স্মার্টফোনে আসক্তরা মাথাব‌্যথায় খাচ্ছেন

সংবাদ ডেস্ক: ঘন ঘন মাথা ব‌্যথা করে? মনে হয় যেন যন্ত্রণায় মাথাটা ছিঁড়ে, ফেটে, চৌচির হয়ে যাচ্ছে? চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে যায়? কান ঝালাপালা করে? মুঠো মুঠো পেন-কিলার গিলতে হয়? আচ্ছা, আপনি কি স্মার্টফোন ইউজার? না, না। ভুল কিছু পড়েননি।

মাইগ্রেন থেকে মুক্তির জন্য করুন

কাজ করতে করতে হঠাৎ করে মাথাব্যথা বা বমি ভাব? কিংবা বাড়ির শিশুটি খেলাধূলা করে ফিরে কিংবা পড়তে বসলেই মাথা ব্যথার কথা বলছে? তাহলে এখনই সাবধান হওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এগুলি সবই কিন্তু মাইগ্রেনের লক্ষণ।

হঠাৎ আঘাত পেলে


হঠাৎ আঘাত পেলে শরীরের ওই নির্দিষ্ট জায়গায় অতিরিক্ত চাপে ফুলে যায়। এ ধরনের আঘাতে যে সমস্যা হয় তাকে সাধারণত সফট টিস্যু ইনজুরি বলে। আঘাত হাতে-পায়ের, কোমরের বা শরীরের অন্য জায়গার মাংসপেশি, হাড়, হাড়ের জোড়, নার্ভ বা লিগামেন্টের অবস্থানগত পরিবর্তনের জন্য ব্যথা হয়। আবার কেউ মাথায়ও আঘাত পেতে পারে, ফলে বাহ্যিক-অভ্যন্তরীণ দুই ধরনেরই ক্ষতি হতে পারে। একেক জায়গার আঘাতে চিকিৎসার ধরন পরিবর্তিত হয়ে থাকে। সব আঘাতই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু মাথায় আঘাত সব সময় বেশি গুরুত্ব বহন করে।

হঠাৎ হাতে-পায়ে আঘাত পেলে কী হয়—
আঘাতপ্রাপ্ত জায়গা ফুলে যায়
 প্রচণ্ড ব্যথা হয়

ওই অংশটি লাল হয়ে যায় এবং গরম থাকে। এটা হয় কোনো দুর্ঘটনায় আঘাত পেলে, খেলাধুলার সময় আঘাত পেলে, মাংসপেশিতে হঠাৎ টান লাগলে কিংবা পা পিছলে পড়ে গেলে। আর এসব কারণে সফট টিস্যু ইনজুরি হয়। আঘাতের তীব্রতা বেশি হলে হাড় ভেঙে যেতে পারে। হাড় ভেঙে গেছে সন্দেহ হলে অবশ্যই এক্স-রে করাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিতে হবে।

এমন আঘাতে কী করবেন
আক্রান্ত জায়গায় বরফ ব্যবহার করতে হবে ১৫-২০ মিনিট ধরে। ভিজা গামছার ভেতর বরফ নিয়ে আক্রান্ত অংশে মুড়িয়ে দিন। যদি বেশি ঠান্ডা লাগে, ৩ মিনিট পর উঠিয়ে ফেলুন। শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে আবার ১২-১৪ মিনিট ধরে পেঁচিয়ে রাখুন। আক্রান্ত অংশ ফুলে গেলে ক্রেব ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখুন, যাতে আর ফুলতে না পারে। আক্রান্ত অংশ বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে উঁচু করে রাখুন, যাতে হৃৎপিণ্ড বরাবর থাকে। এই অবস্থায় হালকা ব্যায়াম, হালকা মালিশ, আলট্রাসাউন্ড থেরাপি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। রোগীকে ৬-৭ দিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। লক্ষ রাখতে হবে রোগী আবার যেন আঘাত না পায়। 


ব্যথা ভালো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসাসহ অন্য চিকিৎসা নিতে হবে।


মাথায় হঠাৎ আঘাত পেলে কী করবেন
আকস্মিক দুর্ঘটনায় কারও মাথায় আঘাত লাগতে পারে। যেমন ক্ষণিকের ভুলে কোলের শিশু পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেতে পারে। সড়ক দুর্ঘটনায়, বিশেষ করে মোটরসাইকেল আরোহীদের মাথায় আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘মাথায় আঘাত পাওয়া রোগীর সঙ্গে অন্য আঘাত থাকতে পারে। যেমন তার ঘাড়ে সারভাইক্যাল ইনজুরি থাকতে পারে। তার লাম্বোসেকরাল কোমড স্পাইনাল ইনজুরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তার নড়াচড়া হতে হবে খুব সীমিত।’
মাথায় আঘাত পাওয়া কোনো রোগীর ক্ষেত্রে প্রথমে দেখতে হবে, শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছে কি না ঠিকমতো। যদি শ্বাসপ্রশ্বাস ঠিক না থাকে, দেখতে হবে নাকে–মুখে কোনো বাধা আছে কি না। যদি দেখা যায়, মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে, জায়গাটি চেপে ধরে বন্ধ করতে হবে। অচেতন রোগীকে বেশি টানাটানি করা হলে হয়তো ঘাড়ে আঘাত পেয়ে যেতে পারে। সেই অবস্থায় তাকে আস্তে আস্তে তুলে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।
মাথায় আঘাত লাগার ফলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে সেগুলো হলো মাথাব্যথা, বমি বা বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি, অচেতন অবস্থা, দুই চোখের নিচে রক্ত জমে কালো রং ধারণ বা ব্ল্যাক আই ইত্যাদি।


এ বিষয়ে পরামর্শ
অনেকেই মনে করেন, মাথায় আঘাত লাগলেই নিশ্চিত মৃত্যু। ব্যাপারটা আসলে সে রকম নয়, বরং যত দ্রুত সম্ভব, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে আঘাতের মাত্রা নির্ণয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে ক্ষতির মাত্রা কমবে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মাথায় আঘাত লাগার পর রোগীকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও পরে হঠাৎ অবস্থা জটিল হতে পারে।


কোমরে ব্যথা পেলে
কোমরে ব্যথা পাওয়ার পর হাঁচি অথবা কাশি দিতে গিয়ে কোমরে ব্যথা লাগবে। কোমরের ব্যথা পায়ে ছড়িয়ে যায় এবং অনেক সময় ব্যথা শুধু পায়েই অনুভূত হয়, কোমরে না–ও হতে পারে। হাঁটলে বা কাজ করলে ব্যথা বেড়ে যায়, রাতে ঘুমেরও ব্যাঘাত হতে পারে। অনেক সময় রোগী পায়ে ঝিনঝিন, অবশ ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। কোনো কোনো রোগীর কোমর একদিকে বেঁকে যায় এবং চিত হয়ে শুয়ে পা উঁচু করলে তার ব্যথা অনুভূত হবে।

এই অবস্থায় ভারী জিনিস তোলা নিষেধ এবং শারীরিক ব্যায়াম অবশ্যই বন্ধ থাকবে।
এরকম আঘাতের ব্যথার কারণ বের করে যদি সঠিক চিকিৎসা করা যায়, তাহলে ব্যথা তাড়াতাড়ি কমে যাবে।


লেখক: চিকিৎসক
মো. শরিফুল ইসলাম

মানুষের শরীর নিয়ে চমকে যাওয়ার মতো কিছু তথ্য

মানুষের দেহ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি চমকে যাওয়ার মতো তথ্য জানতে পড়ুন এই প্রতিবেদনটি-
  • পুরুষদের থেকে মহিলারা প্রতিদিন বেশি চুল হারান। প্রতিদিন পুরুষেরা হারান ৪০টার মতো চুল আর মহিলারা হারান ৭০ টার মতো চুল।
  • মানুষের শরীরের রয়েছে প্রচুর পরিমাণে লবণ। মানুষের শরীরের রক্তে লবণের পরিমান একটা সাগরে থাকা লবনের সমান।
  • মানুষ রাতের থেকে সকালে তুলনামূলক বেশি লম্বা হয়ে যায়।
  • মানুষের শরীরের হৃদপিন্ডের প্রতিদিনের গড় রক্তসঞ্চালনের পরিমাণ ১০০০ বার।
  • আমাদের চোখের পাপড়ির আয়ুকাল মাত্র ১৫০ দিন।
  • মানুষের চোখের ভ্রুতে চুলের পরিমাণ প্রায় ৫০০-র মত।
  • একজন মানুষের শরীরে গড় নার্ভের পরিমাণ গড়ে প্রায় একশো বিলিয়ন।
  • বিশ্বাস না হলে মিলিয়ে দেখুন। মানুষ চোখ খোলা রেখে কখনই হাঁচতে পারে না।
  • একজন মানুষের শরীরে হাড় জমাট বাঁধা কংক্রিটের চেয়ে অনেক বেশি শক্ত।
  • ছোটদের জন্য বসন্তকালটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ তারা বসন্তকালে সময়ে সবচেয়ে বেশি বেড়ে উঠে।
  • মানুষের মাথার খুলি বিভিন্ন রকমের ২৬ টি হাড় দিয়ে তৈরি।
  • জেনে অবাক হবেন যে, আমাদের শরীরের ভিতরের সমস্ত যন্ত্রাংশ কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় যখন আমরা হাঁচি দিই। এমনকী,  আমাদের হৃদয়ও।
  • জিভ শুধু স্বাদ গ্রহণ আর উচ্চারণে নয়, মানুষের শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী একটি পেশীও।
  • স্বাভাবিক একজন মানুষ দৈনিক ছয়’বার মূত্রত্যাগ করেন।
  • মানুষের মুখ থেকে পেটে খাবার যেতে সময় লাগে মাত্র ৭ সেকেন্ড।
  • হাঁচির সময় মানুষের নাক থেকে যে বাতাস বের হয় তার গতিবেগ ১০০ কিমি।
  • উরুর পেশী আপনার শরীরের সবচেয়ে বড় পেশী।
  • মানুষের দেহের সবচেয়ে ছোট হাড় হল কানের হাড়।

শরীরের এই স্থানগুলিতে চাপ দিলেই সমস্যা ‘ভ্যানিশ’

অ্যাকুপ্রেসার কথাটির সঙ্গে নিশ্চয়ই আপনারা অনেকেই পরিচিত৷ জানেন এর সাহায্যে অনেক সমস্যার সমাধানও হয়৷ তাই জনপ্রিয়তাও কিছু কম না৷ চলুন চোখ রাখা যাক নিচের লেখাতে…

নিদ্রাহীনতা৷ ইনসমনিয়া৷ বর্তমানে এই সমস্যা একটু একটু গ্রাস করছে তরুণ প্রজন্মকে৷ বয়স হলেই যে ঘুমে কমে যায় তা নয়, এখন স্মার্ট লাইফে ঘুম কম, কাজ বেশি৷ তাই এই রুটিন চলতে চলতে কখন যেন অভিমানিনী ঘুম আপনার চোখ থেকেও বিদায় নিচ্ছে ধীরে ধীরে৷ যার প্রভাব পড়ছে আপনার জীবনে৷ যা হয়তো তখনই টের পাচ্ছেন না, কিন্তু জেনে রাখুন ঘুম কমের ফলেই কিন্তু আপনার জীবনে নেমে আসতে পারে অন্ধকার৷

তবে ওষুধ নয়, প্রাকৃতিকভাবেই সেই ঘুম ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা যেতে পারে৷ আর এক্ষেত্রে অ্যাকুপ্রেসারের জুড়ি মেলা নাকি ভার৷ কিন্তু কোথায় কোথায় সেই প্রেসার দিতে হবে জানান? বলা হয়ে থাকে…



১. দুই ভুরুর ঠিক মাঝের স্থানে- এই স্থানে এক মিনিট হালকা করে চাপ দিন আঙুলে করে৷

২. হাতের তালুর তিন আঙুল নীচে কবজির একেবারে মাঝামাঝি, ছবি অনুযায়ী দু’ হাতেরই এই অংশে এক মিনিটের জন্য হালকা চাপ দিতে থাকুন৷

৩. কবজির হাড়ের পাশেই- চিহ্নিত অংশে অন্য হাতের বুড়ো আঙুলে এক মিনিটের জন্য হালকা চাপ দিন এক মিনিট ধরে৷ দুই হাতের কবজিতে চাপ দিতে হবে একইভাবে৷

দিনে এই স্থানগুলিতে চাপ দিলেই নাকি ফিরে আসতে পারে আপনার হারানো ঘুম৷ তবে সবকিছুর জন্যই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা উচিত৷ কারণ সবার সব সমস্যা নাও হতে পারে৷ তাই না?

খাদ্যগুনে বাড়বে যৌনতা

যৌনতা, স্বাভাবিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়৷ জীবনে এটির পরিমাণ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলে বিশেষ কোন রোগ আপনাকে হামলা করতে পারবে না৷ তবে  যৌনজীবনকে যদি আরও রোমাঞ্চকর করতে চান, বেশ কিছু খাবার আপনাকে সাহায্য করতেই পারে৷ আপনাদের জন্য তেমনই কিছু খাবারের তথ্য৷
অ্যাভোকাডো খাওয়া যৌনতার জন্য বেশ উপযোগী৷ এছাড়ও এতে প্রচুর পরিমাণে অসম্পৃক্ত ফ্যাট বর্তমান এবং সম্পৃক্ত ফ্যাটের পরিমাণ একেবারেই কম৷ তাই এটি হৃৎপিন্ড ও ধমনীর স্বাস্থের পক্ষে ভাল৷ হৃৎস্পন্দন সঠিক হলে সারা দেহে রক্তের সংবহন পর্যাপ্ত পরিমাণে হয়৷ তাই দুর্বল হৃদয়ের জন্যেও এটি বেশ কার্যকরী৷
  • আমন্ড বাদাম কিন্তু যৌনচাহিদা বাড়াতে সক্ষম৷ পুরুষদের ক্ষেত্রে এটি স্পার্ম কাউন্ট বাড়াতে সাহায্য করে৷ এছাড়াও এতে জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, এবং ভিটামিন ই রয়েছে৷ জিঙ্ক কামশক্তি ও যৌনচাহিদা বাড়াতেও সাহায্য করে৷ এছাড়াও এতে বেশ কিছু খনিজ পদার্থ রয়েছে যা যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সক্ষম৷
  • স্ট্রবেরি ফলিক অ্যাসিডের এক অন্যতম উৎস৷ এই জাতীয় উপাদান মহিলাদের প্রজননে সাহায্য করে এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা গেছে স্ট্রবেরী পুরুষদের স্পার্ম কাউন্য বাড়াতেও সক্ষম৷
  •  সামুদ্রিক মাছও কিন্তু কামশক্তি বাড়াতে সহায়ক৷ এটিও জিঙ্কের একটি উৎস যা লিবিডো বাড়াতে সক্ষম৷ এছাড়াও তৈলাক্ত মাছ হৃদয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগি৷
  • লেটুস পাতাও এ বিষয়ে বেশ উপযোগি৷ গবেষণায় দেখা গেছে এতে বেশ কিছু উপাদেয় খনিজ পদার্থ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বর্তমান৷ যে পারিপাশ্বিক চাপের ফলে কামশক্তি বিঘ্নিত করে লেটুস পাতা তাদের পরিশুদ্ধ করে৷
  • প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে ডুমুর অত্যন্ত উপযোগী৷ এতে প্রচুর পরিমাণে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় ফাইবার বর্তমান ফলে এটি শরীরে কাম উত্তেজনা বাড়াতে সক্ষম৷ এছাড়াও এটি হৃদয়কে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে৷
  • লেবু জাতীয় ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি এবং ফলিক অ্যাসিড রয়েছে যা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করতে সক্ষম৷

থাইরয়েড গ্রন্থির সক্রিয়তা: মানসিক অবসাদ

বয়স্কদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধি হতে পারে মানসিক অবসাদের কারণ৷ নতুন এক গবষণায় প্রমাণ হল এমনই এক তথ্য৷ শরীরের বিপাকীয় ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করার সঙ্গে থাইরয়েড মানসিক সুস্থতার উপরেও গভীর প্রভাব বিস্তার করে৷
থাইরয়েডের গ্ল্যান্ড কতটা সক্রিয় তা জানার জন্য গবেষকেরা থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোনের (টিএসএইচ) মাত্রা পরিমাপ করেন৷ থাইরয়েড গ্লান্ড হল এই হরমোন ক্ষরণের মূল উৎস৷ যখন টিএসএইচ এর মাত্রা কম থাকে তখন থাইরয়েড গ্লান্ড সক্রিয় থাকে এবং এটি প্রচুর পরিমাণে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন করে৷ গবেষকেরা আসল থাইরয়েড হরমোনের মাত্রার পরিমাপও গ্রহণ করেন এবং থাইরয়েডের সক্রিয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত হন৷ রটারডামের ইরাসমাস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক মার্কো মেডিকি জানান, যে বয়স্করা একা থাকে এবং যাদের থাইরয়েডের সক্রিয়তা রয়েছে তারা অন্যান্যদের তুলণায় অনেকবেশি মানসিক অবসাদের শিকার৷ এ থেকে এটাই প্রমাণিক যে, থাইরয়েডের কার্যকলাপের ফলে মানসিক স্থিতির পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে রোগী হাইপোথাইরয়ডিসম ও হাইপারথাইরয়ডিসম-এর শিকার হতে পারে৷
এই গবেষণার জন্য গবষকেরা ৭০ বছর বয়সী প্রায় ১,৫০৩ জবকে নিয়ে একটি পরীক্ষা করেন৷ গবেষকেরা এদের প্রত্যেকের টিএসএইচ এর মাত্রা এবং তাদের অবসাদের উপসর্গগুলি পরীক্ষা করেন৷ প্রথম বারের পরিদর্শনে অবসাদের কোন উপসর্গ দেখা না গেলেও পরবর্তী ৮ বছরে তাদের মধ্যে অবসাদের উপসর্গ বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়৷
এই গবেষণায় টিএসএইচ-এর পরিমাণের ভিত্তিতে ব্যক্তিদের তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়৷ মেডিকি জানান, এই গবেশণার ফলস্বরূপ দেখা যায়, যাদের মধ্যে সাইরডেয়ের সক্রিয়তার শক্তিশালী প্রভাব দেখা যায় তারা প্রত্যেকেই অস্বাস্থ্যকর মানসিক অবস্থায় রয়েছেন৷ এই গবেষণার ফলে অবসাদের চিকিৎসার একটি নতুন দিশা উন্মোচিত হল৷
সম্প্রতি এই গবেষণাটি এন্ডোক্রাইন সোসাইটির ক্লিনিক্যাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজমের একটি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে৷