১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোবিদ্যুৎ টাওয়ারটি ১৭০ ফুট উঁচু। এটা দিয়ে সঞ্চালিত হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ। সেই টাওয়ারের চূড়ায় ২২-২৩ বছরের এক যুবক চিল্লাচিল্লি, লাফালাফি করছেন। আতঙ্ক নিয়ে নিচ থেকে তা দেখছে শত শত মানুষ। চিৎকার করে লোকজন তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ করছে। কিন্তু কে শোনে, কার কথা!
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। সেখানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পথেরহাট বাজারের পল্লিমঙ্গল এলাকায় কৃষিজমিতে থাকা গ্রিড লাইনের টাওয়ারে উঠে যান ওই যুবক। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন (জাতীয় গ্রিড) লাইনের ১৭০ ফুট উঁচু টাওয়ারের মাথায় উঠে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেছেন তিনি। পরে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে কৌশলে তাঁকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।
যুবকের নাম মোহাম্মদ নাছির। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি কয়েকবার টাওয়ারে উঠে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন পথেরহাট বাজারের ছোটন এন্টারপ্রাইজের মালিক ছোটন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে এক যুবককে বিদ্যুতের উঁচু টাওয়ারের চূড়ায় উঠে নাচানাচি করতে দেখা যায়। সবাই তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ জানালেও তিনি তোয়াক্কা করেননি।
চট্টগ্রাম কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা অর্জুন বাড়ৈই প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, যুবকটি প্রায় ছয় ঘণ্টা টাওয়ারের চূড়ায় ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং খাবারের লোভ দেখিয়ে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনেন। নিচে নামিয়ে আনার আগেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, যুবকের হাতে ব্লেড ছিল। ব্লেডের আঘাতে তাঁর গলায় ও দুই হাত জখম হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

২৫ জানুয়ারি রাউজানের উরকিরচরে টাওয়ারে উঠেছিলেন এক যুবক। অনেকের ধারণা, দুটি ঘটনা একই ব্যক্তি ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোচট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাউজানের ওয়্যারিং পরিদর্শক আজিমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে রাউজানে। এ জন্য দরকার নির্দিষ্ট বেষ্টনী দিয়ে টাওয়ারে ওঠার পথ বন্ধ করার। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাউজান নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের উপপ্রকৌশলী সিরাজুল হক বলেন, টাওয়ারটির উচ্চতা ১৭০ ফুট। এখানে জাতীয় গ্রিডের ১ লাখ ৩২ হাজার কেবির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন গেছে। এই টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু থাকা অবস্থায় ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে পিডিবির চট্টগ্রামের মদুনাঘাট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত উঁচু টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু অবস্থায় কারও ওঠার সুযোগ নেই। যুবকটি কীভাবে উঠলেন বুঝতে পারছি না।’
 ফেদেরারের চোখ ১০০–তে

ফেদেরারের চোখ ১০০–তে

৯৭তম ট্রফি হাতে ফেদেরার। ছবি: রয়টার্স৯৭তম ট্রফি হাতে ফেদেরার। ছবি: রয়টার্স• ক্যারিয়ারের ৯৭তম ট্রফি জিতলেন ফেদেরার।
• সবচেয়ে বেশি বয়সে র‍্যাঙ্কিং শীর্ষে উঠেছেন কদিন আগে।

সেমিফাইনালে উঠেই র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছেন, তবে ফাইনাল জেতাই তাঁর মূল লক্ষ্য, সেটা জানা কথা। তবে ২০ ঘণ্টারও কম সময়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার ধকল কতটা নিতে পারবেন, তার সংশয় ছিল। তবে সে সংশয় দূর করে রজার ফেদেরার তাঁর ক্যারিয়ারের ৯৭তম ট্রফি জিতে নিয়েছেন।
৩৬ বছর বয়সে এসেও চুল পরিমাণ সুযোগ দেননি গ্রিগর দিমিত্রভকে। বুলগেরিয়ার খেলোয়াড়কে ৬-২, ৬-২ গেমে হারিয়ে রটারডাম ওপেনের ট্রফি নিজের করে নিয়েছেন ফেদেরার। ক্যারিয়ারে ২০টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ফেদেরারের কাছে একেই জীবনের অন্যতম সেরা সপ্তাহ মনে হচ্ছে। ফেদেরারের মতো খেলার ধরন বলে দিমিত্রভকে ‘বেবি ফেদেরার’ ডাকা হতো একসময়। তবে ফাইনালে ‘বেবি’ পাত্তা পাননি আসল ফেদেরারের কাছে। অথচ এ টুর্নামেন্ট জেতার আশাও করেননি ফেদেরার, ‘আমার মূলত লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল খেলা। ফাইনাল জেতার পর অবশ্যই ভালো লাগছে।’
২০১২ সালের অক্টোবরের পর এই প্রথম র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠে এলেন ফেদেরার। ছয় বছর পরে সেরা হওয়ার অনুভূতিই অন্য রকম ছিল, ‘ছয় বছর পর সেরা হওয়া আমার নিজের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। আমি সেরাটা জমিয়ে রেখেছিলাম ফাইনালের জন্য। বছরের শুরুটা আমার জন্য দুর্দান্ত হয়েছে। তবে প্রথম স্থানে আসার পর কিছুটা নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছিল। তবে তা খুব সহজেই সামলে উঠেছি।’
প্রতিপক্ষ দিমিত্রভের প্রশংসাও করলেন ম্যাচ শেষে, ‘ও অনেক ভালো খেলোয়াড়। তবে আমি আরেকটু ভালো ম্যাচ আশা করছিলাম। মাঝে ওকে একটু খাপছাড়া লাগছিল। তবে ও ভবিষ্যতে অনেক ভালো করতে পারবে।’
পূর্ণাঙ্গ এক ক্যারিয়ারে এখন ফেদেরারের চাওয়া ট্রফির সেঞ্চুরি। তবে ১০০ ট্রফির জন্য এখনো অনেক কষ্ট করতে হবে, স্বীকার করলেন টেনিস রাজা, ‘১০০ এখনো হয়নি, আরও বাকি আছে। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে সুস্থ থেকে এগিয়ে যাওয়া।’ তাঁর চোখ যে জিমি কনর্সের গড়া ১০৯ ট্রফির রেকর্ডের দিকে, তা নিশ্চয় বলা লাগছে না!
 সালাহর বাঁ পা বিশ্বসেরা? মেসিকে ভুলে যাবেন না!

সালাহর বাঁ পা বিশ্বসেরা? মেসিকে ভুলে যাবেন না!

লিভারপুলের হয়ে সালাহর বাঁ পায়ের ভেলকি চলছেই। ছবি: টুইটারলিভারপুলের হয়ে সালাহর বাঁ পায়ের ভেলকি চলছেই। ছবি: টুইটার
  • সালাহর বাঁ পায়ের প্রশংসায় মেসিকে স্মরণ করলেন ক্লপ।
  • ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এবার বাঁ পায়ে ১৯ গোল করেছেন সালাহ।
  • রবি ফাউলারের গড়া রেকর্ডেও ভাগ বসিয়েছেন লিভারপুল স্ট্রাইকার।
  • লিভারপুলের হয়ে লিগে দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটছে সালাহর।
লিওনেল মেসির তারকাখ্যাতির সঙ্গে মোহাম্মদ সালাহর তুলনাই চলে না। কিন্তু লিভারপুল স্ট্রাইকার এ মৌসুমে যেভাবে খেলছেন, তাতে প্রশ্নটা উঠেছে, সালাহর বাঁ পা কি বিশ্বসেরা?
পরিসংখ্যান বলছে, প্রশ্নটা মোটেই অবান্তর কিছু নয়। লিভারপুলে এবার প্রথম মৌসুমেই মাত করে দিয়েছেন মিসরীয় এ স্ট্রাইকার। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৩০। এর মধ্যে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে করা ২২ গোলের দুটি ডান পা এবং একটি হেড থেকে। বাকি ১৯ গোলই করেছেন বাঁ পায়ে!
লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপকে তাই সংবাদকর্মীরা প্রশ্ন করেছিলেন, এই মুহূর্তে সালাহর বাঁ পা কি বিশ্ব সেরা? জবাবে জার্মান কোচ এমন একজনের উদাহরণ টেনেছেন, বার্সেলোনার জার্সিতে যাঁর ৪৫৬ গোলের ৩২৬টিই এসেছে বাঁ পা থেকে। বুঝতেই পারছেন তিনি লিওনেল মেসি। বার্সার এ তারকাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্লপের ভাষ্য, ‘বিশ্বসেরা? লিওনেল মেসিও বাঁ পায়ের, তাই না? তাঁকে (মেসি) একেবারে ভুলে যাওয়া বোধ হয় ঠিক হবে না।’
তবে ২৫ বছর বয়সী শিষ্যের বাঁ পায়ের ঠিকই প্রশংসা করেছেন ক্লপ, ‘বিশ্বসেরা ক্যাটাগরিতে পরে কি না, তা নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। তবে তাঁর বাঁ পা খুব ভালো। যদিও সে গোল করতে শরীরের কোন অংশ ব্যবহার করল, সেটা নিয়েও আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’

লিভারপুলের হয়ে এ পর্যন্ত ২৬টি লিগ ম্যাচ খেলেছেন সালাহ। বাঁ পায়ে এরই মধ্যে ১৯ গোল করে তিনি ভাগ বসিয়েছেন রবি ফাউলারের গড়া রেকর্ডে। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে আসরটির ইতিহাসে বাঁ পায়ে সর্বোচ্চ ১৯ গোল করেছিলেন সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার। তখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৪২টি করে ম্যাচ খেলতে হতো প্রতিটি দলকে। ফাউলার সেবার লিভারপুলের হয়ে সব কটি ম্যাচ খেলেই রেকর্ডটা গড়েছিলেন। কিন্তু সালাহ এবার মাত্র ২৬ ম্যাচেই তাঁর সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন।
অর্থাৎ সালাহ যে ফাউলারকে টপকে রেকর্ডটা নতুন করে লেখাবেন, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু রেকর্ডটা তিনি কোথায় নিয়ে স্থাপন করেন, সেটাও দেখার বিষয়। লিভারপুলে নিজের প্রথম মৌসুমেই কিন্তু তাঁর ফর্ম দুর্দান্ত। লিগে এবার ২৯টি গোলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ (২২ গোল করেছেন, ৭ গোল করিয়েছেন) অবদান রয়েছে সালাহর। লিভারপুলের হয়ে লিগে তাঁর মতো আর কোনো খেলোয়াড়েরই এমন দুর্দান্ত অভিষেক মৌসুম কাটেনি।
গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার

গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার

মিয়ানমার গণকবরগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করে ফেলছে।মিয়ানমার গণকবরগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করে ফেলছে।
  • বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, রাখাইনে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার।
  • ১০০ জনের বেশি ব্রিটিশ এমপির ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলের বিচার দাবি।
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার সব প্রমাণ মুছে ফেলতে চাইছে মিয়ানমার। গত বছরের আগস্ট মাসে এ গণহত্যা চালানো হয়। রোহিঙ্গাদের একটি গণকবরে বুলডোজার চালিয়ে তা নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থার ওই অভিযোগ ছাড়াও বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নিজস্ব অনুসন্ধানে মিয়ানমারে অন্যান্য গণকবরের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ওপর ডকুমেন্টারি নিয়ে কাজ করছে ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’। ওই প্রকল্প থেকে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে একটি ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজে জঙ্গল নিশ্চিহ্ন করে ফেলা ও গণকবর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে অর্ধেক মাটিচাপা দেওয়া ত্রিপল ব্যাগে মানুষের গলিত পা দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকল্পের পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণহত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এখন গণহত্যার প্রমাণ স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে বুলডোজার চালাতে দেখা যাচ্ছে। মিডিয়াতে যে দুটি গণকবরের খবর এসেছে, তার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার একটি গণকবরের ওপর বুলডোজার চালানো হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে গণহত্যার সব প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
লিউয়া জানান, বুলডোজার চালানোর কাজটি করছে মিয়ানমারের একটি প্রাইভেট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি রাখাইনের নয়। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল থেকে এসে তারা এ কাজ করছে।
‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’ পরিচালক বলেন, ‘এটি থেকে স্পষ্ট যে সরকারি আদেশেই গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলা হচ্ছে।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গত বছরের আগস্ট মাসে গণহত্যা চালানোর স্থানটি হচ্ছে উত্তর রাখাইনের বুথিডাং শহরের মং নুতে। সেখানে গণকবরটির অবস্থান।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলছে, রাখাইন থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন তাদের বলেছে, গ্রামের বসতবাড়ির আঙিনায় জড়ো হওয়া গ্রামবাসীর ওপর মিয়ানমারের সেনারা নির্যাতন করেছে। এ ছাড়া ধর্ষণ, খুন ও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। সেখানে এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর কাছে থাকা স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, মং নু এলাকাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে দ্য ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বলেছিল, গত আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করার পর এক মাসেই মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো তাদের আসা অব্যাহত আছে।
তবে জাতিগত নিধনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। গত বছরে নিজস্ব অনুসন্ধানে রাখাইনে নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে।
অবশ্য, গত মাসে মিয়ানমার সেনাদের পক্ষ থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়। ইন ডিন নামের একটি গ্রামে রোহিঙ্গাদের একটি গণকবর পাওয়ার কথা স্বীকার করে তারা। সেখানে অনেক রোহিঙ্গা সেনাদের হাতে নিহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা ‘গণহত্যার প্রতীক’ হয়ে উঠেছে। তবে জাতিসংঘের অনুসন্ধান মিশনের নেতৃত্বে থাকা ওই কর্মকর্তাকে মিয়ানমারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, ‘মুং নুতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ বিষয়ে শুনেছি। বর্মিজ নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার গোপন করার ব্যাপক প্রচেষ্টা বিষয়টিতে আমরা উদ্বিগ্ন।’
গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের অন্যান্য অংশে বুলডোজার চালিয়ে সমান করে ফেলা হয়েছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, আগে যেখানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিল, সেগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরে যে গ্রামগুলো লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, সেগুলো এখন ধূলিসাৎ বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

লিউয়া বলেছেন, ‘শুধু যে বাড়িগুলো পোড়ানো হয়েছিল সেগুলোই নয়, সেখানে পরিত্যক্ত সব বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ঘরবাড়িসহ পুরো এলাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও হাতা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ওই এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে। সেখানে কোনো গ্রামবাসী নেই। কোনো ঘরবাড়ি নেই। শুধু সমতল জমি।’

ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন গ্রাম তৈরি করতে হবে বলে জানান হাতা।

গণকবর ধ্বংস করে ফেলা প্রসঙ্গে জাও হাতা বলেন, ‘আমি জানতে চাই, কোন প্রমাণের কথা আপনারা বলেছেন? এটা কি আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী? বিশ্বজুড়ে বাঙালিরা? আমাকে নির্ভরযোগ্য, নিখুঁত ও শক্তিশালী প্রাথমিক প্রমাণ দিন। বাঙালিরা বিশ্বজুড়ে যা বলে বেড়াচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে কিছু বলবেন না।’
মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বিচার চান যুক্তরাজ্যের এমপিরা
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযানের নামে সামরিক অভিযান চালানোয় মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ১০০ জনের বেশি এমপি।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব বরিস জনসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের অবস্থা তুলে ধরে উচ্চকণ্ঠ হওয়ায় জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। লেবার পার্টির সাংসদ রুশনারা আলীসহ ১০০ জনের বেশি সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে ওই চিঠিতে।
তাঁরা বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের প্রধান হ্লাইয়াংকে তাদের নিরাপত্তা অপারেশনের জন্য অর্থবহ কোনো মূল্য দিতে হয়নি। হ্লাইয়াংয়ের শাস্তি না হওয়ায় এ কাজে তাঁর উৎসাহ বেড়ে গেছে। দেশটির অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমান সহিংসতাকে আগ্রাসীভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি এবং শান্তিপ্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বিবৃতি আদায় করেছে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব পরামর্শ অবহেলা করেছে মিয়ানমার। এখন সামনে এগোনোর সময়। যদিও জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চীন আইসিসির কাছে যাওয়ার বিষয়টির বিরোধী, তবু আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে পারি। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র কাউন্সিলের বৈঠকের আগে যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে এটা শুরু হোক।
চিঠিতে আরও বলা হয়, যত দেশকে মিয়ানমারে গণহত্যার বিচারের জন্য পক্ষে পাওয়া যাবে, তত হ্লাইয়াং ও তাঁর সেনাদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে বেসামরিক মানুষের ওপর ভবিষ্যতে সামরিক নির্যাতন ঠেকানো যাবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সব রসদ সরবরাহ বন্ধ, সেনা প্রশিক্ষণসহ সহযোগিতা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যের এমপিরা চাইছেন, জাতিসংঘ যেন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
সুত্রঃ প্রথম-আলো 

আগুনে পোড়া গ্রাম বুলডোজারে সমান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের গ্রামের স্যাটেলাইট দৃশ্য (বাঁয়ে)। ধ্বংসস্তূপ ও ছাইভস্মের চিহ্নও এবার বুলডোজার দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। ছবি: এইচআরডব্লিউ
  • ধ্বংসস্তূপ আর ছাইভস্ম বুলডোজার দিয়ে সমান করা হচ্ছে।
  • এইচআরডব্লিউ বলেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার চিহ্ন মুছে ফেলছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো পুড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সব ধ্বংসস্তূপ আর ছাইভস্মও এবার বুলডোজার দিয়ে সাফ করে চিহ্নও মুছে ফেলছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালানো নিষ্ঠুরতা-নৃশংসতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করতেই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ গতকাল শুক্রবার বলেছে, স্যাটেলাইটে ধারণ করা দৃশ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাখাইন রাজ্যে অন্তত ৫৫টি রোহিঙ্গা গ্রামে বুলডোজার চালাতে দেখা গেছে। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আগুন দিয়ে রোহিঙ্গাদের এই ৫৫টিসহ ৩৬২টি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করেছে। গ্রামগুলোতে চালানো জ্বালাও-পোড়াওয়ের চিহ্ন মুছে ফেলার সরকারি এই তৎপরতার নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান-নির্যাতনে এরই মধ্যে রাজ্যটি রোহিঙ্গাশূন্য হয়ে পড়েছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে ছয় লাখের বেশি নারী-পুরুষ। জাতিসংঘের অভিযোগ, মিয়ানমার সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও রাখাইনে জাতিসংঘের তদন্ত দলকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। এ নির্মূল অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, গত বছর রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর প্রথম কয়েক মাসেই সেনারা ও তাঁদের সহযোগীরা শত শত গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দেন। গুলি করে হত্যা করেন অনেককে। ধর্ষণ করেন বহু রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীকে।
স্যাটেলাইট থেকে এইচআরডব্লিউর পাওয়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, গত নভেম্বর থেকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নতুন করে অন্তত ৫৫টি গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এসব গ্রামের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসস্তূপ, এমনকি গাছগাছালি-খেতখামার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সংস্থাটি বলেছে, মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া এসব গ্রামের অন্তত দুটি ইতিপূর্বে আগুনে পোড়ানোর পরও প্রায় অক্ষত ছিল।
সংস্থার এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, এসব গ্রামের অনেকগুলো ছিল রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতার সাক্ষী। এগুলো সংরক্ষণ করা উচিত; যাতে জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে নির্যাতনের প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পান। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে থাকায় নৃশংসতার প্রমাণ মুছে যাওয়ার এবং যেসব রোহিঙ্গা সেখানে থাকতে, তাদের পক্ষে আইনগত দাবি উপস্থাপনের সুযোগ নষ্টের হুমকি তৈরি হয়েছে।
এসব বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, শুক্রবার এপির প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতেও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাখাইনে ২৮টি গ্রাম বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ সমান করে দিয়েছে।
এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি মিয়ানমারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান স্মিটের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা কিছু ছবিতেও রাখাইনের আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফুটে ওঠে। সেসব ছবিতে এই রাজ্যের রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত বিস্তৃত এলাকা মাটিতে মিশে থাকতে দেখা যায়।
রাখাইনে চলতি মাসের শুরুর দিকে সফরে যান কয়েকটি দেশের কূটনীতিকেরা। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেখানকার কিছু ছবি ছাড়া হয়। ওই সব ছবিতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নৃশংসতা চালানোর যে দৃশ্য ফুটে উঠেছে, তাতে রাজ্যটি থেকে রোহিঙ্গাদের শুধু ঘরবাড়ি বা বসবাসের চিহ্নই নয়, মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য মুছে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক বছর ধরে কাজ করছেন বেসরকারি সংগঠন আরাকান প্রজেক্টের প্রধান ক্রিস লিউয়া। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িঘর-গ্রাম জ্বলতে দেখে মর্মাহত। তাদের আশঙ্কা, আসছে বর্ষা মৌসুমে রাখাইনে নিজেদের অতীত বসবাসের চিহ্নটুকুও ধুয়েমুছে যাবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মনে এ ধারণা জন্মেছে যে সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে তাদের বসবাসের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বসবাসের চিহ্ন মুছে ফেলার পদ্ধতিগত চেষ্টার অভিযোগ নতুন নয়। গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা থেকেও এ অভিযোগ করা হয়েছিল। মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, পদ্ধতিগতভাবে রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম ও সম্পত্তি ধ্বংস করার ঘটনা কার্যকর অর্থেই তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটামাটি থেকে উৎখাত করার পদক্ষেপ।
তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রধান ও দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মায়াট আয় দাবি করেছেন, স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ ওই গ্রামগুলো আগের চেয়ে ভালো মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন গ্রাম তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গারা যখন ফিরে আসবে, তখন তারা অবিকল আগের বাসস্থানেই বা এর কাছাকাছি রকমের বাসস্থানে থাকতে পারবে।’
মিয়ানমারের সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের কোনো জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দশকের পর দশক তারা নানা বঞ্চনা-নিপীড়নের শিকার।

সুত্রঃ প্রথম আলো 

পুরুষদের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির অসাধারণ প্রাকৃতিক উপায়

অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে একটা সমস্যা বেশ প্রকট হয়ে উঠছে। দিন যত যাচ্ছে পুরুষের মধ্যে নপুংসকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের যৌন ইচ্ছা যাচ্ছে ক্রমশ কমে। কাজেই যৌন চাহিদা কমে যাওয়ার আগে থেকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন৷ জেনে নিতে পারেন কী করে এই চাহিদা ক্রমশ ক্ষয়মান হচ্ছে৷

হোম রেমেডি পুরুষের এই সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে এসেছে৷ তারা যাতে আবার তাদের পূর্ণ যৌন ইচ্ছা ফিরে পায় তার উপায় বার করেছে হোম রেমেডি৷ যাদের মধ্যে এই অসুবিধা সবেমাত্র দেখা দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে হোম রেমেডি কার্যকরী হতে পারে৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোম রেমেডি দ্বারা চিকিৎসা করা যায় কিন্তু সবক্ষেত্রে হোম রেমেডি প্রযোজ্য নয়৷

এবার আসুন জানা যাক যৌন অক্ষমতার প্রথম ধাপের চিকিৎসাতে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য কি কি সামগ্রী কাজে লাগতে পারে বা তা ব্যবহারে কি উপকার হয়-


রসুন: যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভালো ফল দিয়ে থাকে৷ রসুনকে ‘গরীবের পেনিসিলিন’ বলা হয়৷ কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে৷ যা আমরা প্রায় প্রতিনিয়্তই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকি৷

আপনার যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী৷ কোনো রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে৷ এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা খুব বেশি হয় বা তা মাত্রাতিরিক্ত হয় যার অত্যধিক প্রয়োগ তার নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে এমন ক্ষেত্রেও রসুন খুবই কার্যকরী৷

প্রতিদিন দু’ থেকে তিনটি রসুনের কোয়া কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খান৷ এতে আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গিয়ে থাকলে তা বৃদ্ধি পাবে৷ এ ছাড়া গমের তৈরি রুটির সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেলে তা আপনার শরীরে স্পার্ম উৎপাদনের মাত্রা বাড়ায় এবং সুস্থ্য স্পার্ম তৈরিতে এটি সাহায্য করে৷

পেঁয়াজ: কাম-উত্তেজক ও কামনা বৃদ্ধিকারী হিসেবে পেঁয়াজ বহুদিন থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে৷ কিন্তু এটি কীভাবে এই বিষয়ে কার্যকরী তা এখনো পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায়নি৷
সাদা পেঁয়াজ পিষে নিয়ে তাকে মাখনের মধ্যে ভালো করে ভেঁজে নিয়ে তা প্রতিদিন মধুর সঙ্গে খেলে তা থেকে উপকার পাওয়া যায়৷ কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখবেন, এটি খাওয়ার আগে ঘণ্টা দুয়েক সময় আপনার পেট খালি রাখবেন৷ এইভাবে প্রতিদিন খেলে স্খলন, শীঘ্রপতন বা ঘুমের মধ্যে ধাতুপতন ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব৷

এছাড়া পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কালো খোসা সমেত বিউলির ডালের গুঁড়ো সাত দিন পর্যন্ত ভিজিয়ে রেখে তাকে শুকিয়ে নিন৷ এটির নিয়্মিত ব্যবহার আপনার কাম-উত্তেজনা বজায় রাখবে এবং শারীরিক মিলনকালীন সুদৃঢ়তা বজায় রাখবে৷

গাজর: দেড়শো গ্রাম গাজর কুঁচি এক টেবিল চামচ মধু এবং হাফ-বয়েল ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে দুমাস খেলে আপনার শারীরিক এই অক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।

ইয়ারফোনের ‘ইয়ারিয়াঁ’ ডেকে আনতে পারে ৫ বিপদ

স্মার্টযুগে স্মারটলাইফ৷ প্রযুক্তির উন্নতিতে উন্নয়নের তালে তাল মেলাচ্ছে মানবজীবন৷ কিন্তু এই উন্নতির মধ্যেই কি কোথাও লুকিয়ে রয়েছে ক্ষতি? ইতিবাচকের মধ্যেই কি ঢুকে নেতিবাচক কোনও কিছু? এর একটি ছোট্ট উদাহরণ হল- ইয়ারফোন, যা ফোনের বা ল্যাপটপের মতো গ্যাজেটস-এর সঙ্গে কানের যোগাযোগে হামেশাই ব্যবহার করেন অনেকে৷ অনেকের মতেই ইয়ারফোনের বেশি ব্যবহারে নিচের ক্ষতিগুলি হতে পারে৷ কোনগুলি? চলুন চোখ রাখা যাক,

১) কানে বায়ু চলাচলে ক্ষতি: ফোনে সরাসরি কান না রেখে অনেকেই ইয়ারফোন ব্যবহার করে থাকেন৷ এর দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে কিন্তু কানে বায়ু চলাচলে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং এর ফলে সংক্রমণ হতে পারে যা আপনার কানের ক্ষতি করবে৷

২) শ্রবণশক্তি হ্রাস: ইয়ারফোনে ৯০ ডেসিবলের উপর শব্দ শুনলে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে৷ শ্রবণশক্তি চিরতরের মতো হারিয়েও যেতে পারে বলে অনেকেরই আশঙ্কা! ১০০ ডেসিবলের উপর মাত্র ১৫ মিনিট এয়ারফোন ব্যবহার করলে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে।


৩) শ্রবণশক্তির জড়তা: কিছু সমীক্ষায় জানা যায়, যারা এয়ারফোন ব্যবহার করেন তারা উচ্চ শব্দে মিউজিক শোনেন। এতে কানে জড়তা চলে আসে।

৪) মস্তিষ্কে সমস্যা: বর্তমানে ইয়ারফোন কিছু তড়িত-চুম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করে, যার থেকে মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করা হয়৷

৫) ইনফেকশন: ইয়ারফোন ব্যক্তিগত থাকাই উচিত৷ কিন্তু অনেকেই তা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে শেয়ার করে থাকে। এতে কানে ইনফেকশনের সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকটাই৷ তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে প্রত্যেককে৷

কম ভলিউমে ইয়ারফোন ব্যবহার করা উচিত তাও দীর্ঘক্ষণ নয়৷ এবং রাস্তায় চলতে গিয়ে এসব ব্যবহার না করাই ভালো৷ আপনার সুরক্ষা আপনারই হাতে৷

কোন ছয়টি ভুল নষ্ট করে মজবুত সম্পর্ককেও

অনেকেই বলেন সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। আবার অনেকে এও বলেন, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা মোটেও হাতিঘোড়া কোনও কাজ নয়। সাধারণ কয়েকটি জিনিস মাথায় রাখলে প্রেমিকা-প্রেমিকারা বিশ্বাস করতে পারেন একে অপরকে। এই প্রতিবেদনে দেওয়া হল এমন কয়েকটি ভুল, যা নষ্ট করতে পারে একটি মজবুত সম্পর্ককেও। ভুলগুলি পড়ুন ও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন-
অভিভাবক হবেন না: দয়া করে নিজের প্রেমিকাকে নিজের সম্পত্তি ভাববেন না। তাঁকেও ঘুরতে যেতে দিন বন্ধুদের সঙ্গে। সন্দেহ করবেন না অকারণে।
কাজ কাজ করবেন না: দিনভর অফিস-চাকরি-ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকার পর একটু সময় রাখুন নিজের আপনজনের জন্য। জানেন তো,অধিকাংশ সম্পর্কই ভেঙে যায় একে অপরকে সময় দিতে না পারার অজুহাতে।


বিয়েতে তাড়াহুড়ো নয়: প্রেমিকা আপনারই। আপনাকে ভালবাসলে অন্য কারুর সঙ্গে পালিয়ে যাবে না। তাই বিয়ের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না। অনেক পুরুষই চান, কোনও মহিলাকে তাড়াতাড়ি বিয়ে করে বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে। এটা কোনও উপায় হতে পারে না মশাই।
ছোটখাটো ঝগড়া এড়িয়ে চলুন: এটাকে বলে গোল্ডেন ওয়ার্ডস অফ রিলেশনশিপ। ঝগড়া এড়িয়ে চলুন। একে অপরকে ছুঁয়ে থাকুন। মনে থাক শুধুই ভাল লাগার আমেজ।
বিশ্বাস করতে শিখুন: একটি সুস্থ-স্বাভাবিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে গেলে কিন্তু বিশ্বাস করতের শিখতেই হবে একে অপরকে।
দোষ চাপাবেন না: আপনার কাজের চাপ, আপনার বন্ধুর বিশ্বাসঘাতকতা-সব কিছুর দোষ আপনার প্রেমিকার উপর চাপাবেন না.
একঘেয়ে ব্রেকফাস্টে মজাদার ট্যুইস্ট

একঘেয়ে ব্রেকফাস্টে মজাদার ট্যুইস্ট

সকালের জলখাবারে কী খাবেন বা কী খাওয়াবেন এটা নিয়ে যন্ত্রণায় পড়েন প্রতিদিন?
কেউ কেউ তাড়াতাড়িতে ব্রেকফাস্টই করেন না, আবার একই খাবার রোজ রোজ প্রতিদিন ভালো লাগেনা৷ কর্ণফ্রেক্স বা পাউরুটি-জেলিও মুখে রোচে না অনেকেরই।
কোন কোন খাবার তৈরিতে রান্না বান্নার কোন ঝামেলাই নেই,কিন্তু খেতে দারুণ সুস্বাদু, জেনে নিন৷ এই খাবারগুলো আপনাকে বোর করবে না মোটেই। রোজই খেতে পারবেন নিত্য নতুন সব খাবার!


১। সকালে একটি দারুন খাবার চিঁড়ে ও দই। কিন্তু সেই একঘেয়ে চিঁড়ে-দই কতদিন ভালো লাগে? জেনে নিন একটা মজার কৌশল। জল দিয়ে ধুয়ে রাখা চিঁড়ার মাঝে ফেটানো দই দিন, সাথে যোগ করুন নারকেল কোরা, বাদাম, শুকনো বা তাজা ফল, এক চিমটি লবণ ও সামান্য দুধ। ব্যাস, তৈরি আপনার দারুণ হেলদি ব্রেকফাস্ট!
২। সাধারণ প্যানকেক তৈরিতে অনেক ঝামেলা৷ ফ্রিজে রাখা রুটি দিয়ে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন ব্রেড প্যানকেক। রুটি গুলো দুধে ভিজিয়ে নরম করে একেবারে ভর্তা বানিয়ে নিন। সাথে ডিম ও নুন যোগ করুন। পাতলা করতে আরও দুধ দিন। এবার আপনার ইচ্ছা মত চিনি, অথবা পেঁয়াজ মরিচ ও মশলা যোগ করে তৈরি করে নিন পাতলা প্যানকেক। স্বাদে কিন্তু দারুণ এই খাবারটি!

৩। নুডুলস তৈরি করতে বেশ ঝামেলা৷ অথচ পেটভরানো কিছু খেতে চান? তাহলে তৈরি করে ফেলুন চিঁড়ের পোলাও। চিঁড়ে ধুয়ে নিন। এরপর প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচ একটু ভেজে একটি ডিম ঝুরি করে নিন। চাইলে সবজি দিতে পারেন। সামান্য জিরে ও মরিচ গুঁড়ো দিয়ে ভাজুন। চিঁড়ে দিয়ে দিন। একটু ভেজেই নামিয়ে নিন। তৈরি মজাদার চিঁড়ের পোলাও।
৪। সকালে ওটস খেতে চান, কিন্তু রান্না করার সময় নেই? রাতে ঘুমাবার সময় ওটসের সাথে পরিমাণ মত দই ও দুধ দিয়ে, সাথে সামান্য চিনি ও কিসমিস দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। চাইলে ফ্রিজেও রাখতে পারেন। সারা রাত তরল শুষে ওটস নরম হয়ে যাবে। সকালে আপনি পাবেন একদম তৈরি ব্রেকফাস্ট! চাইলে ফল যোগ করে খেতে পারেন।
৫। ডিম আর রুটি খেতে খেতে বিরক্ত হয়ে গেছেন? তৈরি করে ফেলুন দারুণ স্বাদের এক খাবার৷ একটি বা দুটি ডিমকে নুন ও দুধ দিয়ে গুলে নিন। এবার প্যানে তেল বা মাখন অল্প আঁচে গরম করে এই ফেটানো ডিম দিয়ে দিন। এবার এই ডিমের ওপরে দিন আপনার যা ইচ্ছা। গাজর, ক্যাপসিকাম, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, ব্রকলি দিতে পারেন। সসেজ টুকরো, ফ্রিজে রাখা রান্না করা চিকেন, চিংড়ি, এমনকি ফ্রিজে চিকেন ফ্রাই থাকলে সেটাও টুকরো করে দিতে পারেন। দিতে পারেন চিজ কিংবা রুটি টুকরোও।
আপনার যা ভালো লাগে উপরে ছড়িয়ে দিন। একটু ভাজা জিরের গুঁড়ো, ধনে পাতা বা চাট মশলা দিতে পারেন দেশী স্বাদ চাইলে। এরপর ঢাকনা লাগিয়ে অল্প আঁচে রাখুন। নিচে জমে গেলে এবং ওপরে ডিম রান্না হয়ে গেলে নামিয়ে ফেলুন। চাইলে ওভেনে ৫ মিনিট বেকও করে নিতে পারেন। এটি নিজেই একটি সম্পূর্ণ ডিশ, এর সাথে অন্য কিচ্ছু প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে এর সাথে যে কোন কিছুই খেতে পারেন৷