গাড়িতে চড়লে বমি? একটু মানলেই হবে সমাধান

ঘুরতে যেতে কে না ভালোবাসে৷ অথবা অফিস বা যে কোনও কাজে বেরোতেই হয়৷ কিন্তু বাস বা চার চাকাতে ভয়৷ উঠলেই গা বমি বমি করে৷ মাথা ঘোরে৷ মনে হয় এখনই নেমে যাই গাড়ি থেকে? অনেকবার বমির ওষুধ খেয়ে কমানোর চেষ্টা করেছেন? তাও ফিরে ফিরে আসে সমস্যা? তাহলে নিচের লেখাতে একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন৷
পড়ুন:

যৌনতায় অর্গ্যাজম খুব জরুরি কেন জানেন? কারণ জানলে আশ্চর্য হবেন

১) রাতের ঘুম কিন্তু মাস্ট৷ কোনওভাবেই ঘুমের সময় কেটে অন্য কাজ করবেন না৷ শুতে দেরি হলে সকালে একটু পরে ওঠার চেষ্টা করুন৷
২) গাড়িতে খালি পেটে উঠবেন না৷ হালকা সিদ্ধ কিছু খেতে পারেন৷ সঙ্গে পরিমিত জল৷
৩) শ্বাস-প্রশ্বাসে কোনও সমস্যা আছে কিনা দেখুন৷ প্রণায়ামের অভ্যাস থাকলে ভালো৷
৪) গাড়িতে অনেক দূর যেতে হলে, মাঝে মধ্যে গাড়ি থামিয়ে নিচে নেমে হাত-পা নাড়ুন৷ আর বাস হলে উঠে দাঁড়ান মাঝে মাঝে৷
৫) হয় চুইংগাম অথবা বিট নুন সহযোগে আদা মুখে রাখতে পারেন৷ বমি বমি ভাবটা কেটে যাবে এতে৷ অথবা রাখুন বিটনুন এর পাতিলেবু৷

যৌনতায় অর্গ্যাজম খুব জরুরি কেন জানেন? কারণ জানলে আশ্চর্য হবেন


অর্গ্যাজাম বা রাগমোচন এমনই একটা শব্দ যা দাম্পত্য সুখের শেষ রসদ। যৌন ক্রীড়ার শেষ বিন্দুতে রাগমোচন এক স্বতঃস্ফূর্ত স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এইসময় শ্রোণী অঞ্চলের মাংসপেশির ছন্দোময় সংকোচনের মাধ্যমে দেহে চরম যৌনসুখ অনুভূত হয়। নারী এবং পুরুষ উভয়েরই রাগমোচন ঘটে থাকে যৌন ক্রীড়ার সময়। রাগমোচন সম্পূর্ণ ভাবে স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। রাগমোচনের সময় শরীরে বিবিধ ক্রিয়া ঘটে।
যেমনঃ আনন্দ-চঞ্চল সংবেদন , শরীরের কোন কোন অংশের বিদ্যুতের মতো অনুভব এবং মুখে নানান ধরনের শব্দের উৎপত্তি। অরগ্যাজামের পরবর্তি সময়টি একটি অবসাদময় নিস্তেজ পরিস্থিতি হয়। যার মূল কারন হল অক্সিটোসিন, প্রোল্যাক্টীন এবং এন্ডোরফিন্স নামক নিউরোহরমোনের নিঃসরণ।
রাগমোচন বা অরগ্যাজাম যেকোন ধরনের শারীরিক যৌন উদ্দীপনার মাধ্যমে হতে পারে, যেমন পুরুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ (এক্ষত্রে বীর্যপাতের ঘটে থাকে ) এবং নারীর ক্ষেত্রে ভগাঙ্কুরের উদ্দীপনার মাধ্যমে। এই যৌন উত্তেজনা হস্তমৈথুনের মাধ্যমে নিজে নিজে করা যেতে পারে বা কোন সঙ্গীর সাহায্য অন্য যেকোন যৌন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে হতে পারে।
রাগমোচন কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে আনন্দের সাথে মিশে থাকে দেহ ও মনের এক ধরণের নিরুদ্বেগ শৈথিল্য। পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্যস্খলনের সময়ই রাগমোচন লাভ হয়, এর পাশাপাশি পেশীর ক্রিয়ার কারণে তার লিঙ্গ কয়েকবার কেঁপে ওঠে এবং অণ্ডকোষ শক্ত হয়ে একটু উপরে উঠে আসে। অধিকাংশ পুরুষের ক্ষেত্রেই রাগমোচনের পরেই পুনর্বার মৈথুন করা সম্ভব না, কেননা বীর্যপাতের সঙ্গে সঙ্গে লিঙ্গের উত্থান রহিত হয়ে যায়। লিঙ্গের পুনরুত্থান বা পুনরায় সঙ্গমের জন্য কিছুটা সময় লাগে।
স্ত্রীর ক্ষেত্রে ইউটেরিন ও যোনির দেয়ালের পেশীগুলোর মুহুর্মুহু সংকোচনের মাধ্যমে রাগমোচন ঘটে। এটা ক্ষেত্রবিশেষে একসাথে কয়েকবার হতে পারে আবার সামান্য সময়ের ব্যবধানে হতে পারে। অনেক স্ত্রীর ক্ষেত্রে পুরো দেহব্যাপী অনেকক্ষণের জন্য রাগমোচন ঘটতে পারে। পুরুষের চেয়ে নারীর রাগমোচন অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয়।
সুতরাং সঙ্গমের কালে অরগ্যাজাম বা রাগমোচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্গমের সমাপ্তি তখনই সম্ভব যখন রাগমোচন ঘটে।

জানেন বয়সভেদে যৌন চাওয়া-পাওয়া বদল হয়

হেডলাইনে নারী শব্দের উল্লেখ থাকলেও, এখানে কিন্তু প্রথমে টিনএজ মেয়েদের কথা বলব। মেয়েরা, তোমরা কিন্তু ভ্রু কোঁচকাবে না। তোমাদের যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৯ এর মধ্যে, তাঁদের চাওয়া পাওয়া বাস করে কিন্তু এক বড়সড় স্বপ্নের দেশে। অনন্ত চাওয়া, একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। শুরু করলে শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই একটু এগিয়ে যাচ্ছি।
বয়স যখন ; ২০-২৯
প্রথম ব্যাপার তাঁকে( পুরুষটিকে ) সুদর্শন হতে হবে। মুগ্ধ শ্রোতা হতে হবে ১০০ ভাগ। ফ্যাশন সচেতন হওয়া জরুরী। রোমান্টিক হতেই হবে, না হলে চলবে না। শিল্পানুরাগী না হলেও ধারনা থাকতে হবে। সেন্স অব হিউমার থাকতে হবে প্রবল। আর্থিকভাবে সচ্চল পরিবারের ছেলে হতে হবে, যাতে বায়না করলেই তা হাজির হয়ে যাবে এক মুহুর্তে। রোমান্সের জন্য জিম করা ফিগার থাকা প্রয়োজন, হিরো হিরো ভাব থাকতে হবে।
বয়স যখন ; ৩০-৩৯
ভাল ব্যাংক ব্যালান্স থাকা জরুরী। কথা বলার থেকে শুনবে বেশি। রান্না খেয়ে প্রশংসা করতে হবে (অখাদ্য হলেও)। কাজ সবাই করে , ওটার বাহানা দেওয়া চলবে না। ম্যানার জানতে হবে। জন্মদিন এবং অ্যানিভার্সারি ভোলা চলবে না।
বয়স যখন ; ৪০-৪৯-
নোংরা থাকা চলবে না, পরিষ্কার পরিছন্ন থাকাতে হবে। টয়লেট সীট নামিয়ে আসতে হবে। অন্তত উইক-এন্ডে সেভ করতে হবে। সংসারের খরচের টাকাটা যেন ঠিকমত আয় করতে পারে। স্ত্রীর কথা শুনে সব সময়”হাঁ”সূচক মাথা নাড়তে হবে। এমন একটা শাট পরতে হবে যেটা পেট (ভুরি) ঢেকে রাখতে সক্ষম।
বয়স যখন ; ৫০-৫৯-
নাক ও কানের চুল নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে। পরিস্কার মোজা ও আন্ডারওয়্যার পরতে হবে। মাঝে মধ্যে সেভ করা জরুরী। কথা শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া চলবে না। নাক ডাকা চলবে না। বেশী বেশী ধার না করাই ভাল। সপ্তাহে একদিন সঙ্গে বসে বাইরে গিয়ে খাওয়ার মতো ইচ্ছে থাকতে হবে।
বয়স যখনঃ ৬০-৬৯-
ঘুমের সময় নাট ডাকার শব্দ একটু কম হতে হবে। হাসার সময় বুঝতে হবে কেন সে হাসছে। দাঁত (কৃত্রিম) কোথায় রেখেছেমনে রাখতে হবে। খাওয়া নিয়ে য্ন্ত্রনা করা চলবে না। টাকা-পয়সার চিন্তা বাদ দিয়ে বউয়ের উপর ভার ছেড়ে দিতে হবে। ছোট বাচ্চাদের ভয়ের কারন হওয়া চলবে না।
বয়স যখন ; ৭০-৭৯-
টয়লেট যেন টয়লেটে হয় সেটা মনে রাখতে হবে। শ্বাস নেওয়ার মত শারীরিক শক্তি থাকতে হবে। মরার আগে বেশী খরচের অছিয়ত করে যাওয়া চলবে না । মরার আগেই সব সম্পত্তি চুলচেরা হিসাব করে ভাগ করে দিতে হবে ।

সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ (১৯৬৯)


মধুর ক্যান্টিন (১৯০৪)


ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন, মানুষ আতঙ্কে

ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন, মানুষ আতঙ্কে

বংশাল থানার বিস্ফোরক মামলায় নাদের নামের এই ব্যক্তিকে (দুই হাতে ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার) রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। গতকাল বিকেলে তাঁকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।  ছবি: হাসান রাজা বংশাল থানার বিস্ফোরক মামলায় নাদের নামের এই ব্যক্তিকে (দুই হাতে ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার) রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। গতকাল বিকেলে তাঁকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: হাসান রাজা
  • আজ খালেদা জিয়ার মামলার রায়
  • ঢাকায় ১০ হাজার পুলিশ ও ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
  • আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রাজপথে থাকবেন
বিএনপির চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশের সঙ্গে ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিএনপি কোনো কর্মসূচি না দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই মামলায় সাজা পেলে তা দেশের রাজনীতিতে বিশেষ বার্তা বয়ে আনতে পারে। স্বাধীনতার পর আইনি প্রক্রিয়ায় এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচারকাজ শেষ হচ্ছে। এই রায়ের প্রভাব চলমান রাজনীতি, আগামী নির্বাচন এবং সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।
বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও রায় ঘিরে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি তো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। সেখানে সরকার একদিকে তাদের দলীয় বাহিনী, আরেক দিকে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি নামিয়ে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অথচ সরকারের দায়িত্ব হলো দেশের শান্তি-স্থিতি রক্ষা করা।’

অবশ্য পুলিশ বলছে, এসব করা হচ্ছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে। দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেই বলা হলেও রায়ের পর কিছু ঘটবে না, এটা বিশ্বাস করতে চায় না সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, সেটা বিবেচনা করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ৯ দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন দলটির প্রায় তিন হাজার নেতা-কর্মী। কয়েক দিন ধরে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাব-পুলিশের তল্লাশি চলছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকায় ১০ হাজার পুলিশ ও ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে ৬৯ প্লাটুন বিজিবি, আরও ৬৫ প্লাটুন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে শহরজুড়ে বিরাজ করছিল থমথমে পরিস্থিতি।

কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকার পরও এত প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, একটা দায়িত্বশীল সরকারের এটাই দায়িত্ব হওয়া উচিত। ঘটনা ঘটার পর, নাকি ঘটনার আগে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে? বর্তমান সরকার ঘটনা ঘটার আগেই যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে আজ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে মানুষের দৃষ্টি আদালতের দিকে, তেমনি শঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে। আজ এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। মিরপুরে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় স্টেট ম্যাচও শুরু হচ্ছে আজ সকালে। সকাল আটটায় রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে উদ্বোধন হচ্ছে একাদশ জাতীয় বিজ্ঞান মেলা। গতকাল সন্ধ্যা থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া নগরীতে আজ সব মিলিয়ে জনজীবন কীভাবে অতিবাহিত হবে, তা নিয়ে সবাই চিন্তিত।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি দায়ের হয় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে। দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলা দায়ের করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তাঁর পুত্র এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন মামলার আসামি। আজ রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত থাকবেন।

খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে কি না, হলে কোন কারাগারে রাখা হবে—এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা। এরই মধ্যে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী সেলের দোতলার ঘরগুলোতে ধোয়ামোছার কাজ চলছে। আবার গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নারী কারাগারের কথাও আলোচনায় আছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে রায় যা-ই হোক, উচ্চতর আদালতে দুই পক্ষেরই আপিলের সুযোগ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় এই মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৫(২) ধারার অভিযোগ (অর্থ আত্মসাৎ) প্রমাণিত হলে ৪০৯ ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫-এ এই মামলার বিচারকাজ চলে। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এই আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২৫ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।
এই মামলার শুনানির শেষ দিনে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, মামলার প্রায় প্রতিটি কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষ বারবার উচ্চতর আদালতে গেছে। কিন্তু প্রতিবারই হেরে এসেছে। তাঁরা এই আদালতে যেসব যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন, উচ্চতর আদালতেও একই কথা বলেছেন। আর রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, ১৯৯১ সালের ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৭-০৮ সালে শুরু হতে পারে না। তদন্ত কর্মকর্তা কিছু কথা বলেছেন, যেগুলো সর্বৈব মিথ্যা। ঘষামাজা নথি ও মনগড়া তথ্য দিয়ে সাজানো মামলাটিতে যে কোনো সারবত্তা নেই, তা তাঁরা আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছেন। তাই তিনি সব আসামির বেকসুর খালাস দাবি করেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। দলের নেতা-কর্মীরা সমবেত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে যে কথা শোনা গিয়েছিল, তা-ও নাকচ করে খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলনের কথা ঘোষণা করেছেন।

তবে গত ৩০ জানুয়ারি খালেদা জিয়া একটি মামলায় হাজিরা শেষে ফেরার পথে দলীয় নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয় এবং আটক-গ্রেপ্তার শুরু করে।
অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তাই আওয়ামী লীগ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং তাদের নেতা-কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য রাজপথে থাকবেন।
 গতকালই নগরীর হকার ও উদ্বাস্তুদের যথাসম্ভব রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পথচারীদের ওপর চলে কড়া নজরদারি। ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় যানবাহন আসা কমে যাওয়ায় গতকালই ঢাকা মহানগরী প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, আজও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল রাজধানীর গাবতলী এলাকায় প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও দূরপাল্লার বাসে কঠোর তল্লাশি চালায় পুলিশ। গাবতলী ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে গাবতলীতে ১০০ জন ট্রাফিক পুলিশ ডাবল শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে তাঁরা তিন শিফটে এ দায়িত্ব পালন করতেন। দারুস সালাম থানা-পুলিশও তাদের সঙ্গে তৎপর রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব পুলিশ সদস্যের সাপ্তাহিক ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

বিভিন্ন বাস কাউন্টারে গিয়ে সেখানে থাকা কর্তব্যরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে থেকে গাড়ি কম আসছে। মূলত যাত্রীসংকট থাকার কারণেই বিভিন্ন জেলা থেকে বাস ছেড়ে আসতে পারছে না বলে তাঁরা জানান।

হানিফ পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মাধব চন্দ্র দেব বলেন, অন্য দিন যেখানে তাঁদের ১২-১৩টি বাস ছেড়ে যায়, সেখানে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ছেড়েছে ৫টি। মহাখালী বাস টার্মিনালেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল কম।
বুধবার বিকেল থেকেই গণপরিবহন এবং ব্যক্তিগত ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মজীবী সাধারণ মানুষ আজ কীভাবে কর্মস্থলে যাতায়াত করবেন, তা নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, সরকার বলছে, সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের এই ব্যবস্থা। যেকোনো অজুহাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের ব্যাপক মোতায়েন জনগণের চলাচল, সমাবেশ, বাক্স্বাধীনতা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম অর্থাৎ সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

শাহদীন মালিকের মতে, কেউ অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে। কিন্তু সম্ভাব্য অপরাধের অজুহাতে পুরো রাজধানী এভাবে অবরুদ্ধ করা জনগণের অধিকারকে অশ্রদ্ধা করারই নামান্তর।

একনজরে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা
দুদকের মামলা
২০০৮ সালের ৩ জুলাই
অভিযোগপত্র
২০০৯ সালের ৫ আগস্ট
প্রধান অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের ২,১০,৭১,৬৭১ টাকা আত্মসাৎ
অভিযোগ গঠন
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ
আসামি: ৬ জন
মোট সাক্ষী: ৩২ জন
মামলার ধারা
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২), দণ্ডবিধির ৪০৯, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মোট শুনানি: ২৩৬ কার্যদিবস
আত্মপক্ষ সমর্থন: ৩৪২ ধারায় আসামিরা করে বক্তব্য দেন ২৮ দিন
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন: ১৬ দিন
যুক্তিতর্ক শেষ: ২৫ জানুয়ারি। ওই দিনই রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন আদালত

সূত্রঃ প্রথম আলো 
খালেদা জিয়ার মামলায় কোন ধারায় কী সাজা?

খালেদা জিয়ার মামলায় কোন ধারায় কী সাজা?

আদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়া। প্রথম আলাে ফাইল ছবিআদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ছয়জন আসামি। রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ অন্যদের সাজা হতে পারে, আবার তাঁরা খালাসও পেতে পারেন।

এই ছয় আসামির বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, এতে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন, সর্বনিম্ন যেকোনো মেয়াদে কারাদণ্ড। এর সঙ্গে আর্থিক কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিদেশ থেকে পাঠানো এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্য বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এই মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তার সরকারি কর্মচারীজনিত ক্ষমতার বা একজন ব্যাংকার, বণিক, আড়তদার, দালাল, অ্যাটর্নি হিসেবে তার ব্যবসায় যেকোনো প্রকারের কোনো সম্পত্তি বা কোনো সম্পত্তির ওপর আধিপত্যের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আর দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২)-এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী অপরাধমূলক অসদাচরণ করিলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করিলে তিনি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের যোগ্য হবেন। অপরাধমূলক অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট অর্থিক সম্পদ অথবা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২ দশমিক ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে, যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা।
তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহিতীর ব্যবস্থাও। অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহিনী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান। পরে ওই টাকা আত্মসাত করেন, যার জন্য তিনি দায়ী।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থেকে নিজের পদমর্যাদা বলে সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ করেছেন।

সূত্রঃ প্রথম আলাে
শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য

শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য
শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কান্নাকাটি করে, পেট মোচড়ায় এবং খাওয়াদাওয়াও কমিয়ে দেয়। অস্বস্তি হয় বলেই এমনটা করে তারা। শিশুর এই অস্বস্তি মায়েদের উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা পানের বোঁটা বা সরষের তেলে আঙুল মাখিয়ে মলদ্বারে ঢুকিয়ে দেন। এতে সাময়িক সুফল এলেও পরে ফল হতে পারে মারাত্মক।
মাইগ্রেনের ব্যথা: কী খাবেন, কী খাবেন না

মাইগ্রেনের ব্যথা: কী খাবেন, কী খাবেন না

মাইগ্রেনের ব্যথা: কী খাবেন, কী খাবেন না
মাইগ্রেনের ব্যথা অনেকের কোনো কোনো দিনকে অসহ্য করে তোলে। মাথার কোনো এক পাশে প্রচণ্ড ব্যথা, বমি ভাব বা বমি, চোখে ঝাপসা দেখা ইত্যাদি সমস্যা এ সময় মানুষকে প্রায় শয্যাশায়ী করে ফেলে। মাইগ্রেনের ব্যথার আকস্মিক আক্রমণের জন্য কিছু বিষয় কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে কিছু খাবারদাবার, যা এই ব্যথাকে বাড়িয়ে দেয়।