প্রেমিককে কুচি কুচি করে কেটে রেঁধে আবার পরিবেশনও করল মহিলা

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হলে কোনও মহিলা কী করতে পারে? প্রেমিককে উচিত শিক্ষা দিতে পারে। তাঁকে চড় মারা, মারধর করা বা তাঁর জীবন দূর্বিষহ করে তুলতে পারে। মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে মারা বা পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়ারও ভূরি ভূরি উদাহরণ দেখা দিয়েছে। তবে এসবও এখন জলভাত হয়ে গিয়েছে। 

যৌনসম্পর্ক আছে এমন মেয়েদের ‘সস্তা বেশ্যা’ বলছে

নিউজিল্যান্ডে একটি মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অতি-রক্ষণশীল যৌন শিক্ষার পুস্তিকা বিতরণ! যা নিয়ে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
 
‘নিরাপদ যৌনজীবন’ বা ‘সেফ সেক্স’ নামের ওই পুস্তিকায় বিয়ের আগে যৌনসম্পর্ক করেছে এমন মেয়েদের ‘সস্তা বেশ্যা’, এবং বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকছে এমন যুগলকে ‘মজ্জাগতভাবে দায়িত্বহীন ব্যভিচারী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনকি এই বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কেউ সমকামিতায় লিপ্ত হলে তার জন্য মৃত্যু ও নরক অপেক্ষা করছে।’

ক্রাইস্টচার্চের পাপানুই হাই স্কুলের স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্লাসে ১৫ বছরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এই পুস্তিকা বিলি করা হয়। এর পর এক ছাত্রের মা এ নিয়ে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে অনলাইনেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে।  


স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জেফ স্মিথ অবশ্য বলছেন, ছাত্রদের কাছে একটি উগ্র মতাদর্শকে তুলে ধরার জন্যেই বইটি বিলি করা হয়েছে। যদিও এতে স্কুলের নিজস্ব আদর্শের কোন প্রতিফলন ঘটেনি বলে মন্তব্য জেফ স্মিথের।
গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার

গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার

মিয়ানমার গণকবরগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করে ফেলছে।মিয়ানমার গণকবরগুলো বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করে ফেলছে।
  • বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, রাখাইনে গণহত্যার প্রমাণ নষ্ট করছে মিয়ানমার।
  • ১০০ জনের বেশি ব্রিটিশ এমপির ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টে মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেলের বিচার দাবি।
রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার সব প্রমাণ মুছে ফেলতে চাইছে মিয়ানমার। গত বছরের আগস্ট মাসে এ গণহত্যা চালানো হয়। রোহিঙ্গাদের একটি গণকবরে বুলডোজার চালিয়ে তা নিশ্চিহ্ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। মানবাধিকার সংস্থার ওই অভিযোগ ছাড়াও বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) নিজস্ব অনুসন্ধানে মিয়ানমারে অন্যান্য গণকবরের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ওপর ডকুমেন্টারি নিয়ে কাজ করছে ‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’। ওই প্রকল্প থেকে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানে একটি ভিডিও সরবরাহ করা হয়েছে। ওই ভিডিও ফুটেজে জঙ্গল নিশ্চিহ্ন করে ফেলা ও গণকবর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে অর্ধেক মাটিচাপা দেওয়া ত্রিপল ব্যাগে মানুষের গলিত পা দেখা গেছে। গত মঙ্গলবার গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রকল্পের পরিচালক ক্রিস লিউয়া বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গণহত্যার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এখন গণহত্যার প্রমাণ স্থায়ীভাবে মুছে ফেলতে বুলডোজার চালাতে দেখা যাচ্ছে। মিডিয়াতে যে দুটি গণকবরের খবর এসেছে, তার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার একটি গণকবরের ওপর বুলডোজার চালানো হয়েছে। এর অর্থ, সেখানে গণহত্যার সব প্রমাণ নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।
লিউয়া জানান, বুলডোজার চালানোর কাজটি করছে মিয়ানমারের একটি প্রাইভেট কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি রাখাইনের নয়। মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চল থেকে এসে তারা এ কাজ করছে।
‘দ্য আরাকান প্রজেক্ট’ পরিচালক বলেন, ‘এটি থেকে স্পষ্ট যে সরকারি আদেশেই গণহত্যার চিহ্ন মুছে ফেলা হচ্ছে।’
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গত বছরের আগস্ট মাসে গণহত্যা চালানোর স্থানটি হচ্ছে উত্তর রাখাইনের বুথিডাং শহরের মং নুতে। সেখানে গণকবরটির অবস্থান।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) বলছে, রাখাইন থেকে বেঁচে ফেরা লোকজন তাদের বলেছে, গ্রামের বসতবাড়ির আঙিনায় জড়ো হওয়া গ্রামবাসীর ওপর মিয়ানমারের সেনারা নির্যাতন করেছে। এ ছাড়া ধর্ষণ, খুন ও নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। সেখানে এক ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
এইচআরডব্লিউর কাছে থাকা স্যাটেলাইটের ছবিতে দেখা গেছে, মং নু এলাকাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে দ্য ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস বলেছিল, গত আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করার পর এক মাসেই মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ৬ হাজার ৭০০ রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনো তাদের আসা অব্যাহত আছে।
তবে জাতিগত নিধনের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার। গত বছরে নিজস্ব অনুসন্ধানে রাখাইনে নির্যাতনের ঘটনায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করে।
অবশ্য, গত মাসে মিয়ানমার সেনাদের পক্ষ থেকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধনের বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হয়। ইন ডিন নামের একটি গ্রামে রোহিঙ্গাদের একটি গণকবর পাওয়ার কথা স্বীকার করে তারা। সেখানে অনেক রোহিঙ্গা সেনাদের হাতে নিহত হয়েছে।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ইয়াংহি লি বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা ‘গণহত্যার প্রতীক’ হয়ে উঠেছে। তবে জাতিসংঘের অনুসন্ধান মিশনের নেতৃত্বে থাকা ওই কর্মকর্তাকে মিয়ানমারে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে এইচআরডব্লিউয়ের এশিয়া অঞ্চলের ডেপুটি পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেছেন, ‘মুং নুতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ বিষয়ে শুনেছি। বর্মিজ নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাচার গোপন করার ব্যাপক প্রচেষ্টা বিষয়টিতে আমরা উদ্বিগ্ন।’
গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের অন্যান্য অংশে বুলডোজার চালিয়ে সমান করে ফেলা হয়েছে। আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, আগে যেখানে রোহিঙ্গাদের গ্রাম ছিল, সেগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বছরে যে গ্রামগুলো লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল, সেগুলো এখন ধূলিসাৎ বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

লিউয়া বলেছেন, ‘শুধু যে বাড়িগুলো পোড়ানো হয়েছিল সেগুলোই নয়, সেখানে পরিত্যক্ত সব বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
ঘরবাড়িসহ পুরো এলাকা গুঁড়িয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জাও হাতা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার ওই এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে। সেখানে কোনো গ্রামবাসী নেই। কোনো ঘরবাড়ি নেই। শুধু সমতল জমি।’

ফেরত আসা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য নতুন গ্রাম তৈরি করতে হবে বলে জানান হাতা।

গণকবর ধ্বংস করে ফেলা প্রসঙ্গে জাও হাতা বলেন, ‘আমি জানতে চাই, কোন প্রমাণের কথা আপনারা বলেছেন? এটা কি আরসা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী? বিশ্বজুড়ে বাঙালিরা? আমাকে নির্ভরযোগ্য, নিখুঁত ও শক্তিশালী প্রাথমিক প্রমাণ দিন। বাঙালিরা বিশ্বজুড়ে যা বলে বেড়াচ্ছে, তার ওপর ভিত্তি করে কিছু বলবেন না।’
মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বিচার চান যুক্তরাজ্যের এমপিরা
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা অভিযানের নামে সামরিক অভিযান চালানোয় মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইয়াংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল কোর্টের (আইসিসি) কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের ১০০ জনের বেশি এমপি।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রসচিব বরিস জনসনের কাছে লেখা এক চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের অবস্থা তুলে ধরে উচ্চকণ্ঠ হওয়ায় জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের জন্য এটাই উপযুক্ত সময়। লেবার পার্টির সাংসদ রুশনারা আলীসহ ১০০ জনের বেশি সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে ওই চিঠিতে।
তাঁরা বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তাদের প্রধান হ্লাইয়াংকে তাদের নিরাপত্তা অপারেশনের জন্য অর্থবহ কোনো মূল্য দিতে হয়নি। হ্লাইয়াংয়ের শাস্তি না হওয়ায় এ কাজে তাঁর উৎসাহ বেড়ে গেছে। দেশটির অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমান সহিংসতাকে আগ্রাসীভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তিনি এবং শান্তিপ্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ফেলছেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ থেকে বিবৃতি আদায় করেছে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করছে। তবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব পরামর্শ অবহেলা করেছে মিয়ানমার। এখন সামনে এগোনোর সময়। যদিও জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চীন আইসিসির কাছে যাওয়ার বিষয়টির বিরোধী, তবু আন্তর্জাতিক জনমত তৈরি করে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করার চেষ্টা করতে পারি। ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র কাউন্সিলের বৈঠকের আগে যুক্তরাজ্যের সরকারের কাছ থেকে এটা শুরু হোক।
চিঠিতে আরও বলা হয়, যত দেশকে মিয়ানমারে গণহত্যার বিচারের জন্য পক্ষে পাওয়া যাবে, তত হ্লাইয়াং ও তাঁর সেনাদের শাস্তির আওতায় আনা সম্ভব হবে। এতে বেসামরিক মানুষের ওপর ভবিষ্যতে সামরিক নির্যাতন ঠেকানো যাবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সব রসদ সরবরাহ বন্ধ, সেনা প্রশিক্ষণসহ সহযোগিতা বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
যুক্তরাজ্যের এমপিরা চাইছেন, জাতিসংঘ যেন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
সুত্রঃ প্রথম-আলো 

আগুনে পোড়া গ্রাম বুলডোজারে সমান

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের গ্রামের স্যাটেলাইট দৃশ্য (বাঁয়ে)। ধ্বংসস্তূপ ও ছাইভস্মের চিহ্নও এবার বুলডোজার দিয়ে মুছে ফেলা হয়েছে। ছবি: এইচআরডব্লিউ
  • ধ্বংসস্তূপ আর ছাইভস্ম বুলডোজার দিয়ে সমান করা হচ্ছে।
  • এইচআরডব্লিউ বলেছে, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার চিহ্ন মুছে ফেলছে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলো পুড়িয়ে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সব ধ্বংসস্তূপ আর ছাইভস্মও এবার বুলডোজার দিয়ে সাফ করে চিহ্নও মুছে ফেলছে মিয়ানমার সরকার। রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে চালানো নিষ্ঠুরতা-নৃশংসতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করতেই এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ গতকাল শুক্রবার বলেছে, স্যাটেলাইটে ধারণ করা দৃশ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাখাইন রাজ্যে অন্তত ৫৫টি রোহিঙ্গা গ্রামে বুলডোজার চালাতে দেখা গেছে। গত বছরের ২৫ আগস্টের পর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী আগুন দিয়ে রোহিঙ্গাদের এই ৫৫টিসহ ৩৬২টি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস করেছে। গ্রামগুলোতে চালানো জ্বালাও-পোড়াওয়ের চিহ্ন মুছে ফেলার সরকারি এই তৎপরতার নিন্দা জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান-নির্যাতনে এরই মধ্যে রাজ্যটি রোহিঙ্গাশূন্য হয়ে পড়েছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাড়ে ছয় লাখের বেশি নারী-পুরুষ। জাতিসংঘের অভিযোগ, মিয়ানমার সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নির্মূল অভিযান চালাচ্ছে। মিয়ানমার সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও রাখাইনে জাতিসংঘের তদন্ত দলকে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে না। এ নির্মূল অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের ভাষ্য, গত বছর রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর প্রথম কয়েক মাসেই সেনারা ও তাঁদের সহযোগীরা শত শত গ্রাম আগুনে জ্বালিয়ে দেন। গুলি করে হত্যা করেন অনেককে। ধর্ষণ করেন বহু রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীকে।
স্যাটেলাইট থেকে এইচআরডব্লিউর পাওয়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, গত নভেম্বর থেকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ নতুন করে অন্তত ৫৫টি গ্রাম গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এসব গ্রামের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসস্তূপ, এমনকি গাছগাছালি-খেতখামার ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পরিষ্কার করা হচ্ছে। সংস্থাটি বলেছে, মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া এসব গ্রামের অন্তত দুটি ইতিপূর্বে আগুনে পোড়ানোর পরও প্রায় অক্ষত ছিল।
সংস্থার এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, এসব গ্রামের অনেকগুলো ছিল রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিষ্ঠুরতার সাক্ষী। এগুলো সংরক্ষণ করা উচিত; যাতে জাতিসংঘ নিযুক্ত বিশেষজ্ঞরা দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে নির্যাতনের প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পান। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে থাকায় নৃশংসতার প্রমাণ মুছে যাওয়ার এবং যেসব রোহিঙ্গা সেখানে থাকতে, তাদের পক্ষে আইনগত দাবি উপস্থাপনের সুযোগ নষ্টের হুমকি তৈরি হয়েছে।
এসব বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্রের কোনো মন্তব্য জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা এপি জানায়, শুক্রবার এপির প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতেও দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রাখাইনে ২৮টি গ্রাম বুলডোজার দিয়ে সম্পূর্ণ সমান করে দিয়েছে।
এদিকে চলতি মাসের মাঝামাঝি মিয়ানমারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান স্মিটের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা কিছু ছবিতেও রাখাইনের আতঙ্কজনক পরিস্থিতি ফুটে ওঠে। সেসব ছবিতে এই রাজ্যের রোহিঙ্গা-অধ্যুষিত বিস্তৃত এলাকা মাটিতে মিশে থাকতে দেখা যায়।
রাখাইনে চলতি মাসের শুরুর দিকে সফরে যান কয়েকটি দেশের কূটনীতিকেরা। এরপর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেখানকার কিছু ছবি ছাড়া হয়। ওই সব ছবিতে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নৃশংসতা চালানোর যে দৃশ্য ফুটে উঠেছে, তাতে রাজ্যটি থেকে রোহিঙ্গাদের শুধু ঘরবাড়ি বা বসবাসের চিহ্নই নয়, মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য মুছে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য অনেক বছর ধরে কাজ করছেন বেসরকারি সংগঠন আরাকান প্রজেক্টের প্রধান ক্রিস লিউয়া। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা তাদের বাড়িঘর-গ্রাম জ্বলতে দেখে মর্মাহত। তাদের আশঙ্কা, আসছে বর্ষা মৌসুমে রাখাইনে নিজেদের অতীত বসবাসের চিহ্নটুকুও ধুয়েমুছে যাবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মনে এ ধারণা জন্মেছে যে সেনাবাহিনী ওই অঞ্চলে তাদের বসবাসের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও বসবাসের চিহ্ন মুছে ফেলার পদ্ধতিগত চেষ্টার অভিযোগ নতুন নয়। গত বছর জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা থেকেও এ অভিযোগ করা হয়েছিল। মানবাধিকারকর্মীরা বলেছেন, পদ্ধতিগতভাবে রোহিঙ্গাদের শত শত গ্রাম ও সম্পত্তি ধ্বংস করার ঘটনা কার্যকর অর্থেই তাদের পূর্বপুরুষদের ভিটামাটি থেকে উৎখাত করার পদক্ষেপ।
তবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রধান ও দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী উইন মায়াট আয় দাবি করেছেন, স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ ওই গ্রামগুলো আগের চেয়ে ভালো মানে উন্নীত করার পরিকল্পনার অংশ। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন গ্রাম তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি। রোহিঙ্গারা যখন ফিরে আসবে, তখন তারা অবিকল আগের বাসস্থানেই বা এর কাছাকাছি রকমের বাসস্থানে থাকতে পারবে।’
মিয়ানমারের সরকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের কোনো জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। দশকের পর দশক তারা নানা বঞ্চনা-নিপীড়নের শিকার।

সুত্রঃ প্রথম আলো 
তাইওয়ানে ভূমিকম্পে নিহত ৪, নিখোঁজ ১৪৫

তাইওয়ানে ভূমিকম্পে নিহত ৪, নিখোঁজ ১৪৫

ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে একটি ভবন। পুরোপুরি ধসে পড়া ঠেকাতে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স
 ভূমিকম্পে হেলে পড়েছে একটি ভবন। পুরোপুরি ধসে পড়া ঠেকাতে প্রাথমিক ব্যবস্থা নিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: রয়টার্স

তাইওয়ানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজ আছে ১৪৫ জন।

গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে তাইওয়ানের জনপ্রিয় পর্যটন শহর হুয়ালিয়েনের কাছে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার এ ভূকম্পন অনুভূত হয়।