৭১-এর যুদ্ধে ৯৩০০০ পাক বন্দিকে এক ‘অজ্ঞাত’ কারণে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভারত


১৯৭২-এর ২ অগাস্ট। ঠিক আট মাস আগেই শেষ হয়েছে ১৩ দিনের ভারত-পাক যুদ্ধ। এদিন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিমলা চুক্তি। আর ফলে ভারত ৯৩০০০ পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দিকে ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়। ৭১-এর যুদ্ধ চলাকালীন এদের বন্দি করা হয়েছিল ভারতে। এটা ছিল ভারতের অত্যন্ত বিতর্কিত একটি সিদ্ধান্ত। কেন এই সময় ওই বন্দিদের হাতের তাস করে কাশ্মীর নিয়ে দরাদরি করেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী? হয়ত মিটে যেত সমস্যা!

কিসের জন্য পাক বন্দিদের ছেড়ে দিতে রাজি হয়ে যান ইন্দিরা? এর পিছনে আসল গল্প কি ছিল? সেটা জানলে হয়ত বিতর্কের সমাধান হত। কিন্তু সেই গল্প রয়ে গিয়েছিল গোপনেই। কোনোদিন তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি। ৪০ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে সেই যুদ্ধের। সেদিন কেন পাক বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, সেই রহস্য উদঘাটন করেছেন এক অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়।

THE WIRE পত্রিকায় তিনি লিখেছেন সেই ইতিহাস। ২৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাক যোদ্ধারা আত্মসমর্পণ করে ঢাকায়। ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশ মুক্তি বাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে তারা। ভারত আর বাংলাদেশের জন্য সে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কিন্তু সেইসময় ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারত অন্য এক বিপদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। একদিকে, যুদ্ধের বিপুল খরচ, তার উপরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা প্রায় ১ কোটি শরণার্থী, যারা পাক সেনার অত্যাচারে সীমান্ত পার করে চলে এসেছিল তাদের খরচ। তার মধ্যে বাড়তি খরচ এই ৯৩০০০ পাক সেনা।

ইন্দিরা গান্ধীর মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল, কিভাবে শেখ মুজিবর রহমানকে নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়। তার জন্য যে কোনও মূল্য দিতে রাজি ছিলেন তিনি। সেকথা তিনি একজনকেই বলেছিলেন। তিনি হলেন তৎকালীন RAW প্রধান রাম নাথ রাও। পাকিস্তানের মিলিটারি কোর্টে ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছিল তাঁকে, নৃশংসভাবে হত্যা করার পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। সেটাই ছিল ইন্দিরা গান্ধীর সবথেকে বড় দুঃস্বপ্ন। হৃদয় দিয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল ভারত। তাই মুজিবর রহমানকে হত্যা করা হলে, ভারতের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে। এটাই ছিল ভয়। বাংলাদেশকে ‘অনাথ’ দেখতে চাননি তিনি।

এদিকে, পরাজয়ের অপমান সহ্য করতে না পেরে পদত্যাগ করেন তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহা খান। আমেরিকায় থাকা জুলফিকর আলি ভুট্টোকে ফোন করে সেকথা জানান। দায়িত্ব দিয়ে যান ভুট্টোকেই। তড়িঘড়ি রাওয়ালপিন্ডির বিমান ধরেন ভুট্টো।

ইন্দিরার ঐতিহাসিক কূটনীতি:
ভুট্টোর ফেরার খবর পেয়েই জরুরি মিটিং ডাকেন ইন্দিরা গান্ধী। ভুট্টোর বিমান রিফুয়েলিং-এর জন্য থামার কথা ছিল হিথরো বিমানবন্দরে। ইন্দিরা গান্ধী চেয়েছিলেন, সেইসময় সেখানে উপস্থিত থাকুক কোনও ভারতীয় প্রতিনিধি। যাতে তিনি জানতে পারেন, মুজিবর রহমানকে নিয়ে কি ভাবছেন তিনি? সেই বৈঠকে ছিলেন বিদেশমন্ত্রকের উপদেষ্টা দূর্গা প্রসাদ ধর, RAW প্রধান রাম নাথ কাও, প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি পিএন হাসকার, বিদেশ সচিব টিএন কাউল।

মুজফ্ফর হোসেন, পূর্ব পাকিস্তানের চিফ সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি ভারতে যুদ্ধবন্দি হন এবং ডিপি ধরের বাড়িতে অতিথির মর্যাদায় ছিলেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন লন্ডনে। ফলে সেইসময় কূটনীতিকদের মাধ্যমেই যোগাযোগ করতেন স্বামী-স্ত্রী। অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনিই দু’জনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলেন ফলে দু’জনের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়। লায়লা ছিলেন ভুট্টোর একসময়ের বান্ধবী। সেই লায়লাকেই কাজে লাগান ইন্দিরা। ভুট্টোর সঙ্গে কথা বলতে পাঠান লায়লাকে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই।

মুজিবরকে নিয়ে কি ভাবছেন সেটা জানা। এই শশাঙ্ক বন্দ্যোপাধ্যায়ই লায়লাকে জানান, তিনি আতে হিথরো বিমানবন্দরে গিয়ে একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভুট্টোকে বলেন, তাঁর স্বামীকে ভারত থেকে ছাড়ার ব্যবস্থা করতে। সেইমত এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে দেখা হয় দু’জনের। কথাবার্তা শেষে লায়লাকে কাছে টেনে তাঁর কানে কানে একটা বার্তা দেন ভুট্টো। বলেন, ‘লায়লা আমি জানি, তুমি কি জানতে এসেছ। একটা মেসেজ দিও ইন্দিরা গান্ধীকে। বোলো, আমি মুজিবর রহমানকে মুক্তি দেব। কিন্তু বদলে কি চাইব? সেটা পরে জানাব।’

বার্তা জানান লায়লা। তবুও সন্দেহ দূর হয় না। ভারতকে ভুল পথে চালিত করছেন না তো ভুট্টো? কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সন্দেহের অবসান হল। খবরটা সত্যি সেটাই জানা গেল। বদলে চাওয়া হল ৯৩০০০ যুদ্ধবন্দিকে। ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি ছেড়ে দেওয়া হল মুজিবর রহমানকে। ফিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন তিনি। এর ঠিক আট মাস পরে ছেড়ে দেওয়া হয় ওইসব পাক যুদ্ধবন্দিদের।
শোক-শ্রদ্ধায় পিলখানায় নিহতদের স্মরণ

শোক-শ্রদ্ধায় পিলখানায় নিহতদের স্মরণ

পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজা 
 পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও তিন বাহিনীর প্রধানদের শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাশ্রদ্ধা ও শোকের মধ্য দিয়ে আজ রোববার পালিত হচ্ছে পিলখানা হত্যা দিবস। সকালে বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কবরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির পক্ষে তাঁর উপসামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন শ্রদ্ধা জানান।
বনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাবনানী সামরিক কবরস্থানে পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা। ছবি: হাসান রাজাএ ছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্ত্রী-সন্তানসহ স্বজনেরা কবরে ফুল দিয়ে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পিলখানায় নিহত ব্যক্তিদের স্মরণে কাল সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় বিজিবি সদর দপ্তরের বীর উত্তম ফজলুর রহমান খন্দকার মিলনায়তনে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে।
পিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে স্বজনেরা দোয়া পাঠ করেন। ছবি: হাসান রাজাপিলখানায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে স্বজনেরা দোয়া পাঠ করেন। ছবি: হাসান রাজা২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালটা শুরু হয়েছিল বার্ষিক বিশেষ আয়োজন দিয়ে। কিন্তু শেষ হলো রক্ত, লাশ আর বারুদের গন্ধে। সেদিন পিলখানায় বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) বিদ্রোহী জওয়ানেরা নৃশংসভাবে হত্যা করেন ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের । হত্যাযজ্ঞ আর বীভৎসতায় বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল গোটা জাতি। আজ রোববার সেই মর্মন্তুদ ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো। এই ঘটনায় করা হত্যা মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার দুটি ধাপ শেষ হয়েছে।

সবচেয়ে দূষিত বায়ুতে বাংলাদেশ দ্বিতীয়

• যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদন।
• ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে সূচক।
• বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯ তম স্থানে নেমে এসেছে।
• ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল।
• ২০০৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫ তম।
• গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা  ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে দূষিত  বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানপরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থানবিশ্বের কোনো শহর স্থাপনার জন্য, কোনোটা আবার বৃক্ষ বা জলাভূমির জন্য বিখ্যাত হয়। রাজধানী ঢাকা বায়ুদূষণের জন্য এখন আলোচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা ইপিএর সর্বশেষ প্রতিবেদনে বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান-বিষয়ক প্রতিবেদনটি গত ২৩ জানুয়ারি ইপিএ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বিশ্বের ১৮০টি দেশ সামগ্রিকভাবে পরিবেশ সুরক্ষায় কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, তা নিয়ে একটি সূচক তৈরি করেছে। তাতে বাংলাদেশ ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৭৯তম স্থানে নেমে এসেছে। ২০০৬ সালে সর্বপ্রথম ওই সূচকটি তৈরি করা হয়েছিল, সে বছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৫তম। অর্থাৎ গত এক যুগে দূষণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৫৪ ধাপ নিচে নেমেছে।
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে নেপাল, তারপর পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, পাকিস্তান ও কঙ্গোর নাম উঠে এসেছে। আর নির্মল বায়ুর দেশ হিসেবে প্রথমে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এরপর রয়েছে বার্বাডোজ, জর্ডান, কানাডা ও ডেনমার্ক।
বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ (কেইস) প্রকল্প থেকে দেশের আটটি শহরের বায়ুর মান প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দুই মাস ধরে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা শহরের বায়ুর মান মারাত্মক ও খুব অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহর হলো রাজধানী ঢাকা। এরপর রয়েছে রাজশাহী। বরিশাল সবচেয়ে কম দূষিত শহর হলেও এর বায়ু মানমাত্রার চেয়ে খারাপ, অর্থাৎ আশঙ্কাজনক।
পরিবেশ অধিদপ্তরের দৈনিক বায়ু মানবিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল শনিবার দেশের আটটি প্রধান জেলা শহরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বায়ুর মান ছিল সবচেয়ে খারাপ। ইপিএর প্রতিবদেনে একে মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই দিনে ঢাকা ও সিলেটের বায়ু খুবই অস্বাস্থ্যকর। গাজীপুর ও চট্টগ্রামের বায়ু ছিল অস্বাস্থ্যকর। রাজশাহী ও বরিশালের বায়ুকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে বায়ুর এই খারাপ অবস্থা রয়েছে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসজুড়ে ওই শহরগুলোর অধিকাংশের বায়ুর মান মারাত্মক অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় ছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু প্রকল্পের পরিচালক মনজুরুল হান্নান খান প্রথম আলোকে বলেন, শীতের সময় সাধারণত বাতাসে দূষণের জন্য দায়ী ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোর আশপাশে গড়ে ওঠা প্রায় ছয় হাজার ইটভাটা দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী। শীতে এগুলো চালু হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও মেরামত বেড়ে যাওয়ায় বাতাস স্বাভাবিকভাবেই দূষিত হয়ে পড়ে।
বায়ুর বৈশ্বিক মানদণ্ডকে অনুসরণ করে পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ুর মান পর্যবেক্ষণ করে। বায়ুর মানমাত্রার সূচক ১০০-এর ওপরে উঠলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। বায়ুতে ক্ষুদ্র বস্তুকণা ও চার ধরনের গ্যাসীয় পদার্থ পরিমাপ করে এ সূচক তৈরি করা হয়।
পরিবেশ আইন অনুযায়ী, বাতাসে ক্ষুদ্র বস্তুকণা বা ‘পিএম ২.৫’-এর মানমাত্রা হচ্ছে প্রতি কিউবিক মিটারে ১৫ মাইক্রোগ্রাম। ‘পিএম ১০’ বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণার মানমাত্রা ৫০ মাইক্রোগ্রাম।
২০১৫ সালে রাজধানীতে পিএম ২.৫-এর গড় ছিল ৮১ মাইক্রোগ্রাম। ২০১৬ সালে ছিল ৭৬ মাইক্রোগ্রাম। পিএম ১০-এর গড় ২০১৫ সালে ১৪৮ মাইক্রোগ্রাম ও ২০১৬ সালে আরও বেড়ে হয়েছে ১৫৮ মাইক্রোগ্রাম।
দূষণের উৎস
২০১৬ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের কেইস প্রকল্পের আওতায় ঢাকার বায়ুদূষণের উৎস ও ধরন নিয়ে একটি জরিপ হয়েছে। নরওয়ের ইনস্টিটিউট অব এয়ার রিসার্চের মাধ্যমে করা ওই জরিপে দেখা গেছে, ঢাকার চারপাশে প্রায় এক হাজার ইটভাটায় নভেম্বরে ইট তৈরি শুরু হয়। এসব ইটভাটা বায়ুদূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী।
এ ব্যাপারে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক আইনুন নিশাত প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় সরকার নির্মল বায়ুর জন্য শত কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সেই টাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের বহুতল ভবন, সড়কে উন্নত মানের ফুটওভার ব্রিজ, অনেক কর্মকর্তার বিদেশ সফর হয়েছে। কিন্তু সরকারি ওই তথ্য প্রমাণ করছে দূষণ কমেনি, বরং বেড়েছে। তিনি বলেন, দেশের বেশির ভাগ ইটভাটায় দূষণ নিয়ন্ত্রণের কোনো প্রযুক্তি নেই। সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজ করার সময় তাতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের ন্যূনতম উদ্যোগ বা পানি পর্যন্ত ছিটানো হচ্ছে না।
 কালো পতাকায় বাধা, আলালসহ আটক ২০

কালো পতাকায় বাধা, আলালসহ আটক ২০

পুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: সাজিদ হোসেনপুলিশের বাধায় পণ্ড বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: সাজিদ হোসেনবিএনপির আজকের কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি পুলিশের প্রবল বাধার মুখে পড়েছে। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সকালে ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হলে পুলিশ তা ভন্ডুল করে দেয়। এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়। 
পুলিশ বলেছে, অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্য সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করা হয়। বিএনপির কয়েক নেতা-কর্মীকে আটক করা হলেও সংখ্যাটা পুলিশ জানাতে পারেনি।
বিএনপির কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হুড়োহুড়িতে আহত হন বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবিএনপির কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে হুড়োহুড়িতে আহত হন বিএনপির নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোআজ বেলা ১১টার দিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ছিল। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পতাকাও প্রদর্শন শুরু করেন অনেকে। এ সময় হঠাৎ করেই জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশ চড়াও হয়। সেখান থেকে ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য নেতা-কর্মীদের ধাওয়া করে পুলিশ। বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছিটানো হয়। তাদের ধাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে পড়েন। পুরো এলাকায় হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এরপর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কলাপসিবল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশের ধাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোপুলিশের ধাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোওই ফটকের কাছ থেকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এটা কোন ধরনের আচরণ? সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ একটা কর্মসূচির মধ্যে এভাবে জলকামান দিয়ে পানি ছিটানো, লাঠিপেটা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের আচরণ হতে পারে না। রিজভী বলেন, ‘দলের মহাসচিবকেও তারা পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’
বিএনপির সূত্র জানায়, আজকের কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের ধাওয়ার সময় হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে আহত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল হক মিলন ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ বিএনপি নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী।
বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। নয়াপল্টন, ঢাকা। ছবি: প্রথম আলোবেলা সোয়া ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বের হয়ে যাওয়ার সময় যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে আটক করা হয়। সবমিলিয়ে অন্তত ২০ নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
তবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শিবলী নোমান আটকের কথা স্বীকার করলেও এর সংখ্যা বলতে পারেননি। এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আজকে তাঁদের কর্মসূচিতে রাস্তায় দাঁড়ানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অনুমোদন ছাড়া রাস্তায় দাঁড়ানোর জন্যই তাঁদের পানি ছিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।
 এখানে তো বেশ আছি

এখানে তো বেশ আছি

এই অপেক্ষা ক্লান্তির, অনিশ্চয়তার। ভিনদেশে অচেনা পরিবেশে তারা বসে আছে একটু আশ্রয়ের আশায়। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে গতকাল ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে টেকনাফে ঢোকে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার। উপজেলার হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রের সামনে।  ছবি: গিয়াস উদ্দিন।এই অপেক্ষা ক্লান্তির, অনিশ্চয়তার। ভিনদেশে অচেনা পরিবেশে তারা বসে আছে একটু আশ্রয়ের আশায়। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে গতকাল ভোরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য ছেড়ে টেকনাফে ঢোকে কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার। উপজেলার হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রের সামনে। ছবি: গিয়াস উদ্দিন।
  • মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে গত ছয় মাসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।
  • এখানে ভালোই আছেন বলে জানালেন কয়েকজন রোহিঙ্গা
বালুখালী বিএমএস-১ মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে চায়ের দোকানে ঢুকলেন রবিউল হাসান। রবিউল জানালেন, ফজরের নামাজও তিনি এই মসজিদেই পড়েন। দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন। বাকি সময় শিবিরের ঘরে শুয়ে-বসে কাটান। মাঝে দু-একবার চায়ের দোকানে আড্ডা দেন। এভাবেই চলছে গত প্রায় ছয় মাস। রবিউলের ধারণা, এ রকম চলবে হয়তো বাকি জীবন।
রবিউলের বয়স ৩৫ বছর। তিনি আছেন বালুখালী-১ শিবিরে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার ও নির্যাতনে গত ছয় মাসে যে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়ে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শিবিরে বসবাস করছে, রবিউল তাদের একজন।
বালুখালী-১ শিবিরের কাছে রবিউলের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা স্থানীয় আমির হোসেনের চায়ের দোকানে ভিড় জমায়। এদের কারও বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের মংডু এলাকায়, কারও বাড়ি বুচিডং এলাকায়, কারও সিটুওয়ে বা রাচিডংয়ে।
কথা ওঠে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগ নিয়ে। রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমার-বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি সই হয়। কিন্তু রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আসা থামেনি। মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রত্যাবাসনের জন্য ৮ হাজার ৩২ জনের তালিকা হস্তান্তরের পর থেকে গত সাত দিনে টেকনাফে এসেছে ৬১৮ রোহিঙ্গা। সর্বশেষ গতকাল এসেছে ৭২ পরিবারের ২৫৩ রোহিঙ্গা। আর চুক্তি হওয়ার দিন থেকে গত তিন মাসে টেকনাফে এসেছে ১০ হাজার ৯৩৫ রোহিঙ্গা।
এসব আলোচনার মধ্যে আবু জামিল বলে বসলেন, ‘কেন যাব? এখানে তো বেশ আছি।’ নিজ দেশে আবু জামিলের চায়ের দোকান ছিল। সেই অভিজ্ঞতার জোরে বাংলাদেশের আমির হোসেনের দোকানে কাজ পেয়েছেন জামিল।
তবে ‘বেশ আছি’ কথাটি শুধু জামিলের একার নয়। গতকাল শুক্রবার কুতুপালং ও বালুখালী শিবিরে যত রোহিঙ্গা নারী ও পুরুষের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই বলেছেন, তাঁরা বাংলাদেশে ভালো আছেন। তবে আবু জামিল এ-ও বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সরকার পাঠালে আমাদের যেতেই হবে। আমরাও মানুষ, আমাদের আবার যেন অত্যাচার, নির্যাতন, ধর্ষণের মুখে পড়তে না হয়, সেটিও যেন বাংলাদেশ সরকার ভেবে দেখে।’
কুতুপালংয়ের লাম্বাসিয়া শিবিরে একটি ঘরে পাঁচ সদস্য নিয়ে থাকেন মোহাম্মদ সাবের। বয়স ৫০ বছরের বেশি। সকালে ভাত খেয়েছিলেন বলে জানালেন। দুপুরে ও রাতে ভাতের ব্যবস্থা। তিন বেলা এভাবেই চলছে। সাবের বললেন, এখানে খাবারের কোনো কষ্ট নেই। চলাফেরায় কিছু বিধিনিষেধ আছে। যেমন চাইলেই রোহিঙ্গারা যেখানে-সেখানে ঘুরতে যেতে পারে না। সেই সমস্যা মিয়ানমারেও ছিল। এখানে আছে নিরাপত্তা, যা মিয়ানমারে কোনো দিন ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
শিবিরবাসী, সরকারি কর্মকর্তা ও এনজিও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্রাণসামগ্রীর কোনো অভাব নেই রোহিঙ্গাদের। এমনকি বাড়তি চাল, ডাল, চিনি, তেল, কম্বল, থালাবাটি রোহিঙ্গারা নিয়মিতভাবে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রি করছে। সাধারণত বিকেলে এসব সামগ্রী নিয়ে তারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। কর্মকর্তারা কাজ শেষে শহরে ফেরার সময় অল্প দামে কিনে নেন।
একটি বেসরকারি সংস্থার পুষ্টি কেন্দ্রে কথা হয় হাজেরা বেগমের সঙ্গে। বয়স ২৮ বছর। তিনি তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মা। তিনি জন্মের পর থেকেই মিয়ানমার সেনাদের নানা ধরনের অত্যাচারের মধ্য দিয়ে জীবন পার করেছেন। এ দেশে আসার আগে একটি স্কুলে তাঁর স্বামী ও তাঁকে বেঁধে নির্যাতন করেছিল মিয়ানমারের সেনারা। এ দেশে হাজেরা বেগমও বেশ নিরাপদে আছেন।
গত বছরের ২৪ আগস্ট রাখাইনের মংডু এলাকায় কিছু নিরাপত্তাচৌকিতে আরসার সন্ত্রাসী হামলা হয়। এই অজুহাতে পরদিন থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয় সশস্ত্র বৌদ্ধদের একটি অংশ। রোহিঙ্গারা হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ প্রায় সব ধরনের নির্যাতনের মুখে পড়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি বাংলাদেশে আসে গত বছরের ২৫ আগস্ট, ছয় মাস আগে।
ছয় মাস তো খুবই কম সময়। ২০০৫ সালের পর বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার আর রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়নি। তাই এবারের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগও সফল হবে না বলে রোহিঙ্গারা মনে করে। তারা বলছে, ফেরত পাঠানোর প্রথম শর্ত নিরাপত্তা দেওয়া। কিন্তু মিয়ানমার সরকার কোনো দিন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেবে না।
তাই অনেকেই ভবিষ্যৎ দেখছেন বাংলাদেশে। রাখাইনে মোহাম্মদ সাবেরের বাড়ির পাশের স্কুলটি সেনাবাহিনী ছয় বছর আগে বন্ধ করে দিয়েছিল। কুতুপালংয়ে ১০ বছরের মেয়েকে একটি এনজিওর স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছেন।
১৯৭৮ সালে ‘ড্রাগন অপারেশনের’ সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে রোহিঙ্গারা প্রথম বাংলাদেশে এসেছিল। তাদের একটি অংশ বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে মিশে গেছে। তারপরও কয়েক দফায় রোহিঙ্গারা এসেছিল। সবাই ফেরত যায়নি। বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার অতীত অভিজ্ঞতাকে নতুন আসা রোহিঙ্গারা কাজে লাগাতে চাইছে।
 ১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে যুবক, ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার

১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেন এই যুবক। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোবিদ্যুৎ টাওয়ারটি ১৭০ ফুট উঁচু। এটা দিয়ে সঞ্চালিত হয় ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ। সেই টাওয়ারের চূড়ায় ২২-২৩ বছরের এক যুবক চিল্লাচিল্লি, লাফালাফি করছেন। আতঙ্ক নিয়ে নিচ থেকে তা দেখছে শত শত মানুষ। চিৎকার করে লোকজন তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ করছে। কিন্তু কে শোনে, কার কথা!
ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায়। সেখানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পথেরহাট বাজারের পল্লিমঙ্গল এলাকায় কৃষিজমিতে থাকা গ্রিড লাইনের টাওয়ারে উঠে যান ওই যুবক। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন (জাতীয় গ্রিড) লাইনের ১৭০ ফুট উঁচু টাওয়ারের মাথায় উঠে প্রায় ছয় ঘণ্টা অবস্থান করেছেন তিনি। পরে কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা এসে কৌশলে তাঁকে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন।
যুবকের নাম মোহাম্মদ নাছির। তাঁর বাড়ি কুমিল্লায়। তিনি কয়েকবার টাওয়ারে উঠে অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন পথেরহাট বাজারের ছোটন এন্টারপ্রাইজের মালিক ছোটন বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, আজ দুপুর ১২টার দিকে এক যুবককে বিদ্যুতের উঁচু টাওয়ারের চূড়ায় উঠে নাচানাচি করতে দেখা যায়। সবাই তাঁকে নেমে আসার অনুরোধ জানালেও তিনি তোয়াক্কা করেননি।
চট্টগ্রাম কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা অর্জুন বাড়ৈই প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, যুবকটি প্রায় ছয় ঘণ্টা টাওয়ারের চূড়ায় ছিলেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে আসেন এবং খাবারের লোভ দেখিয়ে তাঁকে নিচে নামিয়ে আনেন। নিচে নামিয়ে আনার আগেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
তিনি বলেন, যুবকের হাতে ব্লেড ছিল। ব্লেডের আঘাতে তাঁর গলায় ও দুই হাত জখম হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি এখন শঙ্কামুক্ত।

২৫ জানুয়ারি রাউজানের উরকিরচরে টাওয়ারে উঠেছিলেন এক যুবক। অনেকের ধারণা, দুটি ঘটনা একই ব্যক্তি ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলো১৭০ ফুট উঁচু বিদ্যুৎ টাওয়ারে ওঠা যুবককে কৌশলে নামিয়ে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে নামানোর আগেই তিনি জ্ঞান হারান। রাউজান, চট্টগ্রাম, ২৩ ফেব্রুয়ারি। ছবি: প্রথম আলোচট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর রাউজানের ওয়্যারিং পরিদর্শক আজিমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে রাউজানে। এ জন্য দরকার নির্দিষ্ট বেষ্টনী দিয়ে টাওয়ারে ওঠার পথ বন্ধ করার। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ রাউজান নোয়াপাড়া জোনাল অফিসের উপপ্রকৌশলী সিরাজুল হক বলেন, টাওয়ারটির উচ্চতা ১৭০ ফুট। এখানে জাতীয় গ্রিডের ১ লাখ ৩২ হাজার কেবির বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন গেছে। এই টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু থাকা অবস্থায় ওঠার কোনো সুযোগ নেই।
এ প্রসঙ্গে পিডিবির চট্টগ্রামের মদুনাঘাট অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরহাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত উঁচু টাওয়ারে বিদ্যুৎ লাইন চালু অবস্থায় কারও ওঠার সুযোগ নেই। যুবকটি কীভাবে উঠলেন বুঝতে পারছি না।’
ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন, মানুষ আতঙ্কে

ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন, মানুষ আতঙ্কে

বংশাল থানার বিস্ফোরক মামলায় নাদের নামের এই ব্যক্তিকে (দুই হাতে ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার) রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। গতকাল বিকেলে তাঁকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।  ছবি: হাসান রাজা বংশাল থানার বিস্ফোরক মামলায় নাদের নামের এই ব্যক্তিকে (দুই হাতে ব্যান্ডেজ ও প্লাস্টার) রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। গতকাল বিকেলে তাঁকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: হাসান রাজা
  • আজ খালেদা জিয়ার মামলার রায়
  • ঢাকায় ১০ হাজার পুলিশ ও ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
  • আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রাজপথে থাকবেন
বিএনপির চেয়ারপারসন  খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশের সঙ্গে ঢাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিএনপি কোনো কর্মসূচি না দিলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই মামলায় সাজা পেলে তা দেশের রাজনীতিতে বিশেষ বার্তা বয়ে আনতে পারে। স্বাধীনতার পর আইনি প্রক্রিয়ায় এই প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচারকাজ শেষ হচ্ছে। এই রায়ের প্রভাব চলমান রাজনীতি, আগামী নির্বাচন এবং সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।
বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও রায় ঘিরে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি তো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। সেখানে সরকার একদিকে তাদের দলীয় বাহিনী, আরেক দিকে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি নামিয়ে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অথচ সরকারের দায়িত্ব হলো দেশের শান্তি-স্থিতি রক্ষা করা।’

অবশ্য পুলিশ বলছে, এসব করা হচ্ছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে। দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি নেই বলা হলেও রায়ের পর কিছু ঘটবে না, এটা বিশ্বাস করতে চায় না সরকার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, সেটা বিবেচনা করে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে গত ৯ দিনে গ্রেপ্তার হয়েছেন দলটির প্রায় তিন হাজার নেতা-কর্মী। কয়েক দিন ধরে ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাব-পুলিশের তল্লাশি চলছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকায় ১০ হাজার পুলিশ ও ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে ৬৯ প্লাটুন বিজিবি, আরও ৬৫ প্লাটুন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে শহরজুড়ে বিরাজ করছিল থমথমে পরিস্থিতি।

কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকার পরও এত প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান প্রথম আলোকে বলেন, একটা দায়িত্বশীল সরকারের এটাই দায়িত্ব হওয়া উচিত। ঘটনা ঘটার পর, নাকি ঘটনার আগে প্রস্তুতি নিয়ে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে? বর্তমান সরকার ঘটনা ঘটার আগেই যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে আজ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে মানুষের দৃষ্টি আদালতের দিকে, তেমনি শঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে। আজ এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। মিরপুরে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় স্টেট ম্যাচও শুরু হচ্ছে আজ সকালে। সকাল আটটায় রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল ও কলেজে উদ্বোধন হচ্ছে একাদশ জাতীয় বিজ্ঞান মেলা। গতকাল সন্ধ্যা থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া নগরীতে আজ সব মিলিয়ে জনজীবন কীভাবে অতিবাহিত হবে, তা নিয়ে সবাই চিন্তিত।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি দায়ের হয় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালে। দুর্নীতি দমন কমিশন এই মামলা দায়ের করে। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, তাঁর পুত্র এবং দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন মামলার আসামি। আজ রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত থাকবেন।

খালেদা জিয়ার সাজা হলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হবে কি না, হলে কোন কারাগারে রাখা হবে—এ নিয়ে সর্বত্র আলোচনা। এরই মধ্যে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের নারী সেলের দোতলার ঘরগুলোতে ধোয়ামোছার কাজ চলছে। আবার গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় নারী কারাগারের কথাও আলোচনায় আছে।
গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়া বলেছেন, তিনি যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছেন। তবে রায় যা-ই হোক, উচ্চতর আদালতে দুই পক্ষেরই আপিলের সুযোগ থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় এই মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৫(২) ধারার অভিযোগ (অর্থ আত্মসাৎ) প্রমাণিত হলে ৪০৯ ধারায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত-৫-এ এই মামলার বিচারকাজ চলে। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ এই আদালতে মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ২৫ জানুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।
এই মামলার শুনানির শেষ দিনে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, মামলার প্রায় প্রতিটি কার্যক্রম চ্যালেঞ্জ করে আসামিপক্ষ বারবার উচ্চতর আদালতে গেছে। কিন্তু প্রতিবারই হেরে এসেছে। তাঁরা এই আদালতে যেসব যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন, উচ্চতর আদালতেও একই কথা বলেছেন। আর রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, ১৯৯১ সালের ঘটনার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০০৭-০৮ সালে শুরু হতে পারে না। তদন্ত কর্মকর্তা কিছু কথা বলেছেন, যেগুলো সর্বৈব মিথ্যা। ঘষামাজা নথি ও মনগড়া তথ্য দিয়ে সাজানো মামলাটিতে যে কোনো সারবত্তা নেই, তা তাঁরা আদালতে প্রমাণ করতে পেরেছেন। তাই তিনি সব আসামির বেকসুর খালাস দাবি করেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। দলের নেতা-কর্মীরা সমবেত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে যে কথা শোনা গিয়েছিল, তা-ও নাকচ করে খালেদা জিয়া শান্তিপূর্ণ উপায়ে আন্দোলনের কথা ঘোষণা করেছেন।

তবে গত ৩০ জানুয়ারি খালেদা জিয়া একটি মামলায় হাজিরা শেষে ফেরার পথে দলীয় নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয় এবং আটক-গ্রেপ্তার শুরু করে।
অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তাই আওয়ামী লীগ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং তাদের নেতা-কর্মীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য রাজপথে থাকবেন।
 গতকালই নগরীর হকার ও উদ্বাস্তুদের যথাসম্ভব রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পথচারীদের ওপর চলে কড়া নজরদারি। ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় যানবাহন আসা কমে যাওয়ায় গতকালই ঢাকা মহানগরী প্রায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, আজও এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল রাজধানীর গাবতলী এলাকায় প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও দূরপাল্লার বাসে কঠোর তল্লাশি চালায় পুলিশ। গাবতলী ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, রায়কে কেন্দ্র করে গাবতলীতে ১০০ জন ট্রাফিক পুলিশ ডাবল শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে তাঁরা তিন শিফটে এ দায়িত্ব পালন করতেন। দারুস সালাম থানা-পুলিশও তাদের সঙ্গে তৎপর রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব পুলিশ সদস্যের সাপ্তাহিক ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।

বিভিন্ন বাস কাউন্টারে গিয়ে সেখানে থাকা কর্তব্যরত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার বাইরে থেকে গাড়ি কম আসছে। মূলত যাত্রীসংকট থাকার কারণেই বিভিন্ন জেলা থেকে বাস ছেড়ে আসতে পারছে না বলে তাঁরা জানান।

হানিফ পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মাধব চন্দ্র দেব বলেন, অন্য দিন যেখানে তাঁদের ১২-১৩টি বাস ছেড়ে যায়, সেখানে গতকাল বিকেল পর্যন্ত ছেড়েছে ৫টি। মহাখালী বাস টার্মিনালেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল কম।
বুধবার বিকেল থেকেই গণপরিবহন এবং ব্যক্তিগত ও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়েছে। কর্মজীবী সাধারণ মানুষ আজ কীভাবে কর্মস্থলে যাতায়াত করবেন, তা নিয়ে উৎকণ্ঠা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক প্রথম আলোকে বলেন, সরকার বলছে, সহিংসতা প্রতিরোধে তাদের এই ব্যবস্থা। যেকোনো অজুহাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের ব্যাপক মোতায়েন জনগণের চলাচল, সমাবেশ, বাক্স্বাধীনতা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম অর্থাৎ সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

শাহদীন মালিকের মতে, কেউ অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার ও বিচার করতে হবে। কিন্তু সম্ভাব্য অপরাধের অজুহাতে পুরো রাজধানী এভাবে অবরুদ্ধ করা জনগণের অধিকারকে অশ্রদ্ধা করারই নামান্তর।

একনজরে
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা
দুদকের মামলা
২০০৮ সালের ৩ জুলাই
অভিযোগপত্র
২০০৯ সালের ৫ আগস্ট
প্রধান অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের ২,১০,৭১,৬৭১ টাকা আত্মসাৎ
অভিযোগ গঠন
২০১৪ সালের ১৯ মার্চ
আসামি: ৬ জন
মোট সাক্ষী: ৩২ জন
মামলার ধারা
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২), দণ্ডবিধির ৪০৯, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
মোট শুনানি: ২৩৬ কার্যদিবস
আত্মপক্ষ সমর্থন: ৩৪২ ধারায় আসামিরা করে বক্তব্য দেন ২৮ দিন
যুক্তিতর্ক উপস্থাপন: ১৬ দিন
যুক্তিতর্ক শেষ: ২৫ জানুয়ারি। ওই দিনই রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন আদালত

সূত্রঃ প্রথম আলো 
খালেদা জিয়ার মামলায় কোন ধারায় কী সাজা?

খালেদা জিয়ার মামলায় কোন ধারায় কী সাজা?

আদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়া। প্রথম আলাে ফাইল ছবিআদালত প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ছয়জন আসামি। রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসনসহ অন্যদের সাজা হতে পারে, আবার তাঁরা খালাসও পেতে পারেন।

এই ছয় আসামির বিরুদ্ধে যেসব ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, এতে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন, সর্বনিম্ন যেকোনো মেয়াদে কারাদণ্ড। এর সঙ্গে আর্থিক কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

বিদেশ থেকে পাঠানো এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্য বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এই মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ১০৯ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন।

দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি তার সরকারি কর্মচারীজনিত ক্ষমতার বা একজন ব্যাংকার, বণিক, আড়তদার, দালাল, অ্যাটর্নি হিসেবে তার ব্যবসায় যেকোনো প্রকারের কোনো সম্পত্তি বা কোনো সম্পত্তির ওপর আধিপত্যের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আর দুর্নীতি দমন আইনের ৫(২)-এ বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী অপরাধমূলক অসদাচরণ করিলে বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করিলে তিনি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের যোগ্য হবেন। অপরাধমূলক অসদাচরণ সংশ্লিষ্ট অর্থিক সম্পদ অথবা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন তারেক রহমান, কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।

মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২ দশমিক ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে, যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা।
তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন। অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহিতীর ব্যবস্থাও। অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহিনী জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান। পরে ওই টাকা আত্মসাত করেন, যার জন্য তিনি দায়ী।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থেকে নিজের পদমর্যাদা বলে সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ করেছেন।

সূত্রঃ প্রথম আলাে

আট লেনে উন্নীত হবে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে

কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বালু নদ পর্যন্ত পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে সড়কটি (৩০০ ফুট) ৪ লেন থেকে ৮ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) অনুসারে এই অংশের সার্ভিস সড়কও ৩ লেন থেকে ৬ লেনে উন্নীত করা হবে। ৩০০ ফুট সড়কের দুপাশে চলমান ১০০ ফুট খাল খনন প্রকল্প সম্প্রসারণ করে তার আওতায় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।