভূমিকা পালন করুন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন নিজের প্রতিই।
বুঝতে শিখুন নিজেকেও
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলর অ্যানি বাড়ৈ বলেন, ‘কোনো মানুষই চিরদিন একরকম থাকে না। এটাকে আপনি ইতিবাচকভাবেই দেখতে পারেন। বয়স, পরিবেশ আর সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন দেখা দেয় মানুষের মাঝেও। নিশ্চয়ই আপনি স্কুলে যেমন আচরণ করতেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তেমন করবেন না। কেননা আপনি নিজে থেকেই বুঝতে শিখবেন কোনটি ঠিক।’
এমনও হতে পারে, আপনার শেখার গতি একটু মন্থর বা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আপনি এখনো আচরণ করেন সেই কৈশোরের মতো। কিন্তু তাই বলে এমনও নয় যে, আপনার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এই বয়স কিংবা পরিস্থিতিই আপনাকে অনুধাবন করায়, অতীতে ভুল ছিল আপনারও। আর সেই অনুযায়ী ক্ষমা করতে পারেন নিজেকেও। হয়তো আরেকটু চেষ্টা করলেই পরীক্ষায় এমন অকৃতকার্য হতে হতো না। একটু বুঝতে পারলেই হয়তো সম্পর্কটা এই পথে মোড় নিত না। তাই বলে সুযোগ এবং সময় কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, ‘নিজের ভুল ছিল, এই উপলব্ধি অনেক বড়। তাই অতীতে আটকে না থেকে এই মুহূর্ত থেকেই শুরু করুন নতুন পরিকল্পনা। আর ক্ষমা করুন নিজেকে।’
সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি
সময় ও সুযোগ কখনো শেষ হয়ে যায় না। চেষ্টা আর বিশ্বাসের মাধ্যমেই সুযোগকে নিয়ে আসতে হয়। পরীক্ষায় খারাপ করেছেন, তো কী হয়েছে? আপনার চলার পথ ওখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সামনে আরও অনেক পরীক্ষা আছে। তাই প্রস্তুতি নিন সামনের জন্য।
একই ভুল বারবার নয়
আপনি ভুল করেছেন। একবার, দুবার কিংবা সর্বোচ্চ তিনবার? কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই এ রকম সব সময়ই করবেন না। এতে অন্যরা যেমন আপনাকে নেতিবাচকভাবে নেবে, তেমনি আপনি নিজেও নিজের কাছে দোষী থেকে যাবেন।
সুযোগ থাকলে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া
কলেজের সেই বন্ধুটির সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিলেন বলে এখনো অনুতাপ হচ্ছে? তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। প্রযুক্তির যুগে এটা নানাভাবেই হতে পারে। দেখবেন, এতে আপনারই সবচেয়ে স্বস্তি লাগছে।
যদি এমন পরিস্থিতি না থাকে?
অনেক সময় দেখা যায়, সেই মানুষ বা পরিস্থিতি থাকে না। ক্ষতি হয়ে যায় বেশি। সে ক্ষেত্রে নিজেকেই বোঝাতে শিখুন। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করুন, আপনি কেন অমন আচরণ করেছিলেন? আপনিও কি কোনো ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন? সময় কিংবা বয়স কোনোটা আপনার পক্ষে ছিল না? অন্য পক্ষেরও দোষ থাকতে পারে। সেই হিসেবেই সামনে এগিয়ে চলুন।
নিজ রীতিনীতি এবং মূল্যবোধ মেনে
কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আপনি নিজেও দ্বিধান্বিত হয়ে পড়বেন। প্রিয় মানুষটির কিছু আচরণ হয়তো আপনার জীবনের সঙ্গে মিলছে না। তখন আপনি কী করবেন? সঙ্গীটিকেও সময় দিন এবং অবশ্যই নিজের মূল্যবোধগুলো মেনে চলুন। এটা খুবই স্বাভাবিক, দুজন মানুষের মানসিকতা এক হয় না, যত কাছের মানুষই হোক না কেন। সে ক্ষেত্রে দুজন আলোচনা করতে পারেন। যদি আপনার নিজের বা পরিবারের খুব ক্ষতি না হয়, তবে সঙ্গীকেও কিছু দূরত্ব দিন।
সময় দিন নিজেকেও
অন্যকে বোঝার আগে চেষ্টা করুন নিজেকে বুঝতে। নিজের প্রতিই সমানুভূতি আগে গড়ে তুলুন। নিজের প্রতি আস্থা না থাকলে মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকবে। হয়তো এ কারণেই আপনি সঙ্গীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বসতে পারেন। এর জন্য কিন্তু দিন শেষে আবারও আপনি নিজেকেই দোষী বলবেন।
কিছু বিষয় যেতে দিনআমাদের চলার পথে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। সেখানে সব সময়ই ভালো হবে, এমন না। কেননা ভালো আর মন্দ দুটা মিলিয়েই আমাদের জীবন। তাই আপনি পারেননি বা সামনেও পারবেন না, এমন মনোভাব ঝেড়ে ফেলুন।
নেতিবাচক মানুষ এড়িয়ে
একেকজনের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই বিচার করুন এবং বিশ্বাস রাখুন নিজের প্রতি। আপনি যদি মনে করেন, নিজেকে শুধরে নিয়ে কাজ করলে সফল হবেন, তাহলে চেষ্টা করতেই পারেন। কেননা আপনি যেভাবে চিন্তা করবেন, আপনার কাজেও ঠিক সে রকমই প্রভাব পড়বে।
তাই সবার আগে হাত বাড়িয়ে দিন নিজের প্রতি।
দেবর-ভাশুরেরা বঞ্চিত করছেন?
স্বামীর মৃত্যুর পর হেলেনা
(ছদ্মনাম) এক মেয়ে এবং ছেলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই আছেন। সন্তান দুটিই
অপ্রাপ্তবয়স্ক। নিজে শিক্ষকতা করে কোনোরকমে নিজের ও সন্তানদের খরচ জোগান।
স্বামী মৃত্যুর সময় কিছু জায়গাজমি রেখে গেছেন। হেলেনা আশা করছিলেন তাঁর এবং
ছেলেমেয়ের প্রাপ্য জায়গা-সম্পত্তির অংশ তাঁর দেবর ও ভাশুরেরা বুঝিয়ে
দেবেন। দিন কাটতে থাকে আশায় আশায় কিন্তু তাঁর প্রাপ্য অংশ আর বুঝে পান না।
হেলেনা কী করবেন এখন?
স্বামীর মৃত্যুর পর এক নাবালক মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন আরেক ভুক্তভোগী নারী। যখন তাঁর স্বামী মারা যান, তখন তাঁর শ্বশুর জীবিত। শ্বশুরও স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ মাস পর মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর তাঁর আর মেয়ের প্রাপ্য সম্পত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও শ্বশুরের অসুস্থতার কারণে আর তা হয়ে ওঠেনি। এখন স্বামীর ভাইয়েরা মিলে বলছেন, তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে তাঁর কিছু অংশ পেলেও তাঁর মেয়ে কোনো ভাগ পাবে না। ওই ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে কি আসলেই কোনো ভাগ পাবে না?
আমাদের সমাজে এমন ঘটনা হরহামেশাই দেখা যায়। স্বামী মারা গেলে স্বামীর ভাই, অর্থাৎ দেবর কিংবা ভাশুর থাকলে তাঁরা তাঁদের মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি তাঁর স্ত্রী কিংবা সন্তানদের দিতে চান না। বিশেষ করে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো সন্তান থাকে, তাহলে তাঁদের বঞ্চিত করার একটা সুযোগ সবাই খুঁজতে থাকেন। কিন্তু মুসলিম আইন অনুযায়ী এ সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ থেকে তাঁদের বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। দেওয়ানি আদালতে বণ্টনের মোকদ্দমা দায়ের করে তাঁদের অংশ দাবি করা যাবে।
এখানে ওপরের প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে বলা যায়, হেলেনা তাঁর স্বামীর সম্পত্তির ১ ভাগের ৮ অংশ পাবেন এবং বাকি সম্পত্তি পুত্র এবং কন্যা ২: ১ অনুপাতে পাবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর দেবর-ভাশুরেরা কোনো সম্পত্তি পাবেন না। সন্তান যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই এ সম্পত্তি মায়ের দখলেই থাকবে, তবে সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝিয়ে দিতে হবে। তবে মা যদি সন্তানদের সম্পত্তি বিক্রি করতে চান, তাহলে পারিবারিক আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে। যদি দেবর কিংবা ভাশুরেরা সম্পত্তি না দিতে চান, তাহলে দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নিতে হবে।
দ্বিতীয় ঘটনাটির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারীটি তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে ভাগ পাবে এবং তার মেয়েও সম্পত্তি পাবে। এ নিয়ে দেবর-ভাশুর যা-ই বলুন না কেন, তা টিকবে না। যেহেতু স্বামী মারা যাওয়ার সময়ও শ্বশুর বেঁচে ছিলেন, তাই তাঁর স্বামীর অংশের শ্বশুর মালিক হবেন ১ ভাগের ৬ অংশ, তিনি মালিক হবেন ১ ভাগের ৮ অংশ এবং তাঁর মেয়ের অংশ হবে সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং বাকি সম্পত্তিও তাঁর শ্বশুর পাবেন। আবার শ্বশুরের মৃত্যুর পর শ্বশুরের সম্পত্তির ভাগও প্রতিনিধিত্ব নীতি অনুসারে ভুক্তভোগী নারীটির মেয়ে পাবে। যদি তাঁকে ও মেয়েকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে বণ্টন বা বাঁটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করে তাঁদের অংশ বুঝে নিতে পারেন।
লেখক:
তানজিম আল ইসলাম
আইনজীবী,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
স্বামীর মৃত্যুর পর এক নাবালক মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন আরেক ভুক্তভোগী নারী। যখন তাঁর স্বামী মারা যান, তখন তাঁর শ্বশুর জীবিত। শ্বশুরও স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ মাস পর মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর তাঁর আর মেয়ের প্রাপ্য সম্পত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও শ্বশুরের অসুস্থতার কারণে আর তা হয়ে ওঠেনি। এখন স্বামীর ভাইয়েরা মিলে বলছেন, তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে তাঁর কিছু অংশ পেলেও তাঁর মেয়ে কোনো ভাগ পাবে না। ওই ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে কি আসলেই কোনো ভাগ পাবে না?
আমাদের সমাজে এমন ঘটনা হরহামেশাই দেখা যায়। স্বামী মারা গেলে স্বামীর ভাই, অর্থাৎ দেবর কিংবা ভাশুর থাকলে তাঁরা তাঁদের মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি তাঁর স্ত্রী কিংবা সন্তানদের দিতে চান না। বিশেষ করে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো সন্তান থাকে, তাহলে তাঁদের বঞ্চিত করার একটা সুযোগ সবাই খুঁজতে থাকেন। কিন্তু মুসলিম আইন অনুযায়ী এ সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ থেকে তাঁদের বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। দেওয়ানি আদালতে বণ্টনের মোকদ্দমা দায়ের করে তাঁদের অংশ দাবি করা যাবে।
এখানে ওপরের প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে বলা যায়, হেলেনা তাঁর স্বামীর সম্পত্তির ১ ভাগের ৮ অংশ পাবেন এবং বাকি সম্পত্তি পুত্র এবং কন্যা ২: ১ অনুপাতে পাবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর দেবর-ভাশুরেরা কোনো সম্পত্তি পাবেন না। সন্তান যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই এ সম্পত্তি মায়ের দখলেই থাকবে, তবে সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝিয়ে দিতে হবে। তবে মা যদি সন্তানদের সম্পত্তি বিক্রি করতে চান, তাহলে পারিবারিক আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে। যদি দেবর কিংবা ভাশুরেরা সম্পত্তি না দিতে চান, তাহলে দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নিতে হবে।
দ্বিতীয় ঘটনাটির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারীটি তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে ভাগ পাবে এবং তার মেয়েও সম্পত্তি পাবে। এ নিয়ে দেবর-ভাশুর যা-ই বলুন না কেন, তা টিকবে না। যেহেতু স্বামী মারা যাওয়ার সময়ও শ্বশুর বেঁচে ছিলেন, তাই তাঁর স্বামীর অংশের শ্বশুর মালিক হবেন ১ ভাগের ৬ অংশ, তিনি মালিক হবেন ১ ভাগের ৮ অংশ এবং তাঁর মেয়ের অংশ হবে সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং বাকি সম্পত্তিও তাঁর শ্বশুর পাবেন। আবার শ্বশুরের মৃত্যুর পর শ্বশুরের সম্পত্তির ভাগও প্রতিনিধিত্ব নীতি অনুসারে ভুক্তভোগী নারীটির মেয়ে পাবে। যদি তাঁকে ও মেয়েকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে বণ্টন বা বাঁটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করে তাঁদের অংশ বুঝে নিতে পারেন।
লেখক:
তানজিম আল ইসলাম
আইনজীবী,
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
হঠাৎ আঘাত পেলে
হঠাৎ আঘাত পেলে শরীরের ওই নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত চাপে ফুলে যায়। এ ধরনের আঘাতে যে সমস্যা হয় তাকে সাধারণত সফট টিস্যু ইনজুরি বলে। আঘাত হাতে-পায়ের, কোমরের বা শরীরের অন্য জায়গার মাংসপেশি, হাড়, হাড়ের জোড়, নার্ভ বা লিগামেন্টের অবস্থানগত পরিবর্তনের জন্য ব্যথা হয়। আবার কেউ মাথায়ও আঘাত পেতে পারে, ফলে বাহ্যিক-অভ্যন্তরীণ দুই ধরনেরই ক্ষতি হতে পারে। একেক জায়গার আঘাতে চিকিৎসার ধরন পরিবর্তিত হয়ে থাকে। সব আঘাতই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু মাথায় আঘাত সব সময় বেশি গুরুত্ব বহন করে।
হঠাৎ হাতে-পায়ে আঘাত পেলে কী হয়—
• আঘাতপ্রাপ্ত জায়গা ফুলে যায়
• প্রচণ্ড ব্যথা হয়
ওই অংশটি লাল হয়ে যায় এবং গরম থাকে। এটা হয় কোনো দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে, মাংসপেশিতে হঠাৎ টান লাগলে কিংবা পা পিছলে পড়ে গেলে। আর এসব কারণে সফট টিস্যু ইনজুরি হয়। আঘাতের তীব্রতা বেশি হলে হাড় ভেঙে যেতে পারে। হাড় ভেঙে গেছে সন্দেহ হলে অবশ্যই এক্স-রে করাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিতে হবে।
এমন আঘাতে কী করবেন
আক্রান্ত জায়গায় বরফ ব্যবহার করতে হবে ১৫-২০ মিনিট ধরে। ভিজা গামছার ভেতর বরফ নিয়ে আক্রান্ত অংশে মুড়িয়ে দিন। যদি বেশি ঠান্ডা লাগে, ৩ মিনিট পর উঠিয়ে ফেলুন। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে আবার ১২-১৪ মিনিট ধরে পেঁচিয়ে রাখুন। আক্রান্ত অংশ ফুলে গেলে ক্রেব ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন, যাতে আর ফুলতে না পারে। আক্রান্ত অংশ বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে উঁচু করে রাখুন, যাতে হৃৎপিণ্ড বরাবর থাকে। এই অবস্থায় হালকা ব্যায়াম, হালকা মালিশ, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। রোগীকে ৬-৭ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। লক্ষ রাখতে হবে রোগী আবার যেন আঘাত না পায়।
ব্যথা ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসহ অন্য চিকিৎসা নিতে হবে।
মাথায় হঠাৎ আঘাত পেলে কী করবেন
আকস্মিক দুর্ঘটনায় কারও মাথায় আঘাত লাগতে পারে। যেমন ক্ষণিকের ভুলে কোলের শিশু পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায়, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের মাথায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘মাথায় আঘাত পাওয়া রোগীর সঙ্গে অন্য আঘাত থাকতে পারে। যেমন তার ঘাড়ে সারভাইক্যাল ইনজুরি থাকতে পারে। তার লাম্বোসেকরাল কোমড স্পাইনাল ইনজুরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার নড়াচড়া হতে হবে খুব সীমিত।’
মাথায় আঘাত পাওয়া কোনো রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কি না ঠিকমতো। যদি শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক না থাকে, দেখতে হবে নাকে–মুখে কোনো বাধা আছে কি না। যদি দেখা যায়, মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে, জায়গাটি চেপে ধরে বন্ধ করতে হবে। অচেতন রোগীকে বেশি টানাটানি করা হলে হয়তো ঘাড়ে আঘাত পেয়ে যেতে পারে। সেই অবস্থায় তাকে আস্তে আস্তে তুলে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
মাথায় আঘাত লাগার ফলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো মাথাব্যথা, বমি বা বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি, অচেতন অবস্থা, দুই চোখের নিচে রক্ত জমে কালো রং ধারণ বা ব্ল্যাক আই ইত্যাদি।
এ বিষয়ে পরামর্শ
অনেকেই মনে করেন, মাথায় আঘাত লাগলেই নিশ্চিত মৃত্যু। ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আঘাতের মাত্রা নির্ণয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে ক্ষতির মাত্রা কমবে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত লাগার পর রোগীকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও পরে হঠাৎ অবস্থা জটিল হতে পারে।
কোমরে ব্যথা পেলে
কোমরে ব্যথা পাওয়ার পর হাঁচি অথবা কাশি দিতে গিয়ে কোমরে ব্যথা লাগবে। কোমরের ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে যায় এবং অনেক সময় ব্যথা শুধু পায়েই অনুভূত হয়, কোমরে না–ও হতে পারে। হাঁটলে বা কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যায়, রাতে ঘুমেরও ব্যাঘাত হতে পারে। অনেক সময় রোগী পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। কোনো কোনো রোগীর কোমর একদিকে বেঁকে যায় এবং চিত হয়ে শুয়ে পা উঁচু করলে তার ব্যথা অনুভূত হবে।
এই অবস্থায় ভারী জিনিস তোলা নিষেধ এবং শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই বন্ধ থাকবে।
এরকম আঘাতের ব্যথার কারণ বের করে যদি সঠিক চিকিৎসা করা যায়, তাহলে ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।
লেখক: চিকিৎসক
মো. শরিফুল ইসলাম
কর্মক্ষেত্রে আত্মপ্রত্যয়ী হবেন যে উপায়ে
অফিসের ছোট ছোট কাজ এগিয়ে রাখলে চাপ কমবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে। মডেল: তাসনুভা
ঘড়ির কাঁটা ধরে অফিস করতে করতে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। একই কাজ প্রতিদিন করতে করতে একঘেয়েমি বোধ করি। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার—কাজ আর কাজের মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে বেশ নিরস জীবন তৈরি হয়। নৈরাশ্য ভর করে আমাদের মননের ওপর। যার প্রভাব পড়ে কাজের মান ও প্রকৃতির ওপর। মনের জোর কি সপ্তাহের সব দিন একই রঙের থাকে?
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কনজ্যুমার প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাক্টসের যোগাযোগ প্রধান সুরাইয়া সিদ্দিকা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দারুণ কাজ করা যায়। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে কাজে চাপ থাকবেই। যে যত চাপ নিয়ে ভালো কাজ করতে পারেন তিনিই আত্মপ্রত্যয়ী। নিজেকে যদি আপনি গুছিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে যত বড় কাজই হোক না কেন আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারবেন।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সুরাইয়া সিদ্দিকা কর্মক্ষেত্রে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠার কয়েকটি পরামর্শ দিচ্ছেন।
ছোট ছোট কাজ আগে করে ফেলুন
দিনের শুরুতেই অফিসে পা রেখেই ছোট কাজগুলো সেরে নিন। ছোট ছোট কাজ শেষ করতে পারলে মনে আরও কাজ তৈরির আগ্রহ জন্মে। শুরুতেই যদি কঠিন কোনো কাজ করেন আর তাতে যদি আপনি ব্যর্থ হন তাহলে দিনের বাকি সময়টা কিন্তু একটু খারাপ লাগবেই।
অবসর-বিরতি নিন
নিয়মিত কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নিন। একটু হালকা শরীরচর্চা কিংবা হাঁটাচলা করুন, এতে মন আর শরীর দুটোরই কর্মক্ষমতা বাড়বে।
বহুমাত্রিক কাজ এড়িয়ে চলুন
বহুমাত্রিক কাজ সব সময়ই পরিহার করবেন। একটি একটি করে কাজ শেষ করুন। এ ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সহায়তা নিন। আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি অনেক কাজ আপনার ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে তাঁকে বুঝিয়ে কাজের গুরুত্ব অনুসারে কাজ শুরু করুন।
কাজের তালিকা লেখার অভ্যাস করুন
প্রতিদিন কী কী কাজ করবেন, তা একটি ডায়েরিতে টুকে রাখার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন সকালে অফিসে আসার সময় যাত্রাপথে সেই তালিকা দেখে কাজের গুরুত্ব ভাগ করে নিতে পারেন। কাজের তালিকা করার অভ্যাস থাকলে একসঙ্গে অনেক কাজের ভিড় লেগে যায় না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
কর্মক্ষেত্রে নিজের সামাজিক যোগাযোগ সাইটে অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। হুটহাট মেসেঞ্জারে কথা বলা কিংবা ছবি পোস্ট করবেন না। অফিসের আট ঘণ্টা ব্যক্তিগত কাজে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
মুঠোফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন
কাজের সময় মুঠোফোনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় মুঠোফোন বন্ধ করে রাখতে পারেন। কাজের সময় ক্ষুদ্র আলাপের মাধ্যমে মুঠোফোনের কার্যকর ব্যবহার শিখুন।
১ শতাংশ সময় নিজের উন্নয়নে ব্যয় করুন
যতই কাজ করুন না কেন নিজের জন্য ১ শতাংশ সময় রাখুন। দুপুরের খাবার বিরতিতে খানিকটা বই পড়তে পারেন। কিংবা ইউটিউব থেকে কোনো ভিডিও দেখে নিজের কোনো দক্ষতা বিকাশের সুযোগ নিন।
সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন
ধরুন, বেলা ১১টায় মিটিং। আপনি ১১টায় হুড়মুড় করে তাড়াহুড়ো করে মিটিংয়ে শুধু উপস্থিত হন নিয়মিত। এমন অভ্যাস পরিহার করুন। চেষ্টা করুন, সময়ের আগে বিভিন্ন মিটিংয়ে হাজির হতে। মিটিংয়ে কী নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে, তা আগে থেকেই ভেবে নিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিটিংয়ে সময় না দিয়ে ২০ থেকে ৩৫ মিনিটের মধ্যে সব মিটিং শেষ করুন।
নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে
নিজের কী কী ঘাটতি, কোথায় দুর্বলতা তা খুঁজে বের করে তা দূর করার চেষ্টা করুন। আপনার সহকর্মীদের এ ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে উৎসাহ দিন। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে তাহলে তার কারণ অনুসন্ধান করে পরবর্তী কাজটি ভালোমতো করুন।
সকালের সময়টা কাজে লাগান
প্রতিদিন সকালের সময়টা কার্যকরভাবে কাটানোর চেষ্টা করুন। বাড়িতে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। সময়ের কিছু আগে অফিসে আসার অভ্যাস করুন। বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব কম হলে হেঁটে আসার অভ্যাস করুন।
পরামর্শ নিতে শিখুন
কর্মক্ষেত্রে আমরা সাধারণত অন্যদের মতামত তেমন গুরুত্ব দিই না, যা মারাত্মক একটি ভুল। সহকর্মী, উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা সবার কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার মনোভাব গড়ে তুলুন।
শুধু নিজের অফিসই নয় নিজের পেশা ক্ষেত্রের অন্য অফিসের অভিজ্ঞদের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক গড়ে তুললে আপনি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
বাংলাদেশ দলকে নিষিদ্ধ করতে বলেছিলেন হরভজন!
আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছিলেন বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়েরা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এ নিয়ে সমালোচনা শুনতে হয়েছে তাঁকে। তিন যুগ আগে নিজেই অমন কীর্তি করা সুনীল গাভাস্কারও সাকিবের সমালোচনা করার আগে দুবার ভাবেননি। তবে সমালোচনায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন হরভজন সিং। নিদাহাস ট্রফির ওই ঘটনায় পুরো বাংলাদেশ দলকেই নাকি কয়েক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।
শৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে হরভজনের মুখ খোলাটা একটু কঠিন। আইপিএলে জাতীয় দলের সতীর্থ শ্রীশান্তকে চড় মেরেছিলেন এই অফ স্পিনার। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে খেলার সময় তো একই দলের আম্বাতি রাইডুর সঙ্গেও বেধে গিয়েছিল তাঁর। অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের সঙ্গে তাঁর বর্ণবাদী বিতর্ক এখনো আলোচনার জন্ম দেয়। সেই হরভজন বাংলাদেশ দলকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, ‘আমি নিজেই এ রকম অনেক ঘটনায় জড়িত ছিলাম, তবু এ নিয়ে কথা বলছি। এসব এমন ঘটনা, ভবিষ্যতে যখন এ ঘটনা মনে পড়বে, তখন লজ্জা পাবেন। যা ঘটেছে তা ক্রিকেটের জন্য দুঃখজনক এবং বাংলাদেশ হয়তো অনেক সমর্থক হারিয়েছে।’
মাঠে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ায় নুরুল হাসান ও সাকিবকে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করেছেন ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড। সঙ্গে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে এ দুজনকে। মাঠের ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের দরজা ভাঙা পাওয়া গিয়েছিল। হরভজনের ধারণা, বাংলাদেশ লঘু শাস্তি পেয়েছে।
গতকাল ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে আলোচনায় ফাইনালের আগে পুরো বাংলাদেশ দলকেই নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিলেন হরভজন, ‘ওরা যা করেছে, সেটা অবশ্যই উচিত হয়নি। ওরা কিছু ভাঙতে পারে না। আম্পায়ারিংয়ে ভুল ছিল কিন্তু ম্যাচে হতেই পারে। আপনি দলের খেলোয়াড়দের ডেকে আনতে পারেন না এবং উদ্যাপনের জন্য জানালা ভাঙতে পারেন না। ক্রিস ব্রডের উচিত ছিল আরও কঠোর হওয়া। আমি খুব অবাক হয়েছি যে মাত্র ২৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা করা হয়েছে। ওদের অন্তত কয়েক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। পুরো দলকেই নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।’
সূত্রঃ প্রথম আলো
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। এ নিয়ে সমালোচনা শুনতে হয়েছে তাঁকে। তিন যুগ আগে নিজেই অমন কীর্তি করা সুনীল গাভাস্কারও সাকিবের সমালোচনা করার আগে দুবার ভাবেননি। তবে সমালোচনায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন হরভজন সিং। নিদাহাস ট্রফির ওই ঘটনায় পুরো বাংলাদেশ দলকেই নাকি কয়েক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।
শৃঙ্খলা-সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে হরভজনের মুখ খোলাটা একটু কঠিন। আইপিএলে জাতীয় দলের সতীর্থ শ্রীশান্তকে চড় মেরেছিলেন এই অফ স্পিনার। মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে খেলার সময় তো একই দলের আম্বাতি রাইডুর সঙ্গেও বেধে গিয়েছিল তাঁর। অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের সঙ্গে তাঁর বর্ণবাদী বিতর্ক এখনো আলোচনার জন্ম দেয়। সেই হরভজন বাংলাদেশ দলকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, ‘আমি নিজেই এ রকম অনেক ঘটনায় জড়িত ছিলাম, তবু এ নিয়ে কথা বলছি। এসব এমন ঘটনা, ভবিষ্যতে যখন এ ঘটনা মনে পড়বে, তখন লজ্জা পাবেন। যা ঘটেছে তা ক্রিকেটের জন্য দুঃখজনক এবং বাংলাদেশ হয়তো অনেক সমর্থক হারিয়েছে।’
মাঠে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ায় নুরুল হাসান ও সাকিবকে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করেছেন ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড। সঙ্গে এক ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে এ দুজনকে। মাঠের ওই ঘটনার পর বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের দরজা ভাঙা পাওয়া গিয়েছিল। হরভজনের ধারণা, বাংলাদেশ লঘু শাস্তি পেয়েছে।
গতকাল ইন্ডিয়া টুডের সঙ্গে আলোচনায় ফাইনালের আগে পুরো বাংলাদেশ দলকেই নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিলেন হরভজন, ‘ওরা যা করেছে, সেটা অবশ্যই উচিত হয়নি। ওরা কিছু ভাঙতে পারে না। আম্পায়ারিংয়ে ভুল ছিল কিন্তু ম্যাচে হতেই পারে। আপনি দলের খেলোয়াড়দের ডেকে আনতে পারেন না এবং উদ্যাপনের জন্য জানালা ভাঙতে পারেন না। ক্রিস ব্রডের উচিত ছিল আরও কঠোর হওয়া। আমি খুব অবাক হয়েছি যে মাত্র ২৫ শতাংশ ম্যাচ ফি জরিমানা করা হয়েছে। ওদের অন্তত কয়েক ম্যাচ নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল। পুরো দলকেই নিষিদ্ধ করা উচিত ছিল।’
সূত্রঃ প্রথম আলো
ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবেন যেভাবে
এখনকার
সময়ে ক্যারিয়ারের অগ্রগতি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে তরুণ
চাকরিজীবীদের জন্য। পড়াশোনা শেষে বেশির ভাগ তরুণই অধৈর্য হয়ে পড়েন এবং অনেক
সময় পেশায় স্থির হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা
হতাশও হয়ে পড়েন। তাই তাঁদের জন্য কিছু পরামর্শ উল্লেখ করা হচ্ছে, যা তাঁদের
কর্মজীবন পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
স্মার্ট সিভি তৈরি
সিভি সব সময়ই আপনাকে এবং আপনার দক্ষতা ও জ্ঞানকে প্রতিফলিত করে। নবীন যাঁরা তাঁদের উদ্দেশে বলছি, আপনাদের উচিত হবে না অনেক কিছু সিভির মধ্যে উল্লেখ করা। আপনাদের অবশ্যই একটি কাভার লেটার সংযুক্ত করতে হবে, যেখানে আপনি উল্লেখ করতে পারবেন, আপনি একজন নবীন। যে কারণে চাকরিতে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু আপনি সেখানে বলতে পারবেন, আমি একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট এবং ছাত্রাবস্থায় আমি বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি দ্রুত কাজ শিখতে এবং নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে মনোনিবেশ করতে পারি। বড় হওয়ার জন্য আমার মধ্যে প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাই, বড় কোনো অবদান রাখার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে পারব। আপনাকে মনে রাখতে হবে, সিভিতে প্রকৃত অবস্থান উল্লেখ করার মাঝে কোনো ভুল নেই। নিজের চিন্তাভাবনার ব্যাপারে সততা সব সময়ই অন্যের মাঝে ইমপ্রেশন তৈরি করে।
ইন্টারভিউর মুখোমুখি হওয়া
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, আপনি যখন কোনো ইন্টারভিউ বোর্ডে যাবেন, তখনই ইন্টারভিউ যাঁরা নেন তাঁরা প্রথম দেখায় আপনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। মনে রাখতে হবে, প্রথম ইমপ্রেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবশ্যই আপনাকে মার্জিত পোশাক পরতে হবে। ইন্টারভিউয়ে নিজের স্মার্টনেস প্রকাশ করবেন কিন্তু কখনো ওভার স্মার্ট হবেন না। প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে স্মার্ট ও যথাযথভাবে। যেই প্রশ্নের উত্তর আপনি জানেন, সেগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন উদাহরণসহ। আপনি যদি কোনো উত্তর জেনে না থাকেন, সে ক্ষেত্রে বলতে পারেন, সরি স্যার, আমার কোনো ধারণা নেই। মনে রাখবেন, সবকিছু জানা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার স্মার্ট ও কনফিডেন্ট (ওভার কনফিডেন্ট নয়) উত্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের কাজ সম্পর্কে জানা
আপনাকে অবশ্যই নিজের কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জানতে হবে; কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না। কাজটাকে বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি দ্রুত কাজ সম্পর্কে না জানেন, তাহলে আপনার জন্য নিজের কাজে কোনো অবদান রাখাটা কঠিন হয়ে পড়বে। একজন ফ্রেশার হিসেবে আপনি কম জানতেই পারেন কিন্তু আপনাকে কাজ করতে হবে সিনসিয়ারলি, যাতে আপনি নিজের কাজটা খুব দ্রুত শিখতে পারেন। কাজের ব্যাপারে আপনাকে হতে হবে পেশাদার।
প্রতিষ্ঠানকে বোঝা
যেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন সেই প্রতিষ্ঠানকে বোঝা খুব জরুরি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ভিন্ন—সেটা সরকারি, মাল্টিন্যাশনাল অথবা জাতীয় হোক না কেন। প্রাথমিক ধাপে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি বা লক্ষ্যের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটাই উত্তম। ব্যবসা ও কাজের ওপর নির্ভর করে তরুণদের উচিত ধাপে ধাপে নিজেদের খাপ খাওয়ানো। এ ক্ষেত্রে তাদের উচিত সিনিয়র, সহকর্মীদের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কঠোর পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই। কিন্তু এটাও সত্যি, কেবল কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয় নিজের উন্নতির জন্য। কাজ সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে হতে হবে স্মার্ট। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই তাঁদের দিকেই মনোনিবেশ করে, যাঁরা তাদের কাজের ব্যাপারে নিবেদিত। মনে রাখবেন, ১০০ ভাগ কাজ করা মানে এই নয় যে তিনি তাঁর পরবর্তী ধাপের জন্য উপযুক্ত। ১০০ ভাগ কার্যোপযোগীর মানে হলো, তিনি তাঁর বর্তমান অবস্থানের জন্য যোগ্য। সুতরাং আপনাকে একটু বেশি কাজ করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠান আপনাকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য যোগ্য মনে করে।
সিভি সব সময়ই আপনাকে এবং আপনার দক্ষতা ও জ্ঞানকে প্রতিফলিত করে। নবীন যাঁরা তাঁদের উদ্দেশে বলছি, আপনাদের উচিত হবে না অনেক কিছু সিভির মধ্যে উল্লেখ করা। আপনাদের অবশ্যই একটি কাভার লেটার সংযুক্ত করতে হবে, যেখানে আপনি উল্লেখ করতে পারবেন, আপনি একজন নবীন। যে কারণে চাকরিতে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু আপনি সেখানে বলতে পারবেন, আমি একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট এবং ছাত্রাবস্থায় আমি বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি দ্রুত কাজ শিখতে এবং নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে মনোনিবেশ করতে পারি। বড় হওয়ার জন্য আমার মধ্যে প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাই, বড় কোনো অবদান রাখার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে পারব। আপনাকে মনে রাখতে হবে, সিভিতে প্রকৃত অবস্থান উল্লেখ করার মাঝে কোনো ভুল নেই। নিজের চিন্তাভাবনার ব্যাপারে সততা সব সময়ই অন্যের মাঝে ইমপ্রেশন তৈরি করে।
ইন্টারভিউর মুখোমুখি হওয়া
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, আপনি যখন কোনো ইন্টারভিউ বোর্ডে যাবেন, তখনই ইন্টারভিউ যাঁরা নেন তাঁরা প্রথম দেখায় আপনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। মনে রাখতে হবে, প্রথম ইমপ্রেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবশ্যই আপনাকে মার্জিত পোশাক পরতে হবে। ইন্টারভিউয়ে নিজের স্মার্টনেস প্রকাশ করবেন কিন্তু কখনো ওভার স্মার্ট হবেন না। প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে স্মার্ট ও যথাযথভাবে। যেই প্রশ্নের উত্তর আপনি জানেন, সেগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন উদাহরণসহ। আপনি যদি কোনো উত্তর জেনে না থাকেন, সে ক্ষেত্রে বলতে পারেন, সরি স্যার, আমার কোনো ধারণা নেই। মনে রাখবেন, সবকিছু জানা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার স্মার্ট ও কনফিডেন্ট (ওভার কনফিডেন্ট নয়) উত্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের কাজ সম্পর্কে জানা
আপনাকে অবশ্যই নিজের কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জানতে হবে; কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না। কাজটাকে বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি দ্রুত কাজ সম্পর্কে না জানেন, তাহলে আপনার জন্য নিজের কাজে কোনো অবদান রাখাটা কঠিন হয়ে পড়বে। একজন ফ্রেশার হিসেবে আপনি কম জানতেই পারেন কিন্তু আপনাকে কাজ করতে হবে সিনসিয়ারলি, যাতে আপনি নিজের কাজটা খুব দ্রুত শিখতে পারেন। কাজের ব্যাপারে আপনাকে হতে হবে পেশাদার।
প্রতিষ্ঠানকে বোঝা
যেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন সেই প্রতিষ্ঠানকে বোঝা খুব জরুরি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ভিন্ন—সেটা সরকারি, মাল্টিন্যাশনাল অথবা জাতীয় হোক না কেন। প্রাথমিক ধাপে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি বা লক্ষ্যের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটাই উত্তম। ব্যবসা ও কাজের ওপর নির্ভর করে তরুণদের উচিত ধাপে ধাপে নিজেদের খাপ খাওয়ানো। এ ক্ষেত্রে তাদের উচিত সিনিয়র, সহকর্মীদের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কঠোর পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই। কিন্তু এটাও সত্যি, কেবল কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয় নিজের উন্নতির জন্য। কাজ সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে হতে হবে স্মার্ট। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই তাঁদের দিকেই মনোনিবেশ করে, যাঁরা তাদের কাজের ব্যাপারে নিবেদিত। মনে রাখবেন, ১০০ ভাগ কাজ করা মানে এই নয় যে তিনি তাঁর পরবর্তী ধাপের জন্য উপযুক্ত। ১০০ ভাগ কার্যোপযোগীর মানে হলো, তিনি তাঁর বর্তমান অবস্থানের জন্য যোগ্য। সুতরাং আপনাকে একটু বেশি কাজ করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠান আপনাকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য যোগ্য মনে করে।
প্লাস্টিকের বদলে কাগজের কাপ
কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানায় কাগজ দিয়ে পরিবেশবান্ধব কাপ তৈরির কাজ তদারক করছেন প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী কাজী সাজেদুর রহমান। সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁওয়ে। ছবি: সাজিদ হোসেন
- ২০১২ সালে যাত্রা শুরু হয় কাজী সাজেদুর রহমানের কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজের।
- দেশে চাহিদা বাড়ছে।
- বর্তমানে মাসে ১ কোটি ২০ লাখ কাপ বিক্রি হয়।
- পূর্বাচলে গড়ে তুলছেন নতুন কারখানা।
দেশে ফিরেই শেয়ারবাজার থেকে নিজের সব টাকা তুলে নিলেন।
পেপার কাপের ব্যবসা বুঝতে গেলেন মালয়েশিয়া। চেষ্টা-তদবির করে একটি কারখানায়
উৎপাদনপ্রক্রিয়াও দেখে নিলেন। তারপর যন্ত্রপাতির খোঁজে ছুটলেন চীনে।
কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে যন্ত্রপাতি দেখার পাশাপাশি ১৫ দিনের প্রশিক্ষণও নিলেন।
দেশে ফিরে ব্যাংকঋণের আবেদন করলেন। প্রথমবার ব্যর্থ। তবে দ্বিতীয়বারের
চেষ্টায় সফল হলেন। ঋণপত্র খুলে আমদানি করলেন যন্ত্রপাতি। তেজগাঁওয়ে ভাড়া
করা ছোট কারখানায় যাত্রা শুরু করল কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ। আর পেছনের মানুষটি
হচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা কাজী সাজেদুর রহমান।
২০১২ সালের মে মাসে কেপিসির উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে
কেপিসির কারখানায় দিনে ৩ লাখ ৬০ হাজার পিস পেপার কাপ তৈরি হয়। কয়েকটি
ব্র্যান্ড এসব কাপ চা-কফি, কোমল পানীয়, দই ও আইসক্রিম বিক্রিতে ব্যবহার
করে। অনেক করপোরেট প্রতিষ্ঠান নিজেদের কর্মী ও গ্রাহকদের চা-কফি ও পানি
পরিবেশনের জন্য পেপার কাপ তৈরি করিয়ে নেয়।
কেপিসির করপোরেট গ্রাহকের তালিকায় আছে পেপসি, প্রাণ,
এসিআই, ইউনিলিভার, নেসলে, ইস্পাহানি, ইগলু, ডানো, বসুন্ধরা, শেভরন,
অ্যাপোলো হাসপাতাল, সোনারগাঁও হোটেল, বেক্সিমকোর মতো ২৮০টি প্রতিষ্ঠান।
খোলা বাজারেও পেপার কাপ বিক্রি করে তারা। সব মিলিয়ে মাসে ১ কোটি ২০ লাখ কাপ
বিক্রি হয়। তবে ৯০ শতাংশই ব্র্যান্ড ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানে যায়।
শুরু থেকেই ভালো সাড়া পাচ্ছে কেপিসি। প্রতিষ্ঠানটির
স্বত্বাধিকারী কাজী সাজেদুর রহমান বলেন, ‘উৎপাদন শুরুর পরের মাসে পেপার কাপ
নিয়ে আমরা আমেরিকান প্রতিষ্ঠান শেভরনের কার্যালয়ে গেলাম। আধা ঘণ্টা
আলোচনার পর তারা প্রতি মাসে দুই লাখ পিস কাপের ক্রয়াদেশ দিয়ে দিল। প্রতি
পিসের দাম ছিল ২ টাকা ২০ পয়সা। নিজেদের কর্মীদের পানি পানের জন্য এসব কাপের
ক্রয়াদেশ দেয় শেভরন। সেদিনই আমরা পেপার কাপ নিয়ে গুলশান কাঁচাবাজারে
গেলাম। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে ৩ হাজার কাপ বিক্রিও করে ফেললাম।’
কেপিসি বর্তমানে ১১ ধরনের কাগজের কাপের পাশাপাশি প্লেট বা
থালা ও বাটি তৈরি করছে। আকার ও নকশাভেদে প্রতিটি কাপ ৮০ পয়সা থেকে ৮ টাকা
দামে বিক্রি হয়। তা ছাড়া ২ থেকে ৪ টাকায় প্লেট এবং ৩ থেকে ৪ টাকায় বাটি
বানিয়ে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
পরিসংখ্যানও সাজেদুরের পক্ষেই কথা বলছে। গত ২০১৬-১৭
অর্থবছরে ১১ কোটি টাকার পেপার কাপ বিক্রি করে কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ। তার
আগের অর্থবছর তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৭ কোটি টাকা। তার মানে গত অর্থবছরই
কেপিসির প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৭ শতাংশ।
গত ৩১ জানুয়ারি তেজগাঁওয়ে কেপিসির কারখানায় গিয়ে দেখা যায়,
ছোট্ট কারখানায় পেপার কাপ উৎপাদনে ব্যস্ত শ্রমিকেরা। চীন থেকে আমদানি করা
কাগজের ওপর প্রথমে নকশা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোগো (প্রয়োজন অনুযায়ী)
ছাপানো হয়। তারপর নির্দিষ্ট কাপের আকার অনুযায়ী যন্ত্রে কাটা হয়। সেই কাগজ
যন্ত্রের মাধ্যমে তাপ দিয়ে কাপের আকার দেওয়া হয়। কাগজের দুই অংশ জোড়া দিতে
কোনো ধরনের আঠা বা অন্য কোনো উপাদান ব্যবহার করা হয় না।
শ্রমিক-কর্মচারী-কর্মকর্তা মিলে কিপিসিতে ৩৮ জন লোক কাজ করেন।
এদিকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কারখানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ
নিয়েছেন কাজী সাজেদুর রহমান। পূর্বাচলে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে ২৪ শতাংশ
জায়গার ওপর ১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগে নতুন কারখানার নির্মাণকাজ চলছে। সেখানে
কয়েক মাসের মধ্যেই উৎপাদন শুরু হবে। পুরোনো কারখানার সাতটি যন্ত্র সেখানে
যাবে। নতুন করে আসছে আরও সাতটি। বর্তমান কারখানায় দিনে ৩ লাখ ৬০ হাজার পিস
কাপ উৎপাদন হয়। নতুন কারখানায় উৎপাদনক্ষমতা বেড়ে হবে দৈনিক ৮ থেকে ১০ লাখ
পিস।
কেপিসি ছাড়া আরও ছয়টি কারখানা পেপার কাপ উৎপাদন করে। পেপার
কাপের মূল কাঁচামাল কাগজ। সেই কাগজ আমদানিতে ৬১ শতাংশ শুল্ক ও কর দিতে হয়।
অন্যদিকে পেপার কাপ উৎপাদনে প্রচুর কাগজ অপচয় হয়। যাঁরা অপচয় বন্ধ করতে
পারেন না, তাঁদের কারখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। সে জন্যই সাতটির মধ্যে
চারটি উৎপাদনে নেই বলে জানালেন কাজী সাজেদুর রহমান।
পূর্বাচলের কারখানায় উৎপাদন শুরু হলে পেপার কাপ রপ্তানি
শুরু করবে কেপিসি। ইতিমধ্যে বাহরাইন, নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া ও
নেদারল্যান্ডসের ক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। এমন তথ্য দিয়ে কাজী
সাজেদুর রহমান বললেন, ‘সারা বিশ্বে পেপার কাপের ২৮ হাজার কোটি ডলারের বাজার
আছে। যার বড় অংশই চীন, তুরস্ক ও ভারতের উদ্যোক্তাদের দখলে। ফলে ভালো সুযোগ
আছে। সেটাই আমরা কাজে লাগাতে চাই। সেই পরিকল্পনা নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।’
অবশ্য রপ্তানির চেয়ে দেশের বাজার নিয়ে বড় স্বপ্ন তরুণ এই
উদ্যোক্তার। তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশের মানুষ প্লাস্টিকের কাপের বদলে দেশের
কারখানায় উৎপাদিত পরিবেশবান্ধব কাগজের কাপে চা খাবেন। তবে তাঁর স্বপ্নের
পথে বাধা ভারতের কাপ। এসব কাপ কাঁচামালের (কাগজ) মতো একই শুল্ক দিয়ে আমদানি
হচ্ছে। তাতে দেশের উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। এ বিষয়ে নজর
দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি অনুরোধ জানালেন কেপিসির
স্বত্বাধিকারী। একই সঙ্গে কাগজ আমদানির শুল্ক কমানোর দাবি তাঁর। কারণ
হিসেবে তিনি বললেন, ভারতের উদ্যোক্তারা শূন্য শুল্কে পেপার কাপের কাগজ
আমদানি করতে পারেন। নেপালে সাড়ে ৭ শতাংশ ও মধ্যপ্রাচ্যে ৫ শতাংশ শুল্কে
কাগজ আমদানি করা যায়। আর বাংলাদেশে ৬১ শতাংশ শুল্ক।
২০১৬ সালে এসএমই ফাউন্ডেশনের বর্ষসেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার
পুরস্কার পান কাজী সাজেদুর রহমান। পুরস্কার নেওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি
তখনই সফল হব যখন আরও মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারব।’ আর গত সপ্তাহে
বললেন, ‘চলতি বছর কেপিসির জনবল বেড়ে ১০০ ছাড়িয়ে যাবে। তবে আমি আরও বড়
স্বপ্ন দেখছি।’
প্রেয়সীর চেয়ে ফোন প্রিয় ভারতীয়দের
হাল সময়ে নারী-পুরুষনির্বিশেষে স্মার্টফোনে আসক্ত। যাপিত জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন নিয়ে অনেকে নেতিবাচক কথাও শোনা যায়। তবে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য জানলে অনেকেই চমকে যেতে পারেন। প্রায় অর্ধেক ভারতীয় নাকি আপনজনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন তাঁর নিজের স্মার্টফোনকে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের জি নিউজ।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ (ভারতীয়), বিশেষত নতুন প্রজন্মের তরুণেরা ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে সংযোগ রেখে চলতে অনেক পছন্দ করেন। ভারতের ৪৭ শতাংশই প্রেমিক-প্রেমিকা বা মা-বাবার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন নিজের স্মার্টফোনকে। জন্মদাতা মা-বাবার সঙ্গে কথা না বলে পুরো একটি দিন কাটালেও নিজের হাল ফ্যাশনের স্মার্টফোন ছাড়া দিন কাটানো অনেকের পক্ষেই অসম্ভব ব্যাপার।
টেলি-কমিউনিকেশন সংস্থা মটোরোলা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ সমীক্ষাটি চালিয়েছে। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, মানুষ তাঁর নিজের জীবনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেক মানুষই জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পরপর নিজের অজান্তেই তাদের হাত চলে যায় ফোনে। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরও বেশি, প্রায় ৬৫ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ মানুষ স্বীকারও করেছেন, তাঁরা স্মার্টফোনের ‘নেশা’ ছাড়াতে পারছেন না।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া শতকরা ৫৩ জন স্মার্টফোনকে নিজের সেরা বন্ধু এবং অন্যতম প্রিয় সঙ্গী হিসেবে ভাবেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় দেশ ভারতে এ সংখ্যাটা আরও বেশি, প্রায় ৬৫ শতাংশ। ভারতের ৬৪ শতাংশ মানুষ আবার ফোন ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিত্য অভাবে ভুগছেন। ৭৭ শতাংশ ভারতীয় ফোন হারালে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
১৯৯০-২০০০ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের জেনারেশন-জেড হিসেবে আখ্যায়িত করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত স্মার্টফোনের ‘নেশা’য়। এ প্রবণতা তাঁরা ছাড়তে পারছেন না। ভারতে যার সংখ্যা প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৫৫ জন।
ওই সমীক্ষা বলছে, মানুষ ধীরে ধীরে তাঁর স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। মানুষ মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে। বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমে কমে গিয়ে ইন্টারনেট জগতে বিচরণ বাড়ছে। এ জগৎকেই আপন করে নিচ্ছেন সবাই।
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে একটি ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেন এমন একটি সমীক্ষা চালাল? জবাবে মটোরোলা জানাচ্ছে, স্মার্টফোন দৈনন্দিন জীবনে অন্যতম অপরিহার্য, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যেকোনো সংস্থারই আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে যায়। আগামী প্রজন্ম স্মার্টফোন সিনড্রোমে ‘আক্রান্ত’ বা ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়লে ক্ষতি সবার। তাই সময় থাকতেই সতর্ক করার জন্যই মটোরোলা এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগে ফলাফল প্রকাশ্যে জানা গেল। এখন সাবধান, আপনি কীভাবে বা কবে হবেন, তা আপনার ওপর নির্ভর করে।
সামাজিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে বারবার বলছেন, ফোনগুলো ছেড়ে কিছুটা সময় শুধু আপনজনদের সঙ্গেই কাটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি কমাতে হবে। জীবন ও ফোনের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।
শীতের পর আসছে ঝড়-ঝঞ্ঝা
*ফেব্রুয়ারি মাসে শীতের বিদায়ের পরপরই বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টি বয়ে যাবে। এর সঙ্গে তাপমাত্রাও বাড়বে।
* পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বদিকের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
* পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বদিকের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
এই
তো আর কয়েকটা সপ্তাহ, এরপরই শীত বিদায় নেবে। ফাগুনের আবাহনে পাততাড়ি
গুটাবে মাঘ। চলতি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আসবে বসন্ত। শুরু হবে ধূলি ওড়ানো
পাতাঝরা শুকনো দিন।
জানুয়ারিতে
কী শীতটাই না পড়েছিল! টানা শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু জনজীবন। ৮ জানুয়ারি যখন
উত্তরাঞ্চল ও আশপাশের এলাকায় এই শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়, তা অর্ধশত বছরের
সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙে। এ দিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা
ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র
শীতের এই রেকর্ড ৫০ বছর ধরে রেখেছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা।
পাহাড়-টিলায় ঘেরা এই এলাকায় ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ২ দশমিক
৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে এটিই ছিল বাংলাদেশে সর্বনিম্ন
তাপমাত্রার রেকর্ড। এর পর প্রতিবছর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও দেশের
কোথাও ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামার তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের কাছে নেই।
১০
জানুয়ারি তীব্র শৈত্য প্রবাহের মাত্রা কিছুটা কমে আসে। ১১ থেকে ২৪
জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১৪ দিন দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি
ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যায়। ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি ৪ দিন আবার দেশের উত্তর ও
পশ্চিমাঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্য প্রবাহ বয়ে যায়। এর সঙ্গে
কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল সারা দেশ। বাতাসের নিম্নœস্তরে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ
কিছুটা বেশি থাকায় নদী অববাহিকা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মধ্যরাত থেকে সকাল
পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে এবারের জানুয়ারি মাসে
গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিক চেয়ে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে ছিল
৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ গত ৩০ বছরের হিসাবে এই মাসের গড় সর্বনিম্ন
তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ফেব্রুয়ারির
প্রথম সপ্তাহে এখনো দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের কিছু এলাকায় বয়ে যাচ্ছে
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। কিন্তু হিমশীতল রূপে থাকছে না এই মাস। কারণ ১৩
ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে বাংলার ঋতুরাজ বসন্ত। মানে সেদিনই হবে পয়লা ফাল্গুন।
আর বসন্তে যেমন ফুল ফুটবে, গাছের পাতা ঝরবে, সঙ্গে তাপমাত্রাও বাড়তে
থাকবে। এ কারণে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের উত্তর,
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে দু-এক দিন শিলাবৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে।
কিন্তু শীতকাল বিদায় নিতে না নিতেই কেন এই ঝড় আর শিলাবৃষ্টি?
আবহাওয়াবিদ
আবুল কালাম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধে
দিনের ব্যাপ্তি কম থাকে। এই তারিখে রাত হয় দীর্ঘ। এর পরপরই সূর্যের
অবস্থান বদলে দিন বড় হতে থাকে। সূর্যের কিরণের তেজ বাড়ে। এর সঙ্গে পশ্চিমা
লঘুচাপ এবং পূর্বদিক থেকে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে
যেতে শুরু করে। পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বদিকের বাতাসের সংমিশ্রণ ঘটলে বজ্রঝড় ও
শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। মার্চ মাসে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টির মাত্রা বৃদ্ধি
পায়। তবে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে বজ্রঝড়-বৃষ্টির প্রাক-প্রস্তুতি দেখা যায়।
তাপমাত্রা
অবশ্য কয়েক দিন ধরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সকালে যা ছিল ৯ দশমিক ৪
ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩ দশমিক ৩
ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার সকালে সেটি ছিল ১৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আর আজ শুক্রবার সকালে ছিল ১৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী দুদিন রাতের
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে
উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতাও কমে আসতে পারে।
শ্রীদেবীর অজানা খবর
• শ্রীদেবীর আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াংগার আয়াপ্পাঁ।
• অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন শ্রীদেবী।
• ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন শ্রীদেবী।
* শ্রীদেবীর জন্ম ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের তামিলনাড়ুতে। তাঁর মায়ের নাম রাজেশ্বরী ইয়াংগার ও বাবার নাম আয়াপ্পাঁ ইয়াংগার। শ্রীদেবীর বাবা পেশায় ছিলেন আইনজীবী।
* শ্রীদেবীর আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াংগার আয়াপ্পাঁ।
* ১৯৬৯ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান শ্রীদেবী। ত্রিরুমুঘামের ভক্তিমূলক তামিল ছবি ‘তুনাইভান’ তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৭৫ সালে হিন্দি ছবি ‘জুলি’তেও তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন।
* নায়িকা হিসেবে বলিউডে শ্রীদেবীর প্রথম ছবি ‘ষোলা সাওয়ান’। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে।
১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া শ্রীদেবীর জনপ্রিয় ছবি ‘চালবাজ’-এর ‘না জানে কাহা সে আয়ি হ্যায়’ গানটির শুটিংয়ের সময় শ্রীদেবীর গায়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর ছিল। জ্বর নিয়ে গানটির শুটিং শেষ করেন তিনি।
* অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন শ্রীদেবী। ‘সাদমা’ (১৯৮৩), ‘চাঁদনি’ (১৯৮৯) ও ‘গারাজনা’ (১৯৯১) ছবির গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন।
* শ্রীদেবী হলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক স্টিভেন স্পিলবার্গের জনপ্রিয় ছবি ‘জুরাসিক পার্ক’-এ (১৯৯৩) অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু বলিউডের কয়েকটি ছবি নিয়ে তখন ব্যস্ত থাকায় সেই ইংরেজি ছবিতে আর অভিনয় করা হয়নি তাঁর।
মাতৃভাষা তামিল হওয়ার হিন্দি ছবি করতে গিয়ে শুরুতে হিমশিম খেতে হয় শ্রীদেবীকে। তখন তাঁর বয়স খুব বেশি না। ভালো হিন্দিও বলতে পারতেন না। শ্রীদেবীর প্রথম দিকের সব ছবিতে তাঁর চরিত্রের ডাব করতেন প্রয়াত অভিনেত্রী নাজ। ১৯৮৬ সালের ছবি ‘আখেরি রাস্তা’তে শ্রীদেবীর হয়ে ডাব করেন নায়িকা রেখা। হিন্দি ছবিতে শ্রীদেবীর নিজের কণ্ঠে প্রথম ডাব করেন ‘চাঁদনি’তে।
* বলিউড অভিনেত্রী জয়া প্রদাকে ধরা হতো শ্রীদেবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। দুজনের সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক ছিল না। একবার ‘মকসদ’ (১৯৮৪) ছবির শুটিংয়ের সময় ছবির নায়ক রাজেশ খান্না ও জিতেন্দ্র ঠিক করলেন এই দুই নায়িকার সম্পর্কের শীতলতা দূর করার জন্য কিছু করবেন। তাই চুপ করে দুজনকে একটি রুমে রেখে তাঁরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরটি খোলার পর দেখা যায় শ্রীদেবী আর জয়া প্রদা দুজন তখনো ঘরের দুই কোনায় চুপচাপ বসে আছেন।
শ্রীদেবীর জীবনে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় দুটি ছবি ‘নাগিনা’ ও ‘চাঁদনি’। যদিও দুটি ছবিতেই প্রথমে কাজ করার কথা ছিল অন্য নায়িকার। ‘নাগিনা’তে প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল জয়া প্রদার নাম আর ‘চাঁদনি’তে রেখার।
* আশির দশকে নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে গভীর প্রেম ছিল শ্রীদেবীর। কথিত আছে, তাঁরা মন্দিরে গিয়ে গোপনে বিয়েও করেছিলেন। তবে তাঁদের সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টেকেনি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরকে শ্রীদেবী বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। জাহ্নবী ইতিমধ্যেই বলিউডে তাঁর প্রথম ছবির শুটিং শুরু করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস।













