বিশ্বের সবথেকে দামী গয়না
স্যাফায়ার রিং অফ প্রিন্সেস ডায়না :
এই আংটিটি প্রিন্সেস ডায়না পরেছিলেন৷ তারপর থেকেই এই রিংটির নাম স্যাফায়ার রিং অফ প্রিন্সেস ডায়না৷ এটির দাম ৪৫০,০০০ ডলার৷
কুইন মেরি জোস এমাব়্যাল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড নেকলেস :
কুইন মেরি জোস ইতালির শেষ রাণী৷ তাঁর নামেই এই রিংটির নামকরণ করা হয়েছে৷ এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামী গয়নাগুলির মধ্যে একটি৷ তবে এর সঠিক মূল্য কোথাও প্রকাশ করা যায় না।
মেরি অ্যানন্টিয়োনেট নেকলেস :
এই নেকলেসটিতে রয়েছে দুটো বিরল হলুদ ডায়মন্ড এবং একটি পিঙ্ক ডায়মন্ড৷ আর বাকিসব সাদা ডায়মন্ড৷ এটির মূল্য ৩.৭ মিলিয়ন ডলার৷
হ্যারি উইন্সটন ডায়মন্ড ড্রপ ইয়াররিং :
এটি তৈরি হয়েছে ২০০৬ সালে৷ এটির দাম ৮.৫ মিলিয়ন ডলার৷
ব্রায়োলিটি ডায়মন্ড নেকলেস :
এটি বিখ্যাত ৭৫.৩৬ ক্যারেট ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি করা হয়েছে৷ এটির দাম ১১ মিলিয়ন ডলার৷
বুলগারি ব্লু ডায়মন্ড রিং :
এটিতে গাঢ় ডায়মন্ড নীল রঙের হীরে ব্যবহার করা হয়েছে৷ দাম ৯.৪ মিলিয়ন ডলার৷
পিঙ্ক ডায়মন্ড :
এটি হালকা গোলাপি রঙের ডায়মন্ড ব্যবহার করা হয়েছে৷ দাম ১৭.৭৭ ডলার৷
হার্ট অফ দ্য এশিয়ান :
টাইটানিক সিনেমায় নায়িকা রোজকে এই হার পরতে দেখা গিয়েছিল৷ এটির দাম ২০ মিলিয়ন ডলার৷
দ্য পারফেক্ট পিঙ্ক :
এটি একটি দারুণ এবং মূল্যবান পাথর৷ রঙ,কাটিং এবং স্বচ্ছতাই এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে৷ এর দাম ২৩.২ মিলিয়ন ডলার।
দ্য অরেন্স :
এটি ভিভিট অরেঞ্জ ডায়মন্ড৷ এটির দাম ৩৬ মিলিয়ন ডলার৷
সন্তানের খাবার যোগাতে ৫০ টাকার জন্য ‘ন্যুড মডেল’
নগ্নতার সম্মান৷ শুনতে কানে লাগে৷ অথচ নগ্নতার নান্দনিকতা যুগ যুগ ধরে
পূজিত হয়ে এসেছে৷ নগ্নতা সমাজের কাছে দৃষ্টিকটু৷ কিন্তু শিল্পীদের কাছে
শিল্প, প্রেরণা৷ সেই নগ্নতা এবার যখন সসম্মানে উচ্চপদ লাভ করছে, স্থির
থাকতে পারেননি ন্যুড আর্টিস্টি লক্ষ্মী৷ দৃঢ়তার সঙ্গে বলে ফেললেন, “নগ্নতা
শেষমেশ সম্মান পাচ্ছে৷ আমি খুব খুশি৷”
আসছে রবি যাদব পরিচালিত ছবি ন্যুড৷ একটি
ন্যুড আর্টিস্টকে নিয়ে ছবির গল্প৷ এবছর এপ্রিলে ছবিটির মুক্তি পাওয়ার
কথা৷ এই ছবিরই প্রধান প্রোটাগনিস্ট লক্ষ্মী৷ তাঁর জীবনই স্টোরি লাইন৷ কথা
প্রসঙ্গে লক্ষ্মী জানিয়েছেন, যখন ছেলের মাত্র ৩ বছর বয়স, তাঁর স্বামী
মারা যান৷ দুচোখে অন্ধকার দেখেন লক্ষ্মী৷ কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি৷ হন্যে
হয়ে কাজ খুঁজেছিলেন সেই সময়৷ ছেলেকে তো বাঁচাতে হবে৷ সেই কারমেই প্রতিদিন
নিজের এক কাকিমাকে কাজের কথা বলতেন তিনি৷ কিন্তু সেই কাকিমা কোনও
উচ্চবাচ্য করতেন না৷ এরপর লক্ষ্মী নিজে মুম্বইয়ের জেজে স্কুলে যান৷
সেখানেই তাঁর কাকিমা কাজ করতেন৷ একদিন বিকেলে দুজনের দেখা হয়৷ লক্ষ্মী
জানতে পারেন তাঁর কাকিমা সেখানে ন্যুড আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন৷ বলছিলেন
লক্ষ্নী৷
ওই কাকিমাই তাঁকে এই জগতের সন্ধান দেন৷ বলেন, লক্ষ্মী তো কাজ খুঁজছে৷ কাজ রয়েছে৷ কিন্তু ন্যুড আর্টিস্টের কাজ৷ লক্ষ্মী কি পারবে?
কথা শুনে একটু দ্বিধান্বিত হয়েছিলেন
লক্ষ্মী৷ কিন্তু মাথায় তখন ছেলেদের দায়িত্ব৷ তাই সাতপাঁচ ভেবে কাজটি
নিয়েই নেন তিনি৷ প্রথমদিনের কাজের অভিজ্ঞতা স্বভাবতই ছিল অস্বস্তিকর৷
হাজার হাজার পুরুষ চোখের মাঝে তাঁকে দেহ থেকে কাপড় সরাতে হয়েছিল৷ হতে
হয়েছিল সম্পূর্ণ নগ্ন৷ এমন নির্মম বাস্তব মানতে পারেননি তিনি৷ কান্নায়
ভেঙে পড়েছিলেন কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রফেসররা তাঁর পাশে দাড়িয়েছিলেন
সেদিন৷ বুঝিয়েছিলেন, নগ্নতা একটা আর্ট৷ এর মধ্যে নান্দনিকতার ছড়াছড়ি৷ আর
আজ সেই ভীরু লক্ষ্মীই বুক চিতিয়ে বলেন, “আমার কাজ পৃথিবীর সেরা কাজ৷”

তাঁর কাজকে অনেকেই ভালো চোখে দেখত না৷
এখন, যখন এই পেশা স্বীকৃতি পাচ্ছে, খুব খুশি লক্ষ্মী৷ তিনি এও বলেছেন, যখন
তিনি এই পেশায় এসেছিলেন, খুব একটা ভালো পারিশ্রমিক পেতেন না৷ সম্মানজনক
পেশাও ছিল না৷ কিন্তু তবু তিনি এই পেশায় আসেন, কারণ তাঁকে তাঁর সন্তানদের
পেট চালাতে হত৷ তাদের পড়াশোনা শেখাতে হত৷ তারা যেন দারিদ্রতাকে প্রত্যক্ষ
না করে, তার জন্য সব কিছু করতে প্রস্তুত ছিলেন তিনি৷
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় বসে থাকার জন্য আগে
একজন ন্যুড মডেল পেতেন মাত্র ৫০ টাকা৷ তবু এখন তা বেড়েছে৷ দাঁড়িয়েছে ৫০০
থেকে ১০০০ টাকা৷ কোনও কোনও দিন কাজ থাকত না৷ তখন টাকাও জুটতো না৷ কিন্তু
সৌভাগ্যের বিষয়, বেশিরভাগ দিনই মডেল হওয়ার জন্য তাদের ডাক পড়ত৷ লক্ষ্মী
বলেছেন, সিটিংয়ের মাঝে খুব কমবার ব্রেক পেতেন তাঁরা৷ বেশিরভাগ সময়ই
তাঁদের একই পোজিশনে বসে থাকতে হত৷ তবে নগ্নতার জন্য কখনও তাঁদের অসম্মান
করা হয়নি৷ ছাত্রছাত্রীদের ন্যুড মডেলদের সম্মান করতে শেখানো হত৷
আজও তা একচুলও নড়েনি৷ এখনও শিল্পীদের
চোখে তাঁদের কদর রয়েছে৷ শুধু পার্থক্য এই যে, অনেকেই তাঁদের এই পেশার জন্য
সম্মান দেয় না৷ কিন্তু ভবিষ্যৎ বদলাবে৷ আশাবাদী লক্ষ্মী৷ অন্তত এমন ছবি
মুক্তি পাওয়ার পর দৃষ্টিভঙ্গি যে পালটাবে, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনও
দ্বিধা নেই৷
প্রেয়সীর চেয়ে ফোন প্রিয় ভারতীয়দের
হাল সময়ে নারী-পুরুষনির্বিশেষে স্মার্টফোনে আসক্ত। যাপিত জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোন নিয়ে অনেকে নেতিবাচক কথাও শোনা যায়। তবে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদনের তথ্য জানলে অনেকেই চমকে যেতে পারেন। প্রায় অর্ধেক ভারতীয় নাকি আপনজনের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন তাঁর নিজের স্মার্টফোনকে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের জি নিউজ।
সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ (ভারতীয়), বিশেষত নতুন প্রজন্মের তরুণেরা ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে সংযোগ রেখে চলতে অনেক পছন্দ করেন। ভারতের ৪৭ শতাংশই প্রেমিক-প্রেমিকা বা মা-বাবার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন নিজের স্মার্টফোনকে। জন্মদাতা মা-বাবার সঙ্গে কথা না বলে পুরো একটি দিন কাটালেও নিজের হাল ফ্যাশনের স্মার্টফোন ছাড়া দিন কাটানো অনেকের পক্ষেই অসম্ভব ব্যাপার।
টেলি-কমিউনিকেশন সংস্থা মটোরোলা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এ সমীক্ষাটি চালিয়েছে। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, মানুষ তাঁর নিজের জীবনের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ হারিয়ে ফেলছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেক মানুষই জানিয়েছে, কিছুক্ষণ পরপর নিজের অজান্তেই তাদের হাত চলে যায় ফোনে। ভারতের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরও বেশি, প্রায় ৬৫ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ মানুষ স্বীকারও করেছেন, তাঁরা স্মার্টফোনের ‘নেশা’ ছাড়াতে পারছেন না।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া শতকরা ৫৩ জন স্মার্টফোনকে নিজের সেরা বন্ধু এবং অন্যতম প্রিয় সঙ্গী হিসেবে ভাবেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় দেশ ভারতে এ সংখ্যাটা আরও বেশি, প্রায় ৬৫ শতাংশ। ভারতের ৬৪ শতাংশ মানুষ আবার ফোন ও বাস্তব জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য নিত্য অভাবে ভুগছেন। ৭৭ শতাংশ ভারতীয় ফোন হারালে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
১৯৯০-২০০০ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের জেনারেশন-জেড হিসেবে আখ্যায়িত করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত স্মার্টফোনের ‘নেশা’য়। এ প্রবণতা তাঁরা ছাড়তে পারছেন না। ভারতে যার সংখ্যা প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৫৫ জন।
ওই সমীক্ষা বলছে, মানুষ ধীরে ধীরে তাঁর স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলছে। মানুষ মোবাইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে। বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক ক্রমে কমে গিয়ে ইন্টারনেট জগতে বিচরণ বাড়ছে। এ জগৎকেই আপন করে নিচ্ছেন সবাই।
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে একটি ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেন এমন একটি সমীক্ষা চালাল? জবাবে মটোরোলা জানাচ্ছে, স্মার্টফোন দৈনন্দিন জীবনে অন্যতম অপরিহার্য, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু যেকোনো সংস্থারই আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে যায়। আগামী প্রজন্ম স্মার্টফোন সিনড্রোমে ‘আক্রান্ত’ বা ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়লে ক্ষতি সবার। তাই সময় থাকতেই সতর্ক করার জন্যই মটোরোলা এ উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগে ফলাফল প্রকাশ্যে জানা গেল। এখন সাবধান, আপনি কীভাবে বা কবে হবেন, তা আপনার ওপর নির্ভর করে।
সামাজিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সাবধান করে বারবার বলছেন, ফোনগুলো ছেড়ে কিছুটা সময় শুধু আপনজনদের সঙ্গেই কাটান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি কমাতে হবে। জীবন ও ফোনের মধ্যে একটা ভারসাম্য রাখার উদ্যোগ নিতে হবে।





