স্মার্টফোনে আসক্তরা মাথাব‌্যথায় খাচ্ছেন

সংবাদ ডেস্ক: ঘন ঘন মাথা ব‌্যথা করে? মনে হয় যেন যন্ত্রণায় মাথাটা ছিঁড়ে, ফেটে, চৌচির হয়ে যাচ্ছে? চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে যায়? কান ঝালাপালা করে? মুঠো মুঠো পেন-কিলার গিলতে হয়? আচ্ছা, আপনি কি স্মার্টফোন ইউজার? না, না। ভুল কিছু পড়েননি।

পিঁয়াজ ছাড়াই রাঁধুন মাংসের সুস্বাদু রেসিপি

পিঁয়াজের দাম এখন আকাশছোঁয়া। হালে দাম একটু কমলেও মধ্যবিত্তের এখনও পিঁয়াজ সাধ্যের বাইরে। পিঁয়াজের দামবৃদ্ধির ফলে রান্নাঘরে এখন চিকেন বা মটন ব্রাত্য। পিঁয়াজ ছাড়া মাংস! শুনতে অবাক লাগলেও এমন রেসিপি কিন্তু আছে। পিঁয়াজ ছাড়াই বানানো যেতে পারে চিকেন বা মটনের সুস্বাদু পদ।

ব্যাংক জালিয়াতির নয়া কৌশল, অ্যাপ ‘এনি ডেস্ক’ ডাউনলোডেই কাজ হাসিল

অ্যাপেই চুরি। টাকা হাতানোর নয়া অ্যাপ। ভারচুয়ালি আপনার মোবাইলের দখল নিচ্ছে ব্যাংক জালিয়াতরা। ধারাবাহিক কয়েকটি ঘটনার পর বিষয়টি অবশ্য নজরে এসেছে পুলিশের। সেইমতো শুরু হয়েছে প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

যৌনসম্পর্ক আছে এমন মেয়েদের ‘সস্তা বেশ্যা’ বলছে

নিউজিল্যান্ডে একটি মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অতি-রক্ষণশীল যৌন শিক্ষার পুস্তিকা বিতরণ! যা নিয়ে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
 
‘নিরাপদ যৌনজীবন’ বা ‘সেফ সেক্স’ নামের ওই পুস্তিকায় বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করেছে এমন মেয়েদের ‘সস্তা বেশ্যা’, এবং বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকছে এমন যুগলকে ‘মজ্জাগতভাবে দায়িত্বহীন ব্যভিচারী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি এই বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কেউ সমকামিতায় লিপ্ত হলে তার জন্য মৃত্যু ও নরক অপেক্ষা করছে।’

ক্রাইস্টচার্চের পাপানুই হাই স্কুলের স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্লাসে ১৫ বছরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই পুস্তিকা বিলি করা হয়। এর পর এক ছাত্রের মা এ নিয়ে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে অনলাইনেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে।  


স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জেফ স্মিথ অবশ্য বলছেন, ছাত্রদের কাছে একটি উগ্র মতাদর্শকে তুলে ধরার জন্যেই বইটি বিলি করা হয়েছে। যদিও এতে স্কুলের নিজস্ব আদর্শের কোন প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য জেফ স্মিথের।

সময় এখন নিজেকে বদলানোর



এমনকি কখনো হয়, যখন কিছু পরিস্থিতিতে আমাদের নিজেদেরই ক্ষমা করতে হয়? কথায় বলে, ‘মানুষ বেঁচে থাকলে বদলায়’। 

হ্যাঁ, প্রতিনিয়তই আমরা এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাই। তাই কিছুদিন আগেও যে আচরণ আপনার কাছে স্বাভাবিক মনে হতো, ঠিক সেটিই এখন আপনার কাছে ‘অপরাধ’ মনে হয়! আর নিজের মনের মধ্যে শুরু হয়ে যায় একটি দ্বন্দ্ব, যেখানে হয়তো অনেক সময় ভুল শোধরানো বা ক্ষমা চাওয়ার সময়টাও থাকে না।

আর এমন পরিস্থিতিতে নিজেই নিজের বন্ধু হিসেবে ভূমিকা পালন করুন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন নিজের প্রতিই।


বুঝতে শিখুন নিজেকেও
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলর অ্যানি বাড়ৈ বলেন, ‘কোনো মানুষই চিরদিন একরকম থাকে না। এটাকে আপনি ইতিবাচকভাবেই দেখতে পারেন। বয়স, পরিবেশ আর সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন দেখা দেয় মানুষের মাঝেও। নিশ্চয়ই আপনি স্কুলে যেমন আচরণ করতেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তেমন করবেন না। কেননা আপনি নিজে থেকেই বুঝতে শিখবেন কোনটি ঠিক।’


এমনও হতে পারে, আপনার শেখার গতি একটু মন্থর বা কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আপনি এখনো আচরণ করেন সেই কৈশোরের মতো। কিন্তু তাই বলে এমনও নয় যে, আপনার মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসেনি।


এই বয়স কিংবা পরিস্থিতিই আপনাকে অনুধাবন করায়, অতীতে ভুল ছিল আপনারও। আর সেই অনুযায়ী ক্ষমা করতে পারেন নিজেকেও। হয়তো আরেকটু চেষ্টা করলেই পরীক্ষায় এমন অকৃতকার্য হতে হতো না। একটু বুঝতে পারলেই হয়তো সম্পর্কটা এই পথে মোড় নিত না। তাই বলে সুযোগ এবং সময় কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, ‘নিজের ভুল ছিল, এই উপলব্ধি অনেক বড়। তাই অতীতে আটকে না থেকে এই মুহূর্ত থেকেই শুরু করুন নতুন পরিকল্পনা। আর ক্ষমা করুন নিজেকে।’


সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি
সময় ও সুযোগ কখনো শেষ হয়ে যায় না। চেষ্টা আর বিশ্বাসের মাধ্যমেই সুযোগকে নিয়ে আসতে হয়। পরীক্ষায় খারাপ করেছেন, তো কী হয়েছে? আপনার চলার পথ ওখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সামনে আরও অনেক পরীক্ষা আছে। তাই প্রস্তুতি নিন সামনের জন্য।


একই ভুল বারবার নয়
আপনি ভুল করেছেন। একবার, দুবার কিংবা সর্বোচ্চ তিনবার? কিন্তু আপনি নিশ্চয়ই এ রকম সব সময়ই করবেন না। এতে অন্যরা যেমন আপনাকে নেতিবাচকভাবে নেবে, তেমনি আপনি নিজেও নিজের কাছে দোষী থেকে যাবেন।


সুযোগ থাকলে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া
কলেজের সেই বন্ধুটির সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিলেন বলে এখনো অনুতাপ হচ্ছে? তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন। প্রযুক্তির যুগে এটা নানাভাবেই হতে পারে। দেখবেন, এতে আপনারই সবচেয়ে স্বস্তি লাগছে।


যদি এমন পরিস্থিতি না থাকে?
অনেক সময় দেখা যায়, সেই মানুষ বা পরিস্থিতি থাকে না। ক্ষতি হয়ে যায় বেশি। সে ক্ষেত্রে নিজেকেই বোঝাতে শিখুন। যুক্তি দিয়ে চিন্তা করুন, আপনি কেন অমন আচরণ করেছিলেন? আপনিও কি কোনো ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন? সময় কিংবা বয়স কোনোটা আপনার পক্ষে ছিল না? অন্য পক্ষেরও দোষ থাকতে পারে। সেই হিসেবেই সামনে এগিয়ে চলুন।


নিজ রীতিনীতি এবং মূল্যবোধ মেনে
কিছু ক্ষেত্রে হয়তো আপনি নিজেও দ্বিধান্বিত হয়ে পড়বেন। প্রিয় মানুষটির কিছু আচরণ হয়তো আপনার জীবনের সঙ্গে মিলছে না। তখন আপনি কী করবেন? সঙ্গীটিকেও সময় দিন এবং অবশ্যই নিজের মূল্যবোধগুলো মেনে চলুন। এটা খুবই স্বাভাবিক, দুজন মানুষের মানসিকতা এক হয় না, যত কাছের মানুষই হোক না কেন। সে ক্ষেত্রে দুজন আলোচনা করতে পারেন। যদি আপনার নিজের বা পরিবারের খুব ক্ষতি না হয়, তবে সঙ্গীকেও কিছু দূরত্ব দিন।


সময় দিন নিজেকেও
অন্যকে বোঝার আগে চেষ্টা করুন নিজেকে বুঝতে। নিজের প্রতিই সমানুভূতি আগে গড়ে তুলুন। নিজের প্রতি আস্থা না থাকলে মন-মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকবে। হয়তো এ কারণেই আপনি সঙ্গীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে বসতে পারেন। এর জন্য কিন্তু দিন শেষে আবারও আপনি নিজেকেই দোষী বলবেন।


কিছু বিষয় যেতে দিন
আমাদের চলার পথে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। সেখানে সব সময়ই ভালো হবে, এমন না। কেননা ভালো আর মন্দ দুটা মিলিয়েই আমাদের জীবন। তাই আপনি পারেননি বা সামনেও পারবেন না, এমন মনোভাব ঝেড়ে ফেলুন।


নেতিবাচক মানুষ এড়িয়ে
একেকজনের দেখার দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই বিচার করুন এবং বিশ্বাস রাখুন নিজের প্রতি। আপনি যদি মনে করেন, নিজেকে শুধরে নিয়ে কাজ করলে সফল হবেন, তাহলে চেষ্টা করতেই পারেন। কেননা আপনি যেভাবে চিন্তা করবেন, আপনার কাজেও ঠিক সে রকমই প্রভাব পড়বে। 


তাই সবার আগে হাত বাড়িয়ে দিন নিজের প্রতি।

দেবর-ভাশুরেরা বঞ্চিত করছেন?

স্বামীর মৃত্যুর পর হেলেনা (ছদ্মনাম) এক মেয়ে এবং ছেলে নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই আছেন। সন্তান দুটিই অপ্রাপ্তবয়স্ক। নিজে শিক্ষকতা করে কোনোরকমে নিজের ও সন্তানদের খরচ জোগান। স্বামী মৃত্যুর সময় কিছু জায়গাজমি রেখে গেছেন। হেলেনা আশা করছিলেন তাঁর এবং ছেলেমেয়ের প্রাপ্য জায়গা-সম্পত্তির অংশ তাঁর দেবর ও ভাশুরেরা বুঝিয়ে দেবেন। দিন কাটতে থাকে আশায় আশায় কিন্তু তাঁর প্রাপ্য অংশ আর বুঝে পান না। হেলেনা কী করবেন এখন?

স্বামীর মৃত্যুর পর এক নাবালক মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই অবস্থান করছেন আরেক ভুক্তভোগী নারী। যখন তাঁর স্বামী মারা যান, তখন তাঁর শ্বশুর জীবিত। শ্বশুরও স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ মাস পর মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুর তাঁর আর মেয়ের প্রাপ্য সম্পত্তি দেওয়ার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করলেও শ্বশুরের অসুস্থতার কারণে আর তা হয়ে ওঠেনি। এখন স্বামীর ভাইয়েরা মিলে বলছেন, তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে তাঁর কিছু অংশ পেলেও তাঁর মেয়ে কোনো ভাগ পাবে না। ওই ভুক্তভোগী নারীর মেয়ে কি আসলেই কোনো ভাগ পাবে না?


আমাদের সমাজে এমন ঘটনা হরহামেশাই দেখা যায়। স্বামী মারা গেলে স্বামীর ভাই, অর্থাৎ দেবর কিংবা ভাশুর থাকলে তাঁরা তাঁদের মৃত ভাইয়ের সম্পত্তি তাঁর স্ত্রী কিংবা সন্তানদের দিতে চান না। বিশেষ করে যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো সন্তান থাকে, তাহলে তাঁদের বঞ্চিত করার একটা সুযোগ সবাই খুঁজতে থাকেন। কিন্তু মুসলিম আইন অনুযায়ী এ সম্পত্তির প্রাপ্য অংশ থেকে তাঁদের বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এ সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে, তাহলে আইনের আশ্রয় নিতে হবে। দেওয়ানি আদালতে বণ্টনের মোকদ্দমা দায়ের করে তাঁদের অংশ দাবি করা যাবে।


এখানে ওপরের প্রথম ঘটনার ক্ষেত্রে বলা যায়, হেলেনা তাঁর স্বামীর সম্পত্তির ১ ভাগের ৮ অংশ পাবেন এবং বাকি সম্পত্তি পুত্র এবং কন্যা ২: ১ অনুপাতে পাবে। এ ক্ষেত্রে তাঁর দেবর-ভাশুরেরা কোনো সম্পত্তি পাবেন না। সন্তান যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক, তাই এ সম্পত্তি মায়ের দখলেই থাকবে, তবে সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বুঝিয়ে দিতে হবে। তবে মা যদি সন্তানদের সম্পত্তি বিক্রি করতে চান, তাহলে পারিবারিক আদালত থেকে অনুমতি নিতে হবে। যদি দেবর কিংবা ভাশুরেরা সম্পত্তি না দিতে চান, তাহলে দেওয়ানি আদালতের আশ্রয় নিতে হবে।


দ্বিতীয় ঘটনাটির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নারীটি তাঁর স্বামীর সম্পত্তিতে ভাগ পাবে এবং তার মেয়েও সম্পত্তি পাবে। এ নিয়ে দেবর-ভাশুর যা-ই বলুন না কেন, তা টিকবে না। যেহেতু স্বামী মারা যাওয়ার সময়ও শ্বশুর বেঁচে ছিলেন, তাই তাঁর স্বামীর অংশের শ্বশুর মালিক হবেন ১ ভাগের ৬ অংশ, তিনি মালিক হবেন ১ ভাগের ৮ অংশ এবং তাঁর মেয়ের অংশ হবে সম্পত্তির অর্ধেক অংশ এবং বাকি সম্পত্তিও তাঁর শ্বশুর পাবেন। আবার শ্বশুরের মৃত্যুর পর শ্বশুরের সম্পত্তির ভাগও প্রতিনিধিত্ব নীতি অনুসারে ভুক্তভোগী নারীটির মেয়ে পাবে। যদি তাঁকে ও মেয়েকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে বণ্টন বা বাঁটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করে তাঁদের অংশ বুঝে নিতে পারেন।


লেখক:
 
তানজিম আল ইসলাম
আইনজীবী, 
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

হঠাৎ আঘাত পেলে


হঠাৎ আঘাত পেলে শরীরের ওই নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত চাপে ফুলে যায়। এ ধরনের আঘাতে যে সমস্যা হয় তাকে সাধারণত সফট টিস্যু ইনজুরি বলে। আঘাত হাতে-পায়ের, কোমরের বা শরীরের অন্য জায়গার মাংসপেশি, হাড়, হাড়ের জোড়, নার্ভ বা লিগামেন্টের অবস্থানগত পরিবর্তনের জন্য ব্যথা হয়। আবার কেউ মাথায়ও আঘাত পেতে পারে, ফলে বাহ্যিক-অভ্যন্তরীণ দুই ধরনেরই ক্ষতি হতে পারে। একেক জায়গার আঘাতে চিকিৎসার ধরন পরিবর্তিত হয়ে থাকে। সব আঘাতই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু মাথায় আঘাত সব সময় বেশি গুরুত্ব বহন করে।

হঠাৎ হাতে-পায়ে আঘাত পেলে কী হয়—
আঘাতপ্রাপ্ত জায়গা ফুলে যায়
 প্রচণ্ড ব্যথা হয়

ওই অংশটি লাল হয়ে যায় এবং গরম থাকে। এটা হয় কোনো দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে, মাংসপেশিতে হঠাৎ টান লাগলে কিংবা পা পিছলে পড়ে গেলে। আর এসব কারণে সফট টিস্যু ইনজুরি হয়। আঘাতের তীব্রতা বেশি হলে হাড় ভেঙে যেতে পারে। হাড় ভেঙে গেছে সন্দেহ হলে অবশ্যই এক্স-রে করাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিতে হবে।

এমন আঘাতে কী করবেন
আক্রান্ত জায়গায় বরফ ব্যবহার করতে হবে ১৫-২০ মিনিট ধরে। ভিজা গামছার ভেতর বরফ নিয়ে আক্রান্ত অংশে মুড়িয়ে দিন। যদি বেশি ঠান্ডা লাগে, ৩ মিনিট পর উঠিয়ে ফেলুন। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে আবার ১২-১৪ মিনিট ধরে পেঁচিয়ে রাখুন। আক্রান্ত অংশ ফুলে গেলে ক্রেব ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন, যাতে আর ফুলতে না পারে। আক্রান্ত অংশ বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে উঁচু করে রাখুন, যাতে হৃৎপিণ্ড বরাবর থাকে। এই অবস্থায় হালকা ব্যায়াম, হালকা মালিশ, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। রোগীকে ৬-৭ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। লক্ষ রাখতে হবে রোগী আবার যেন আঘাত না পায়। 


ব্যথা ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসহ অন্য চিকিৎসা নিতে হবে।


মাথায় হঠাৎ আঘাত পেলে কী করবেন
আকস্মিক দুর্ঘটনায় কারও মাথায় আঘাত লাগতে পারে। যেমন ক্ষণিকের ভুলে কোলের শিশু পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায়, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের মাথায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘মাথায় আঘাত পাওয়া রোগীর সঙ্গে অন্য আঘাত থাকতে পারে। যেমন তার ঘাড়ে সারভাইক্যাল ইনজুরি থাকতে পারে। তার লাম্বোসেকরাল কোমড স্পাইনাল ইনজুরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার নড়াচড়া হতে হবে খুব সীমিত।’
মাথায় আঘাত পাওয়া কোনো রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কি না ঠিকমতো। যদি শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক না থাকে, দেখতে হবে নাকে–মুখে কোনো বাধা আছে কি না। যদি দেখা যায়, মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে, জায়গাটি চেপে ধরে বন্ধ করতে হবে। অচেতন রোগীকে বেশি টানাটানি করা হলে হয়তো ঘাড়ে আঘাত পেয়ে যেতে পারে। সেই অবস্থায় তাকে আস্তে আস্তে তুলে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
মাথায় আঘাত লাগার ফলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো মাথাব্যথা, বমি বা বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি, অচেতন অবস্থা, দুই চোখের নিচে রক্ত জমে কালো রং ধারণ বা ব্ল্যাক আই ইত্যাদি।


এ বিষয়ে পরামর্শ
অনেকেই মনে করেন, মাথায় আঘাত লাগলেই নিশ্চিত মৃত্যু। ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আঘাতের মাত্রা নির্ণয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে ক্ষতির মাত্রা কমবে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত লাগার পর রোগীকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও পরে হঠাৎ অবস্থা জটিল হতে পারে।


কোমরে ব্যথা পেলে
কোমরে ব্যথা পাওয়ার পর হাঁচি অথবা কাশি দিতে গিয়ে কোমরে ব্যথা লাগবে। কোমরের ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে যায় এবং অনেক সময় ব্যথা শুধু পায়েই অনুভূত হয়, কোমরে না–ও হতে পারে। হাঁটলে বা কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যায়, রাতে ঘুমেরও ব্যাঘাত হতে পারে। অনেক সময় রোগী পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। কোনো কোনো রোগীর কোমর একদিকে বেঁকে যায় এবং চিত হয়ে শুয়ে পা উঁচু করলে তার ব্যথা অনুভূত হবে।

এই অবস্থায় ভারী জিনিস তোলা নিষেধ এবং শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই বন্ধ থাকবে।
এরকম আঘাতের ব্যথার কারণ বের করে যদি সঠিক চিকিৎসা করা যায়, তাহলে ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।


লেখক: চিকিৎসক
মো. শরিফুল ইসলাম

কর্মক্ষেত্রে আত্মপ্রত্যয়ী হবেন যে উপায়ে



অফিসের ছোট ছোট কাজ এগিয়ে রাখলে চাপ কমবে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে। মডেল: তাসনুভা

ঘড়ির কাঁটা ধরে অফিস করতে করতে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই। একই কাজ প্রতিদিন করতে করতে একঘেয়েমি বোধ করি। রোববার থেকে বৃহস্পতিবার—কাজ আর কাজের মধ্যে হাবুডুবু খেয়ে বেশ নিরস জীবন তৈরি হয়। নৈরাশ্য ভর করে আমাদের মননের ওপর। যার প্রভাব পড়ে কাজের মান ও প্রকৃতির ওপর। মনের জোর কি সপ্তাহের সব দিন একই রঙের থাকে? 

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কনজ্যুমার প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাক্টসের যোগাযোগ প্রধান সুরাইয়া সিদ্দিকা কর্মক্ষেত্রের জন্য নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে দারুণ কাজ করা যায়। তিনি বলেন, কর্মক্ষেত্রে কাজে চাপ থাকবেই। যে যত চাপ নিয়ে ভালো কাজ করতে পারেন তিনিই আত্মপ্রত্যয়ী। নিজেকে যদি আপনি গুছিয়ে সামনে এগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে যত বড় কাজই হোক না কেন আপনি স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারবেন।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সুরাইয়া সিদ্দিকা কর্মক্ষেত্রে আত্মপ্রত্যয়ী হয়ে ওঠার কয়েকটি পরামর্শ দিচ্ছেন।


ছোট ছোট কাজ আগে করে ফেলুন
দিনের শুরুতেই অফিসে পা রেখেই ছোট কাজগুলো সেরে নিন। ছোট ছোট কাজ শেষ করতে পারলে মনে আরও কাজ তৈরির আগ্রহ জন্মে। শুরুতেই যদি কঠিন কোনো কাজ করেন আর তাতে যদি আপনি ব্যর্থ হন তাহলে দিনের বাকি সময়টা কিন্তু একটু খারাপ লাগবেই।


অবসর-বিরতি নিন
নিয়মিত কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিরতি নিন। একটু হালকা শরীরচর্চা কিংবা হাঁটাচলা করুন, এতে মন আর শরীর দুটোরই কর্মক্ষমতা বাড়বে। 


বহুমাত্রিক কাজ এড়িয়ে চলুন
বহুমাত্রিক কাজ সব সময়ই পরিহার করবেন। একটি একটি করে কাজ শেষ করুন। এ ক্ষেত্রে সহকর্মীদের সহায়তা নিন। আপনার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যদি অনেক কাজ আপনার ওপর চাপিয়ে দেয়, তাহলে তাঁকে বুঝিয়ে কাজের গুরুত্ব অনুসারে কাজ শুরু করুন।


কাজের তালিকা লেখার অভ্যাস করুন
প্রতিদিন কী কী কাজ করবেন, তা একটি ডায়েরিতে টুকে রাখার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন সকালে অফিসে আসার সময় যাত্রাপথে সেই তালিকা দেখে কাজের গুরুত্ব ভাগ করে নিতে পারেন। কাজের তালিকা করার অভ্যাস থাকলে একসঙ্গে অনেক কাজের ভিড় লেগে যায় না।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার
কর্মক্ষেত্রে নিজের সামাজিক যোগাযোগ সাইটে অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে শিখুন। হুটহাট মেসেঞ্জারে কথা বলা কিংবা ছবি পোস্ট করবেন না। অফিসের আট ঘণ্টা ব্যক্তিগত কাজে সামাজিক যোগাযোগের সাইট ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।


মুঠোফোনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন
কাজের সময় মুঠোফোনকে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় মুঠোফোন বন্ধ করে রাখতে পারেন। কাজের সময় ক্ষুদ্র আলাপের মাধ্যমে মুঠোফোনের কার্যকর ব্যবহার শিখুন।


১ শতাংশ সময় নিজের উন্নয়নে ব্যয় করুন
যতই কাজ করুন না কেন নিজের জন্য ১ শতাংশ সময় রাখুন। দুপুরের খাবার বিরতিতে খানিকটা বই পড়তে পারেন। কিংবা ইউটিউব থেকে কোনো ভিডিও দেখে নিজের কোনো দক্ষতা বিকাশের সুযোগ নিন।


সময়কে নিয়ন্ত্রণ করা শিখুন
ধরুন, বেলা ১১টায় মিটিং। আপনি ১১টায় হুড়মুড় করে তাড়াহুড়ো করে মিটিংয়ে শুধু উপস্থিত হন নিয়মিত। এমন অভ্যাস পরিহার করুন। চেষ্টা করুন, সময়ের আগে বিভিন্ন মিটিংয়ে হাজির হতে। মিটিংয়ে কী নিয়ে আলাপ আলোচনা হবে, তা আগে থেকেই ভেবে নিন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিটিংয়ে সময় না দিয়ে ২০ থেকে ৩৫ মিনিটের মধ্যে সব মিটিং শেষ করুন।


নিজের সঙ্গে বোঝাপড়া বাড়াতে হবে
নিজের কী কী ঘাটতি, কোথায় দুর্বলতা তা খুঁজে বের করে তা দূর করার চেষ্টা করুন। আপনার সহকর্মীদের এ ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে উৎসাহ দিন। কোনো কাজে ব্যর্থ হলে তাহলে তার কারণ অনুসন্ধান করে পরবর্তী কাজটি ভালোমতো করুন।


সকালের সময়টা কাজে লাগান
প্রতিদিন সকালের সময়টা কার্যকরভাবে কাটানোর চেষ্টা করুন। বাড়িতে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস করুন। সময়ের কিছু আগে অফিসে আসার অভ্যাস করুন। বাড়ি থেকে অফিসের দূরত্ব কম হলে হেঁটে আসার অভ্যাস করুন।


পরামর্শ নিতে শিখুন
কর্মক্ষেত্রে আমরা সাধারণত অন্যদের মতামত তেমন গুরুত্ব দিই না, যা মারাত্মক একটি ভুল। সহকর্মী, উচ্চপদস্থ ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা সবার কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার মনোভাব গড়ে তুলুন। 


শুধু নিজের অফিসই নয় নিজের পেশা ক্ষেত্রের অন্য অফিসের অভিজ্ঞদের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক গড়ে তুললে আপনি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আত্মপ্রত্যয়ী হিসেবে গড়ে তুলতে পারবেন।
 ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবেন যেভাবে

ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাবেন যেভাবে

এখনকার সময়ে ক্যারিয়ারের অগ্রগতি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে তরুণ চাকরিজীবীদের জন্য। পড়াশোনা শেষে বেশির ভাগ তরুণই অধৈর্য হয়ে পড়েন এবং অনেক সময় পেশায় স্থির হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা হতাশও হয়ে পড়েন। তাই তাঁদের জন্য কিছু পরামর্শ উল্লেখ করা হচ্ছে, যা তাঁদের কর্মজীবন পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

স্মার্ট সিভি তৈরি
সিভি সব সময়ই আপনাকে এবং আপনার দক্ষতা ও জ্ঞানকে প্রতিফলিত করে। নবীন যাঁরা তাঁদের উদ্দেশে বলছি, আপনাদের উচিত হবে না অনেক কিছু সিভির মধ্যে উল্লেখ করা। আপনাদের অবশ্যই একটি কাভার লেটার সংযুক্ত করতে হবে, যেখানে আপনি উল্লেখ করতে পারবেন, আপনি একজন নবীন। যে কারণে চাকরিতে আপনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু আপনি সেখানে বলতে পারবেন, আমি একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট এবং ছাত্রাবস্থায় আমি বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। আমি দ্রুত কাজ শিখতে এবং নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে দৃঢ়ভাবে মনোনিবেশ করতে পারি। বড় হওয়ার জন্য আমার মধ্যে প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা কাজ করে। আমি বিশ্বাস করি, যদি আমি আপনার প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাই, বড় কোনো অবদান রাখার মাধ্যমে নিজেকে প্রমাণ করতে পারব। আপনাকে মনে রাখতে হবে, সিভিতে প্রকৃত অবস্থান উল্লেখ করার মাঝে কোনো ভুল নেই। নিজের চিন্তাভাবনার ব্যাপারে সততা সব সময়ই অন্যের মাঝে ইমপ্রেশন তৈরি করে।


ইন্টারভিউর মুখোমুখি হওয়া
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, আপনি যখন কোনো ইন্টারভিউ বোর্ডে যাবেন, তখনই ইন্টারভিউ যাঁরা নেন তাঁরা প্রথম দেখায় আপনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। মনে রাখতে হবে, প্রথম ইমপ্রেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবশ্যই আপনাকে মার্জিত পোশাক পরতে হবে। ইন্টারভিউয়ে নিজের স্মার্টনেস প্রকাশ করবেন কিন্তু কখনো ওভার স্মার্ট হবেন না। প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে স্মার্ট ও যথাযথভাবে। যেই প্রশ্নের উত্তর আপনি জানেন, সেগুলোর ব্যাখ্যা দেবেন উদাহরণসহ। আপনি যদি কোনো উত্তর জেনে না থাকেন, সে ক্ষেত্রে বলতে পারেন, সরি স্যার, আমার কোনো ধারণা নেই। মনে রাখবেন, সবকিছু জানা আপনার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার স্মার্ট ও কনফিডেন্ট (ওভার কনফিডেন্ট নয়) উত্তর খুবই গুরুত্বপূর্ণ।


নিজের কাজ সম্পর্কে জানা
আপনাকে অবশ্যই নিজের কাজ ও দায়িত্ব সম্পর্কে পরিপূর্ণভাবে জানতে হবে; কী করতে হবে এবং কী করা যাবে না। কাজটাকে বোঝা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি দ্রুত কাজ সম্পর্কে না জানেন, তাহলে আপনার জন্য নিজের কাজে কোনো অবদান রাখাটা কঠিন হয়ে পড়বে। একজন ফ্রেশার হিসেবে আপনি কম জানতেই পারেন কিন্তু আপনাকে কাজ করতে হবে সিনসিয়ারলি, যাতে আপনি নিজের কাজটা খুব দ্রুত শিখতে পারেন। কাজের ব্যাপারে আপনাকে হতে হবে পেশাদার।


প্রতিষ্ঠানকে বোঝা
যেই প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন সেই প্রতিষ্ঠানকে বোঝা খুব জরুরি। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ভিন্ন—সেটা সরকারি, মাল্টিন্যাশনাল অথবা জাতীয় হোক না কেন। প্রাথমিক ধাপে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি বা লক্ষ্যের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোটাই উত্তম। ব্যবসা ও কাজের ওপর নির্ভর করে তরুণদের উচিত ধাপে ধাপে নিজেদের খাপ খাওয়ানো। এ ক্ষেত্রে তাদের উচিত সিনিয়র, সহকর্মীদের কাছ থেকে সাহায্য নেওয়া। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কঠোর পরিশ্রম কখনো বৃথা যায় না। কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প কিছু নেই। কিন্তু এটাও সত্যি, কেবল কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয় নিজের উন্নতির জন্য। কাজ সম্পন্ন করার জন্য আপনাকে হতে হবে স্মার্ট। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই তাঁদের দিকেই মনোনিবেশ করে, যাঁরা তাদের কাজের ব্যাপারে নিবেদিত। মনে রাখবেন, ১০০ ভাগ কাজ করা মানে এই নয় যে তিনি তাঁর পরবর্তী ধাপের জন্য উপযুক্ত। ১০০ ভাগ কার্যোপযোগীর মানে হলো, তিনি তাঁর বর্তমান অবস্থানের জন্য যোগ্য। সুতরাং আপনাকে একটু বেশি কাজ করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠান আপনাকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য যোগ্য মনে করে।

পুরুষদের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধির অসাধারণ প্রাকৃতিক উপায়

অধিকাংশ পুরুষের মধ্যে একটা সমস্যা বেশ প্রকট হয়ে উঠছে। দিন যত যাচ্ছে পুরুষের মধ্যে নপুংসকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের যৌন ইচ্ছা যাচ্ছে ক্রমশ কমে। কাজেই যৌন চাহিদা কমে যাওয়ার আগে থেকে সচেতন হওয়া প্রয়োজন৷ জেনে নিতে পারেন কী করে এই চাহিদা ক্রমশ ক্ষয়মান হচ্ছে৷

হোম রেমেডি পুরুষের এই সমস্যা সমাধানের জন্য এগিয়ে এসেছে৷ তারা যাতে আবার তাদের পূর্ণ যৌন ইচ্ছা ফিরে পায় তার উপায় বার করেছে হোম রেমেডি৷ যাদের মধ্যে এই অসুবিধা সবেমাত্র দেখা দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে হোম রেমেডি কার্যকরী হতে পারে৷ কিছু কিছু ক্ষেত্রে হোম রেমেডি দ্বারা চিকিৎসা করা যায় কিন্তু সবক্ষেত্রে হোম রেমেডি প্রযোজ্য নয়৷

এবার আসুন জানা যাক যৌন অক্ষমতার প্রথম ধাপের চিকিৎসাতে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য কি কি সামগ্রী কাজে লাগতে পারে বা তা ব্যবহারে কি উপকার হয়-


রসুন: যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভালো ফল দিয়ে থাকে৷ রসুনকে ‘গরীবের পেনিসিলিন’ বলা হয়৷ কারণ এটি অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে৷ যা আমরা প্রায় প্রতিনিয়্তই খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে থাকি৷

আপনার যৌন ইচ্ছা ফিরে আনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার খুবই কার্যকরী৷ কোনো রোগের কারণে বা দুর্ঘটনায় আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গেলে এটি আপনাকে তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে৷ এছাড়া যদি কোনো ব্যক্তির যৌন ইচ্ছা খুব বেশি হয় বা তা মাত্রাতিরিক্ত হয় যার অত্যধিক প্রয়োগ তার নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করতে পারে এমন ক্ষেত্রেও রসুন খুবই কার্যকরী৷

প্রতিদিন দু’ থেকে তিনটি রসুনের কোয়া কাঁচা অবস্থায় চিবিয়ে খান৷ এতে আপনার যৌন ইচ্ছা কমে গিয়ে থাকলে তা বৃদ্ধি পাবে৷ এ ছাড়া গমের তৈরি রুটির সঙ্গে রসুন মিশিয়ে খেলে তা আপনার শরীরে স্পার্ম উৎপাদনের মাত্রা বাড়ায় এবং সুস্থ্য স্পার্ম তৈরিতে এটি সাহায্য করে৷

পেঁয়াজ: কাম-উত্তেজক ও কামনা বৃদ্ধিকারী হিসেবে পেঁয়াজ বহুদিন থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে৷ কিন্তু এটি কীভাবে এই বিষয়ে কার্যকরী তা এখনো পর্যন্ত সঠিকভাবে জানা যায়নি৷
সাদা পেঁয়াজ পিষে নিয়ে তাকে মাখনের মধ্যে ভালো করে ভেঁজে নিয়ে তা প্রতিদিন মধুর সঙ্গে খেলে তা থেকে উপকার পাওয়া যায়৷ কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখবেন, এটি খাওয়ার আগে ঘণ্টা দুয়েক সময় আপনার পেট খালি রাখবেন৷ এইভাবে প্রতিদিন খেলে স্খলন, শীঘ্রপতন বা ঘুমের মধ্যে ধাতুপতন ইত্যাদি সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব৷

এছাড়া পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কালো খোসা সমেত বিউলির ডালের গুঁড়ো সাত দিন পর্যন্ত ভিজিয়ে রেখে তাকে শুকিয়ে নিন৷ এটির নিয়্মিত ব্যবহার আপনার কাম-উত্তেজনা বজায় রাখবে এবং শারীরিক মিলনকালীন সুদৃঢ়তা বজায় রাখবে৷

গাজর: দেড়শো গ্রাম গাজর কুঁচি এক টেবিল চামচ মধু এবং হাফ-বয়েল ডিমের সঙ্গে মিশিয়ে দুমাস খেলে আপনার শারীরিক এই অক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।