শ্রীদেবীর অজানা খবর

শ্রীদেবীর অজানা খবর

শ্রীদেবী। ছবি: রয়টার্সশ্রীদেবী। ছবি: রয়টার্স 
শ্রীদেবীর আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াংগার আয়াপ্পাঁ।
• অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন শ্রীদেবী।
• ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন শ্রীদেবী।
ননদের ছেলে মোহিত মারওয়ারের বিয়েতে অংশ নিতে পরিবারসহ শ্রীদেবী উড়াল দিয়েছিলেন দুবাইয়ে। সপ্তাহব্যাপী বিয়ের নানা আয়োজনে হইহুল্লোড় করে কেটেছে শ্রীদেবীর। ইনস্টাগ্রামে দুদিন আগেও তিনি বিয়েতে তোলা নিজের আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করেছেন। হুট করেই বলিউডের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের বিদায় মেনে নিতে পারছে না বলিউড। প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুশোকে স্তব্ধ বিশ্বব্যাপী তাঁর অগণিত ভক্ত। এই অভিনেত্রীর সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য এখানে জানতে পারবেন, যা হয়তো অনেকেই আগে জানতেন না।
মা-বাবার সঙ্গে ছোট্ট শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুকমা-বাবার সঙ্গে ছোট্ট শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুক
* শ্রীদেবীর জন্ম ১৯৬৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের তামিলনাড়ুতে। তাঁর মায়ের নাম রাজেশ্বরী ইয়াংগার ও বাবার নাম আয়াপ্পাঁ ইয়াংগার। শ্রীদেবীর বাবা পেশায় ছিলেন আইনজীবী।
* শ্রীদেবীর আসল নাম শ্রী আম্মা ইয়াংগার আয়াপ্পাঁ।
* ১৯৬৯ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান শ্রীদেবী। ত্রিরুমুঘামের ভক্তিমূলক তামিল ছবি ‘তুনাইভান’ তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র। ১৯৭৫ সালে হিন্দি ছবি ‘জুলি’তেও তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ করেন।
* নায়িকা হিসেবে বলিউডে শ্রীদেবীর প্রথম ছবি ‘ষোলা সাওয়ান’। ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৭৯ সালে।

শিশুশিল্পী হিসেবে কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুকশিশুশিল্পী হিসেবে কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছেন শ্রীদেবী। ছবি: ফেসবুক* 

১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া শ্রীদেবীর জনপ্রিয় ছবি ‘চালবাজ’-এর ‘না জানে কাহা সে আয়ি হ্যায়’ গানটির শুটিংয়ের সময় শ্রীদেবীর গায়ে ১০৩ ডিগ্রি জ্বর ছিল। জ্বর নিয়ে গানটির শুটিং শেষ করেন তিনি।
* অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের কয়েকটি ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন শ্রীদেবী। ‘সাদমা’ (১৯৮৩), ‘চাঁদনি’ (১৯৮৯) ও ‘গারাজনা’ (১৯৯১) ছবির গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন।
* শ্রীদেবী হলিউডের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক স্টিভেন স্পিলবার্গের জনপ্রিয় ছবি ‘জুরাসিক পার্ক’-এ (১৯৯৩) অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু বলিউডের কয়েকটি ছবি নিয়ে তখন ব্যস্ত থাকায় সেই ইংরেজি ছবিতে আর অভিনয় করা হয়নি তাঁর।
চলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরকে শ্রীদেবী বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। ছবি: ইনস্টাগ্রামচলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরকে শ্রীদেবী বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
মাতৃভাষা তামিল হওয়ার হিন্দি ছবি করতে গিয়ে শুরুতে হিমশিম খেতে হয় শ্রীদেবীকে। তখন তাঁর বয়স খুব বেশি না। ভালো হিন্দিও বলতে পারতেন না। শ্রীদেবীর প্রথম দিকের সব ছবিতে তাঁর চরিত্রের ডাব করতেন প্রয়াত অভিনেত্রী নাজ। ১৯৮৬ সালের ছবি ‘আখেরি রাস্তা’তে শ্রীদেবীর হয়ে ডাব করেন নায়িকা রেখা। হিন্দি ছবিতে শ্রীদেবীর নিজের কণ্ঠে প্রথম ডাব করেন ‘চাঁদনি’তে।
* বলিউড অভিনেত্রী জয়া প্রদাকে ধরা হতো শ্রীদেবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। দুজনের সম্পর্ক কখনোই স্বাভাবিক ছিল না। একবার ‘মকসদ’ (১৯৮৪) ছবির শুটিংয়ের সময় ছবির নায়ক রাজেশ খান্না ও জিতেন্দ্র ঠিক করলেন এই দুই নায়িকার সম্পর্কের শীতলতা দূর করার জন্য কিছু করবেন। তাই চুপ করে দুজনকে একটি রুমে রেখে তাঁরা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরটি খোলার পর দেখা যায় শ্রীদেবী আর জয়া প্রদা দুজন তখনো ঘরের দুই কোনায় চুপচাপ বসে আছেন।

দুই মেয়ে ও স্বামীর সঙ্গে শ্রীদেবী। ছবি: ইনস্টাগ্রামদুই মেয়ে ও স্বামীর সঙ্গে শ্রীদেবী। ছবি: ইনস্টাগ্রাম
 শ্রীদেবীর জীবনে অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় দুটি ছবি ‘নাগিনা’ ও ‘চাঁদনি’। যদিও দুটি ছবিতেই প্রথমে কাজ করার কথা ছিল অন্য নায়িকার। ‘নাগিনা’তে প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল জয়া প্রদার নাম আর ‘চাঁদনি’তে রেখার।

* আশির দশকে নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে গভীর প্রেম ছিল শ্রীদেবীর। কথিত আছে, তাঁরা মন্দিরে গিয়ে গোপনে বিয়েও করেছিলেন। তবে তাঁদের সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

এক আত্মীয়র বিয়েতে অংশ নিতে সপরিবারে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। সেখানে তোলা এই ছবি শ্রীদেবী গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।এক আত্মীয়র বিয়েতে অংশ নিতে সপরিবারে দুবাইয়ে গিয়েছিলেন শ্রীদেবী। সেখানে তোলা এই ছবি শ্রীদেবী গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন।

চলচ্চিত্র নির্মাতা বনি কাপুরকে শ্রীদেবী বিয়ে করেন ১৯৯৬ সালে। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান জাহ্নবী কাপুর ও খুশি কাপুর। জাহ্নবী ইতিমধ্যেই বলিউডে তাঁর প্রথম ছবির শুটিং শুরু করেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস।

মাশরাফি তাহলে ফিরছেন না

মাশরাফি বিন মুর্তজা আচমকাই এসেছিল খবরটা। গত বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কায় টস করতে নেমে। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ থেকে এমন আকস্মিক সরে যাওয়ার কারণ এখনো রেখে দিয়েছেন বন্ধ কপাটের ওপারে। যদিও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চাপ যে এতে মূল ভূমিকা রেখেছিল, সেটা জানতে বাকি নেই কারও। তবু মাশরাফি বিন মুর্তজা কখনোই কাউকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি। শ্রীলঙ্কায় কিংবা দেশে ফিরেও বারবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন আর বলেছেন ‘স্বেচ্ছায়’ সরে দাঁড়ানোর কথা। 

হাথুরুসিংহের ‘তরুণ প্রাণের টি-টোয়েন্টি দল’-এর স্বপ্নের বলি হওয়ায় যে দেশের ক্রিকেট বোর্ড সভাপতির সায় ছিল, সেটিও অজানা ছিল না। সেই নাজমুল হাসানই আবার এখন তাঁকে ফিরে পেতে চাইছেন দলে। সেই চাওয়া নিয়ে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ কথা বলেছেন মাশরাফির সঙ্গে। মাশরাফি ফিরবেন কি ফিরবেন না—এই প্রশ্নের একটা উত্তরের খোঁজও পাওয়া যাচ্ছে তাঁর কথায়, ‘মাশরাফিকে আমিই বলেছি, ফিরে আসার ব্যাপারটা চিন্তা করতে। কিন্তু আমি মনে করি না যে এখনো সে ওভাবে ভাবতে পেরেছে। আমি ওকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে ভাবতে বলেছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় না যে ও ফিরে আসতে চাইবে। আমার যেটা সন্দেহ, খেলবে না বলেই ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ 

অর্থাৎ কোনোভাবেই যে আর মাশরাফিকে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে ফেরানো যাচ্ছে না, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত করে দিয়েছেন মাহমুদ। আর সেই সিদ্ধান্তের প্রতি ক্রিকেট বোর্ডের শ্রদ্ধা রাখা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে মাশরাফির না ফেরাটা যে নিদাহাস ট্রফির বোলিং লাইনআপে একটা বড় ক্ষত হয়ে যাচ্ছে, সেটাও স্পষ্ট বুঝতে পারছে টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ, শ্রীলঙ্কায় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের জন্য এবার ‘সম্ভাবনা’র চেয়ে ‘অভিজ্ঞতা’র ওপরই বেশি ভরসা রাখছে নির্বাচক কমিটি। আজ বিকেলের মধ্যেই যে দল চূড়ান্ত হওয়ার কথা, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই টি-টোয়েন্টির অভিজ্ঞতা থেকেই নাকি সেখানে আবার ‘পুরোনো’তে ফেরার কথা ভাবছেন তাঁরা। 


যদিও সেটাই আবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় নির্বাচকদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অভিষেক হয়েছে তরুণ ছয় ক্রিকেটারের। যেটিকে বলা হয়েছিল ২০২০ বিশ্ব টি-টোয়েন্টির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। ছয় অভিষিক্তের মধ্যে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নাজমুল ইসলামের ২৫ রানে ২ উইকেট ছাড়া বাকিদের খুঁজেও পাওয়া যায়নি। সে কারণেই কি হঠাৎ করে তারুণ্যের আবাহন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া? 


মাহমুদ যে ব্যাখ্যাটি দেওয়ার চেষ্টা করলেন, সেটা অবশ্য স্পষ্ট করল না কিছুই। বরং টি-টোয়েন্টি দল নিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তহীনতাই যেন বেরিয়ে এল বেশি করে, ‘গত টি-টোয়েন্টিতে যারা সুযোগ পেয়েছিল, তারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। আমাদের কোনো না কোনো জায়গায় তো তরুণদের সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের ফিরে যেতে হবে অভিজ্ঞদের কাছে। যেহেতু নিদাহাস কাপে ভারত আছে, শ্রীলঙ্কা আছে, আমরা দেশের বাইরে খেলছি; একটু অভিজ্ঞতার আমাদের প্রয়োজন হবে বলে আমি মনে করি। সেটা বিবেচনার পাশাপাশি দু-একজন তরুণকে নিয়েও আমরা চিন্তা করব।’ 


একটি টুর্নামেন্টের দল নির্বাচন নিয়ে যখন এগোনো-পেছানোর চক্রে বাংলাদেশ, তখন আরেকটা চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না। নতুন বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিজুড়ে যে ‘অভিভাবক’হীন ছন্নছাড়া দলকে দেখা গেল, সেটির সমাধান এখনো হয়নি। ৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া নিদাহাস ট্রফির আগে দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রধান কোচ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। মাহমুদ অবশ্য জানিয়ে রাখলেন, যদি দলকে ‘আগলানো’র দায়িত্ব নেওয়ার প্রশ্ন আসে, আবারও তিনি তা নিতে প্রস্তুত! মাত্র কয়েক দিন আগেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট নোংরা হয়ে গেছে, এখানে আর থাকতে চান না। কে জানে, আবার কী ভেবে মত বদলালেন খালেদ মাহমুদ!
 গাছে-গাছে বিয়ে

গাছে-গাছে বিয়ে

বিয়ের অনুষ্ঠান, আর ব্যান্ড পার্টি থাকবে না! হোক না তা গাছের বিয়ে। আড়ম্বরের অভাব নেই।

 লক্ষ্য সবুজ, সুন্দর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়া। আর এ স্বপ্ন পূরণে গ্রীন সেভা‍র্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বেনাউল দ্য পাইপারের যৌথ ঘটকালিতে (উদ্যোগে) আয়োজন করা হলো গাছে-গাছে বিয়ে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিবেশ ভবন চত্বরে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ২০টি বিয়ে সম্পন্ন হয়। সবুজ এবং সম্পর্ক বাঁচানোর এ ঐতিহাসিক যাত্রায় ঢাকা, রংপুর এবং আশপাশের এলাকা থেকে নানা বয়স ও পেশার দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সুলতান আহমেদ এবং চিত্রনায়ক রিয়াজ বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। সবুজপ্রেমী মানুষের কলরব, বিয়ের ফাঁকে ফাঁকে গান, বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ ভবন চত্বর। বিয়ে শেষে সবাইকে বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

গাছে-গাছে বিয়ের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিরা একটি করে বিবাহযোগ্য গাছ নিয়ে আসেন। এরপর তাঁদের পছন্দমতো অন্য কারও গাছের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। এখানে কোনটি ছেলে গাছ বা কোনটি মেয়ে গাছ বা কোন গাছের কী ধর্ম—এসব বিচার্য ছিল না। বরং দুটো গাছের মাধ্যমে দুটো পরিচিত বা অপরিচিত পরিবারের মধ্যে এক ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই ছিল এ বিয়ের উদ্দেশ্য।


 পেয়ারাগাছে পরানো হচ্ছে মালা।
দুই গাছের মালাবদল।
গাছের বিয়ের অনুষ্ঠানে চিত্রনায়ক রিয়াজসহ অন্যরা।
বিয়ের অনুষ্ঠান, আর ব্যান্ড পার্টি থাকবে না! হোক না তা গাছের বিয়ে। আড়ম্বরের অভাব নেই।
শোক-শ্রদ্ধায় পিলখানায় নিহতদের স্মরণ

শোক-শ্রদ্ধায় পিলখানায় নিহতদের স্মরণ

পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজা 
 পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাশ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে আজ রোববার পালিত হচ্ছে পিলখানা হত্যা দিবস। সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর উপসামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন শ্রদ্ধা জানান।
বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাবনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাএ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনেরা কবরে ফুল দিয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পিলখানায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে কাল সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় বিজিবি সদর দপ্তরের বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।
পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে স্বজনেরা দোয়া পাঠ করেন। ছবি: হাসান রাজাপিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে স্বজনেরা দোয়া পাঠ করেন। ছবি: হাসান রাজা২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালটা শুরু হয়েছিল বার্ষিক বিশেষ আয়োজন দিয়ে। কিন্তু শেষ হলো রক্ত, লাশ আর বারুদের গন্ধে। সেদিন পিলখানায় বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহী জওয়ানেরা নৃশংসভাবে হত্যা করেন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের । হত্যাযজ্ঞ আর বীভৎসতায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। আজ রোববার সেই মর্মন্তুদ ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো। এই ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হয়েছে।

সবচেয়ে দূষিত বায়ুতে বাংলাদেশ দ্বিতীয়

• যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদন।
• ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে সূচক।
• বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯ তম স্থানে নেমে এসেছে।
• ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল।
• ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫ তম।
• গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা  ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে দূষিত  বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানপরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানবিশ্বের কোনো শহর স্থাপনার জন্য, কোনোটা আবার বৃক্ষ বা জলাভূমির জন্য বিখ্যাত হয়। রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের জন্য এখন আলোচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান-বিষয়ক প্রতিবেদনটি গত ২৩ জানুয়ারি ইপিএ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে একটি সূচক তৈরি করেছে। তাতে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম ওই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল, সে বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। অর্থাৎ গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে নেপাল, তারপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও কঙ্গোর নাম উঠে এসেছে। আর নির্মল বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর রয়েছে বার্বাডোজ, জর্ডান, কানাডা ও ডেনমার্ক।
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প থেকে দেশের আটটি শহরের বায়ুর মান প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দুই মাস ধরে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরের বায়ুর মান মারাত্মক ও খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হলো রাজধানী ঢাকা। এরপর রয়েছে রাজশাহী। বরিশাল সবচেয়ে কম দূষিত শহর হলেও এর বায়ু মানমাত্রার চেয়ে খারাপ, অর্থাৎ আশঙ্কাজনক।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দৈনিক বায়ু মানবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দেশের আটটি প্রধান জেলা শহরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বায়ুর মান ছিল সবচেয়ে খারাপ। ইপিএর প্রতিবদেনে একে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই দিনে ঢাকা ও সিলেটের বায়ু খুবই অস্বাস্থ্যকর। গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বায়ু ছিল অস্বাস্থ্যকর। রাজশাহী ও বরিশালের বায়ুকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে বায়ুর এই খারাপ অবস্থা রয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসজুড়ে ওই শহরগুলোর অধিকাংশের বায়ুর মান মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু প্রকল্পের পরিচালক মনজুরুল হান্নান খান প্রথম আলোকে বলেন, শীতের সময় সাধারণত বাতাসে দূষণের জন্য দায়ী ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা প্রায় ছয় হাজার ইটভাটা দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী। শীতে এগুলো চালু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত বেড়ে যাওয়ায় বাতাস স্বাভাবিকভাবেই দূষিত হয়ে পড়ে।
বায়ুর বৈশ্বিক মানদণ্ডকে অনুসরণ করে পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে। বায়ুর মানমাত্রার সূচক ১০০-এর ওপরে উঠলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। বায়ুতে ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও চার ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ পরিমাপ করে এ সূচক তৈরি করা হয়।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী, বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা ‘পিএম ২.৫’-এর মানমাত্রা হচ্ছে প্রতি কিউবিক মিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম। ‘পিএম ১০’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার মানমাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রাম।
২০১৫ সালে রাজধানীতে পিএম ২.৫-এর গড় ছিল ৮১ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৬ সালে ছিল ৭৬ মাইক্রোগ্রাম। পিএম ১০-এর গড় ২০১৫ সালে ১৪৮ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে আরও বেড়ে হয়েছে ১৫৮ মাইক্রোগ্রাম।
দূষণের উৎস
২০১৬ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কেইস প্রকল্পের আওতায় ঢাকার বায়ুদূষণের উৎস ও ধরন নিয়ে একটি জরিপ হয়েছে। নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব এয়ার রিসার্চের মাধ্যমে করা ওই জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার চারপাশে প্রায় এক হাজার ইটভাটায় নভেম্বরে ইট তৈরি শুরু হয়। এসব ইটভাটা বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী।
এ ব্যাপারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় সরকার নির্মল বায়ুর জন্য শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেই টাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বহুতল ভবন, সড়কে উন্নত মানের ফুটওভার ব্রিজ, অনেক কর্মকর্তার বিদেশ সফর হয়েছে। কিন্তু সরকারি ওই তথ্য প্রমাণ করছে দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে। তিনি বলেন, দেশের বেশির ভাগ ইটভাটায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রযুক্তি নেই। সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ করার সময় তাতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম উদ্যোগ বা পানি পর্যন্ত ছিটানো হচ্ছে না।
 কালো পতাকায় বাধা, আলালসহ আটক ২০

কালো পতাকায় বাধা, আলালসহ আটক ২০

পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: সাজিদ হোসেনপুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: সাজিদ হোসেনবিএনপির আজকের কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি পুলিশের প্রবল বাধার মুখে পড়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ তা ভন্ডুল করে দেয়। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। 
পুলিশ বলেছে, অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্য সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। বিএনপির কয়েক নেতা-কর্মীকে আটক করা হলেও সংখ্যাটা পুলিশ জানাতে পারেনি।
বিএনপির কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হুড়োহুড়িতে আহত হন বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবিএনপির কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হুড়োহুড়িতে আহত হন বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোআজ বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পতাকাও প্রদর্শন শুরু করেন অনেকে। এ সময় হঠাৎ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়। সেখান থেকে ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয়। তাদের ধাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়েন। পুরো এলাকায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশের ধাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোপুলিশের ধাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোওই ফটকের কাছ থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এটা কোন ধরনের আচরণ? সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটা কর্মসূচির মধ্যে এভাবে জলকামান দিয়ে পানি ছিটানো, লাঠিপেটা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের আচরণ হতে পারে না। রিজভী বলেন, ‘দলের মহাসচিবকেও তারা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
বিএনপির সূত্র জানায়, আজকের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ধাওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে আহত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী।
বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবেলা সোয়া ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করা হয়। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শিবলী নোমান আটকের কথা স্বীকার করলেও এর সংখ্যা বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকে তাঁদের কর্মসূচিতে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্যই তাঁদের পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
 এখানে তো বেশ আছি

এখানে তো বেশ আছি

এই অপেক্ষা ক্লান্তির, অনিশ্চয়তার। ভিনদেশে অচেনা পরিবেশে তারা বসে আছে একটু আশ্রয়ের আশায়। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে গতকাল ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে টেকনাফে ঢোকে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার। উপজেলার হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রের সামনে।  ছবি: গিয়াস উদ্দিন।এই অপেক্ষা ক্লান্তির, অনিশ্চয়তার। ভিনদেশে অচেনা পরিবেশে তারা বসে আছে একটু আশ্রয়ের আশায়। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে গতকাল ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে টেকনাফে ঢোকে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার। উপজেলার হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রের সামনে। ছবি: গিয়াস উদ্দিন।
  • মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে গত ছয় মাসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
  • এখানে ভালোই আছেন বলে জানালেন কয়েকজন রোহিঙ্গা
বালুখালী বিএমএস-১ মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে চায়ের দোকানে ঢুকলেন রবিউল হাসান। রবিউল জানালেন, ফজরের নামাজও তিনি এই মসজিদেই পড়েন। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। বাকি সময় শিবিরের ঘরে শুয়ে-বসে কাটান। মাঝে দু-একবার চায়ের দোকানে আড্ডা দেন। এভাবেই চলছে গত প্রায় ছয় মাস। রবিউলের ধারণা, এ রকম চলবে হয়তো বাকি জীবন।
রবিউলের বয়স ৩৫ বছর। তিনি আছেন বালুখালী-১ শিবিরে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে গত ছয় মাসে যে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে বসবাস করছে, রবিউল তাদের একজন।
বালুখালী-১ শিবিরের কাছে রবিউলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা স্থানীয় আমির হোসেনের চায়ের দোকানে ভিড় জমায়। এদের কারও বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডু এলাকায়, কারও বাড়ি বুচিডং এলাকায়, কারও সিটুওয়ে বা রাচিডংয়ে।
কথা ওঠে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগ নিয়ে। রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা থামেনি। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাবাসনের জন্য ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা হস্তান্তরের পর থেকে গত সাত দিনে টেকনাফে এসেছে ৬১৮ রোহিঙ্গা। সর্বশেষ গতকাল এসেছে ৭২ পরিবারের ২৫৩ রোহিঙ্গা। আর চুক্তি হওয়ার দিন থেকে গত তিন মাসে টেকনাফে এসেছে ১০ হাজার ৯৩৫ রোহিঙ্গা।
এসব আলোচনার মধ্যে আবু জামিল বলে বসলেন, ‘কেন যাব? এখানে তো বেশ আছি।’ নিজ দেশে আবু জামিলের চায়ের দোকান ছিল। সেই অভিজ্ঞতার জোরে বাংলাদেশের আমির হোসেনের দোকানে কাজ পেয়েছেন জামিল।
তবে ‘বেশ আছি’ কথাটি শুধু জামিলের একার নয়। গতকাল শুক্রবার কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে যত রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন, তাঁরা বাংলাদেশে ভালো আছেন। তবে আবু জামিল এ-ও বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার পাঠালে আমাদের যেতেই হবে। আমরাও মানুষ, আমাদের আবার যেন অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণের মুখে পড়তে না হয়, সেটিও যেন বাংলাদেশ সরকার ভেবে দেখে।’
কুতুপালংয়ের লাম্বাসিয়া শিবিরে একটি ঘরে পাঁচ সদস্য নিয়ে থাকেন মোহাম্মদ সাবের। বয়স ৫০ বছরের বেশি। সকালে ভাত খেয়েছিলেন বলে জানালেন। দুপুরে ও রাতে ভাতের ব্যবস্থা। তিন বেলা এভাবেই চলছে। সাবের বললেন, এখানে খাবারের কোনো কষ্ট নেই। চলাফেরায় কিছু বিধিনিষেধ আছে। যেমন চাইলেই রোহিঙ্গারা যেখানে-সেখানে ঘুরতে যেতে পারে না। সেই সমস্যা মিয়ানমারেও ছিল। এখানে আছে নিরাপত্তা, যা মিয়ানমারে কোনো দিন ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
শিবিরবাসী, সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রাণসামগ্রীর কোনো অভাব নেই রোহিঙ্গাদের। এমনকি বাড়তি চাল, ডাল, চিনি, তেল, কম্বল, থালাবাটি রোহিঙ্গারা নিয়মিতভাবে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রি করছে। সাধারণত বিকেলে এসব সামগ্রী নিয়ে তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কর্মকর্তারা কাজ শেষে শহরে ফেরার সময় অল্প দামে কিনে নেন।
একটি বেসরকারি সংস্থার পুষ্টি কেন্দ্রে কথা হয় হাজেরা বেগমের সঙ্গে। বয়স ২৮ বছর। তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মা। তিনি জন্মের পর থেকেই মিয়ানমার সেনাদের নানা ধরনের অত্যাচারের মধ্য দিয়ে জীবন পার করেছেন। এ দেশে আসার আগে একটি স্কুলে তাঁর স্বামী ও তাঁকে বেঁধে নির্যাতন করেছিল মিয়ানমারের সেনারা। এ দেশে হাজেরা বেগমও বেশ নিরাপদে আছেন।
গত বছরের ২৪ আগস্ট রাখাইনের মংডু এলাকায় কিছু নিরাপত্তাচৌকিতে আরসার সন্ত্রাসী হামলা হয়। এই অজুহাতে পরদিন থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয় সশস্ত্র বৌদ্ধদের একটি অংশ। রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ প্রায় সব ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি বাংলাদেশে আসে গত বছরের ২৫ আগস্ট, ছয় মাস আগে।
ছয় মাস তো খুবই কম সময়। ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার আর রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়নি। তাই এবারের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও সফল হবে না বলে রোহিঙ্গারা মনে করে। তারা বলছে, ফেরত পাঠানোর প্রথম শর্ত নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু মিয়ানমার সরকার কোনো দিন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেবে না।
তাই অনেকেই ভবিষ্যৎ দেখছেন বাংলাদেশে। রাখাইনে মোহাম্মদ সাবেরের বাড়ির পাশের স্কুলটি সেনাবাহিনী ছয় বছর আগে বন্ধ করে দিয়েছিল। কুতুপালংয়ে ১০ বছরের মেয়েকে একটি এনজিওর স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।
১৯৭৮ সালে ‘ড্রাগন অপারেশনের’ সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা প্রথম বাংলাদেশে এসেছিল। তাদের একটি অংশ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। তারপরও কয়েক দফায় রোহিঙ্গারা এসেছিল। সবাই ফেরত যায়নি। বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার অতীত অভিজ্ঞতাকে নতুন আসা রোহিঙ্গারা কাজে লাগাতে চাইছে।
 ১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোবিদ্যুৎ টাওয়ারটি ১৭০ ফুট উঁচু। এটা দিয়ে সঞ্চালিত হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ। সেই টাওয়ারের চূড়ায় ২২-২৩ বছরের এক যুবক চিল্লাচিল্লি, লাফালাফি করছেন। আতঙ্ক নিয়ে নিচ থেকে তা দেখছে শত শত মানুষ। চিৎকার করে লোকজন তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ করছে। কিন্তু কে শোনে, কার কথা!
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। সেখানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পথেরহাট বাজারের পল্লিমঙ্গল এলাকায় কৃষিজমিতে থাকা গ্রিড লাইনের টাওয়ারে উঠে যান ওই যুবক। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন (জাতীয় গ্রিড) লাইনের ১৭০ ফুট উঁচু টাওয়ারের মাথায় উঠে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেছেন তিনি। পরে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে কৌশলে তাঁকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।
যুবকের নাম মোহাম্মদ নাছির। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি কয়েকবার টাওয়ারে উঠে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন পথেরহাট বাজারের ছোটন এন্টারপ্রাইজের মালিক ছোটন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে এক যুবককে বিদ্যুতের উঁচু টাওয়ারের চূড়ায় উঠে নাচানাচি করতে দেখা যায়। সবাই তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ জানালেও তিনি তোয়াক্কা করেননি।
চট্টগ্রাম কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা অর্জুন বাড়ৈই প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, যুবকটি প্রায় ছয় ঘণ্টা টাওয়ারের চূড়ায় ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং খাবারের লোভ দেখিয়ে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনেন। নিচে নামিয়ে আনার আগেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, যুবকের হাতে ব্লেড ছিল। ব্লেডের আঘাতে তাঁর গলায় ও দুই হাত জখম হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

২৫ জানুয়ারি রাউজানের উরকিরচরে টাওয়ারে উঠেছিলেন এক যুবক। অনেকের ধারণা, দুটি ঘটনা একই ব্যক্তি ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোচট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাউজানের ওয়্যারিং পরিদর্শক আজিমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে রাউজানে। এ জন্য দরকার নির্দিষ্ট বেষ্টনী দিয়ে টাওয়ারে ওঠার পথ বন্ধ করার। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাউজান নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের উপপ্রকৌশলী সিরাজুল হক বলেন, টাওয়ারটির উচ্চতা ১৭০ ফুট। এখানে জাতীয় গ্রিডের ১ লাখ ৩২ হাজার কেবির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন গেছে। এই টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু থাকা অবস্থায় ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে পিডিবির চট্টগ্রামের মদুনাঘাট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত উঁচু টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু অবস্থায় কারও ওঠার সুযোগ নেই। যুবকটি কীভাবে উঠলেন বুঝতে পারছি না।’
 ফেদেরারের চোখ ১০০–তে

ফেদেরারের চোখ ১০০–তে

৯৭তম ট্রফি হাতে ফেদেরার। ছবি: রয়টার্স৯৭তম ট্রফি হাতে ফেদেরার। ছবি: রয়টার্স• ক্যারিয়ারের ৯৭তম ট্রফি জিতলেন ফেদেরার।
• সবচেয়ে বেশি বয়সে র‍্যাঙ্কিং শীর্ষে উঠেছেন কদিন আগে।

সেমিফাইনালে উঠেই র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন, তবে ফাইনাল জেতাই তাঁর মূল লক্ষ্য, সেটা জানা কথা। তবে ২০ ঘণ্টারও কম সময়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার ধকল কতটা নিতে পারবেন, তার সংশয় ছিল। তবে সে সংশয় দূর করে রজার ফেদেরার তাঁর ক্যারিয়ারের ৯৭তম ট্রফি জিতে নিয়েছেন।
৩৬ বছর বয়সে এসেও চুল পরিমাণ সুযোগ দেননি গ্রিগর দিমিত্রভকে। বুলগেরিয়ার খেলোয়াড়কে ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়ে রটারডাম ওপেনের ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন ফেদেরার। ক্যারিয়ারে ২০টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরারের কাছে একেই জীবনের অন্যতম সেরা সপ্তাহ মনে হচ্ছে। ফেদেরারের মতো খেলার ধরন বলে দিমিত্রভকে ‘বেবি ফেদেরার’ ডাকা হতো একসময়। তবে ফাইনালে ‘বেবি’ পাত্তা পাননি আসল ফেদেরারের কাছে। অথচ এ টুর্নামেন্ট জেতার আশাও করেননি ফেদেরার, ‘আমার মূলত লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল খেলা। ফাইনাল জেতার পর অবশ্যই ভালো লাগছে।’
২০১২ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এলেন ফেদেরার। ছয় বছর পরে সেরা হওয়ার অনুভূতিই অন্য রকম ছিল, ‘ছয় বছর পর সেরা হওয়া আমার নিজের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। আমি সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলাম ফাইনালের জন্য। বছরের শুরুটা আমার জন্য দুর্দান্ত হয়েছে। তবে প্রথম স্থানে আসার পর কিছুটা নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। তবে তা খুব সহজেই সামলে উঠেছি।’
প্রতিপক্ষ দিমিত্রভের প্রশংসাও করলেন ম্যাচ শেষে, ‘ও অনেক ভালো খেলোয়াড়। তবে আমি আরেকটু ভালো ম্যাচ আশা করছিলাম। মাঝে ওকে একটু খাপছাড়া লাগছিল। তবে ও ভবিষ্যতে অনেক ভালো করতে পারবে।’
পূর্ণাঙ্গ এক ক্যারিয়ারে এখন ফেদেরারের চাওয়া ট্রফির সেঞ্চুরি। তবে ১০০ ট্রফির জন্য এখনো অনেক কষ্ট করতে হবে, স্বীকার করলেন টেনিস রাজা, ‘১০০ এখনো হয়নি, আরও বাকি আছে। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে সুস্থ থেকে এগিয়ে যাওয়া।’ তাঁর চোখ যে জিমি কনর্সের গড়া ১০৯ ট্রফির রেকর্ডের দিকে, তা নিশ্চয় বলা লাগছে না!